Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৪-২০১২

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী দল: মওদুদ

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী দল: মওদুদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ১৯৫২ সাল থেকে দেখে আসছি দেশে যখন গণজোয়ার শুরু হয় তা বন্ধ করতে সরকার অনেক কৌশল অবলম্বন করে। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি’র প্রথম সারির নেতাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে কোনো সরকারই আন্দোলন দমন করতে পারেনি। এ সরকারও পারবে না।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ, ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক সচিব আ ন হ আখতার হোসেন, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন ও সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “গণতন্ত্র-মানবাধিকার আর আওয়ামী লীগ পরস্পর বিরোধী শব্দ। আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ৭২ সালে আওয়ামী লীগই সংবিধানে গণতন্ত্র এনেছিল তারাই এক বছর যেতে না যেতে সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সংবাদপত্র, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার সব কেড়ে নিয়েছিল। দলটি গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।”

তিনি বলেন, “এই সরকার সাগর-রুনি হত্যা, সৌদি কূটনৈতিক হত্যাসহ কোনো হত্যার একটি আসামিও গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ মির্জা ফখরুল, হান্নান শাহ, মির্জা আববাস, আমান উল্লাহ আমানদের বাসায় তল্লাশি চালাতে পারে। মানে পুলিশ বিরোধীদল দমনে খুব তৎপর।”

সুরঞ্জিত সেনগুগুপ্তকে মন্ত্রীত্ব ফিরিয়ে দেয়ায় সংবিধান লংঘন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এতে প্রমাণিত হয়েছে পুরো সরকারই এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।”

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে একেক মন্ত্রী একেক রকমের বক্তব্য দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আসলে এই সরকারের অভ্যন্তরে এমন একটি শক্তি আছে যার খবর মন্ত্রীরা জানেন না, শুধু প্রধানমন্ত্রীই জানেন।”  

বিএনপি নেতাদের আত্মগোপন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মওদুদ বলেন, “নেতারা পালিয়ে যাননি বরং গ্রেফতার এড়াতে সরে আছেন। কারণ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, কামরুজ্জামান রতনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রুহুল কবির রিজভীর পরিবারকে দু’দিন ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।  

তিনি বলেন, “সরকার যত ষড়যন্ত্রই করুক আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্ট খুললে নেতারা জামিন পাবেন।”

সভাপতির বক্তৃতায় মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমার বক্তব্যের সঙ্গে অনেকেই এমনকি বিএনপি নেতারাও একমত হবেন না।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে আমাদের আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদকে এক সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।”

বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের আত্মগোপনে থাকার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কাপুরুষের কোনো অধিকার থাকে না। পুলিশের ভয়ে যারা রাজনীতি করে তাদের কাপুরুষ বলা হয়। এই কাপুরুষদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”

তিনি বলেন, “হিলারি আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। আমাদের সামনে একটাই পথ তাহলো জনজোয়ার। জনজোয়ারের মাধ্যমে এই সরকারকে ভাসিয়ে দিতে হবে। এজন্য আত্মবলিদান করতে হবে। আমি যেকোনো সময় যেকোনোভবে আত্মবলিদান করতে রাজি আছি।”

তার এই বক্তব্যের জবাবে বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়েই বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, “মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমি সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু তার সুবিধা হলো তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নন। আমি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য। চাইলেও অনেক কিছু বলতে পারি না।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে