Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৭-২০১৫

১৩২ শিশু খুনের বার্ষিকী, কাঁদছে পাকিস্তান

১৩২ শিশু খুনের বার্ষিকী, কাঁদছে পাকিস্তান

ইসলামাবাদ, ১৭ ডিসেম্বর- পেশওয়ার আর্মি পাবলিক স্কুলের অন্য দিনগুলোর মতোই স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বরের দিনটি। রসায়নের শিক্ষিকা আন্দালিব আফতাব একটি শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরীক্ষা শেষ করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ শুনতে পান চিৎকার, চেঁচামেচি। 

তার এক সহকর্মী চিৎকার করে বলছিলেন, স্কুলে বন্দুকধারীরা প্রবেশ করেছে। আন্দালিব সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সে আমাকে বলছিল, আমি যেন ফিরে যাই। আমাদের কেরানি শাহেদ শফিক আর নেই।’ 

তিনি স্টাফ রুমে ফিরে আসেন এবং সেখানে পান আরও তিন স্টাফকে। তারা বাইরে গোলাগুলি আর চিৎকার, চেঁচামেচির শব্দ শুনছিলেন।  

এমন সময় সেখানকার বারান্দায় প্রবেশ করে এক বন্দুকধারী। আর কোনো উপায় না থাকায় তারা চলে যান বাথরুমে এবং সেখানেই থাকতে হয় ৮ ঘণ্টা। এসময় তারা শুনতে পান বন্দুকধারীরা একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে ছোট ছোট স্কুলশিশুকে, যাদের অনেককেই পড়াশুনা শিখিয়েছেন আন্দালিব। গুলি করার আগে সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের কালেমা পড়ার জন্য বলছিল। 

৮ ঘণ্টা পরে সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করলে আন্দালিব প্রথমেই জানতে চান তার তিন সন্তানের কথা। তিনি জানতে পারেন, তার ১০ বছর এবং ১৩ বছর বয়সী দুই সন্তান বেঁচে থাকলেও, বেঁচে নেই ১৬ বছরের বড় সন্তান হুজায়ফা। পাঁচটি গুলি করা হয়েছিল তার দেহে। 

শুধু হুজায়ফা নয়, এরকম আরও ১৩২ শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে পাকিস্তান তালেবানদের (পিটিটি) সন্ত্রাসীরা। যাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১২ থেকে ১৬ এর মধ্যে। আর অল্প কয়েকজনের বয়স ১৮।

স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক আলতাফ হোসেন হারিয়েছেন তার ৬ বছরের কন্যা খাওলা বিবিকে। হামলায় নিহত মোট ১৫০ জনের মধ্যে খাওলাই ছিল কনিষ্ঠতম শিক্ষার্থী। ১৫ ডিসেম্বর স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বরটি ছিল তার নতুন স্কুলের প্রথম দিন। ঘটনার ঠিক চার মাস আগেই স্কুলটিতে চাকরি নিয়ে পরিবারসহ পেশওয়ারে এসেছিলেন আলতাফ। 

ঘটনার দায় স্বীকার করে তখন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল তালেবানরা। সেখানে তারা বলে, আমরা শুধু সেনা সদস্যদের সন্তানদের হত্যা করেছি। হত্যার আগে তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়েছে।

সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টালের মতে, ২০০৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন পাকিস্তানে ২০ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। গ্লোবাল কোয়ালিশন টু প্রোটেক্ট এডুকেশন ফ্রম অ্যাটাক এর তথ্য মতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে হামলার স্বীকার হয়েছে ৮৩৮টি স্কুল। 

তবে পেশওয়ারের হামলাটি পাকিস্তানের ইতিহাসে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। এ হামলার পর তখন পুরো বিশ্ব শোক প্রকাশ করেছিল। এক মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়ছিল খাইবার পাখতুনের স্কুলগুলো। অনেক অভিভাবকই দ্বিধায় ছিলেন, তাদের সন্তানদের আবার স্কুলে পাঠাবেন কি না।

ওই হামলায় নিহত ১৪ বছরের হাম্মাদের বাবা তাহির আনিজ মালিক জানান, তার ছেলেকে দু’টি গুলি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ওরা পশু, বন্য। ওরা আমাদের দেশের শত্রু। ওরা নিজেদের মুসলিম দাবি করে, অথচ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে।’ 

হাম্মাদের মা ইরাম কাঁদতে কাঁদতে জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তিনি তার ছেলেকে তিনটি চুমু দিয়ে দিয়েছেলেন। এটাই ছেলেকে শেষবারের মতো দেখা।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন তাকে চকলেট কিনে দিতাম, সে চকলেটের মোড়কগুলো ফেলতো না। নিজের কাছে রেখে দিতো। বলতো, মা, এগুলোতে তোমার ছোঁয়া লেগে আছে, আমি এগুলো নিজের কাছে রেখে দেবো!’

এভাবে শুধু হুজয়ফা, খাওলা কিংবা হাম্মাদ নয়, ১৩৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় অবশ্য পাকিস্তান খুব দ্রুত সন্ত্রাসীদের বিচার করে এবং চলতি বছর চার জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

১৬ ডিসেম্বর সেই ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তিতে পাকিস্তান শোকে মূহ্যমান। সন্তানহারা মায়েরা এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন। সন্তানদের স্মৃতি রোমন্থন করে একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদছেন।

সবার প্রত্যাশা, শুধু পাকিস্তান নয়, পৃথিবীর কোনো দেশেই যেন এমন হামলার ঘটনা আর না ঘটে। বিদ্যালয়ে বিদ্যার্জন করতে গিয়ে জঙ্গিদের হামলায় যেন আর কোনো শিক্ষার্থীকে লাশ হতে না হয়।

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে