Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৬-২০১৫

স্বাধীনতার ৬৮ বছর পর বিদ্যুৎ

স্বাধীনতার ৬৮ বছর পর বিদ্যুৎ

লক্ষ্ণৌ, ০৬ ডিসেম্বর- পেছনে চলছে টেবিল ফ্যান আর সামনে সাদাকালো টেলিভিশন। বৈদ্যুতিক এই দুই উপাদানের ঠিক মধ্যিখানেই আছেন ৫৮ বছর বয়সী নানকু লোধি। জীবনে কোনোদিন ভাবতেই পারেননি যে তার জীবদ্দশাতেই তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ দেখে যেতে পারবেন। অথচ ভারতের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল লক্ষ্ণৌ থেকে নানকু লোধির গ্রামের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে প্রায় ৬৮ বছর, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অনেক উন্নতি হওয়া স্বত্ত্বেও শীতলখেরার মতো আরও অনেক গ্রাম আছে যেখানে আজও বিদ্যুৎ পৌছায়নি। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও কেন এই গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছায়নি তার উত্তর দেবার মতো কেউ নেই, কারণ নগরকেন্দ্রিক এই সভ্যতায় সকল সরকারই নগরের উন্নয়ন ও পরিবর্ধনে ব্যস্ত, তাদের কাছে গ্রাম এখনও প্রদীপের নিচের অন্ধকার স্থানের মতো।

নানকু লোধির ঘরে যে সাদাকালো টেলিভিশনটি, সেটা অনেক বছর আগে তার ছেলে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু গ্রামে কোনো বিদ্যুৎ না থাকায় ময়লা পুরাতন কাপড়ের নিচেই হয়েছিল টেলিভিশনটির জায়গা। কিন্তু গত অক্টোবর মাসে শীতলখেরা গ্রামে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। গেল শুক্রবারই দিল্লিতে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন যে, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর আগাগোড়াই। আর সেই প্রতিশ্রুতি হিসেবে মোদির ক্ষমতার প্রথম একশ দিনেই তিন হাজার বিদ্যুতহীন গ্রামের মধ্যে ১৯০০ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

শীতলখেরা গ্রামের অধিবাসীদের দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের জন্য প্রতীক্ষা করে ছিল। প্রতি নির্বাচনের আগেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা গ্রামে বিদ্যুৎ দেবার কথা বললেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আর তাদের দেখা যায় না। তাই গত নির্বাচনে এই গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার হারও অনেক কম ছিল। সাবেক কংগ্রেস সরকারের আমলে লক্ষ্ণৌ অঞ্চলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হলেও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে কোনো কাজই হয়নি। পার্শ্ববর্তী ওই গ্রামগুলোতে সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা খুবই অপ্রতুল বিধায় সেখানে কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার হারও অনেক কম। তাইতো গ্রামবাসী শান্তি দেবীর কাছে গ্রামে বিদ্যুৎ আসা মানে তার সন্তান রাত করে পড়তে পারা।

অপর এক বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী নানকাই। তার মতে, এখন থেকে শীতলখেরা গ্রামে হারিকেন বা লণ্ঠনের বাতির আর প্রয়োজন হবে না। এখন তার নাতি-নাতনিরা খুব সহজেই সন্ধ্যের পর পড়তে পারবে এবং অনেক বড় হবে তারা। গ্রামের স্কুল শিক্ষক প্রদীপ কুমার মনে করেন, গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার জন্য বাড়তি কিছু সময় পাবে। কারণ এতদিন পর্যন্ত সন্ধ্যের পর পড়ালেখা করার কোনো সুযোগই ছিল না শিক্ষার্থীদের, তাই তাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে লেখাপড়া সব শেষ করতে হতো। শুধু যে লেখাপড়ার সুযোগই হয়েছে তা নয়, এই গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রামের ছেলেরা ভিন্ন গ্রাম বা শহরের মেয়েদের বিয়েও করতে পারছি না। কারণ যে গ্রামে বিদ্যুৎই নেই, সেই গ্রামে মেয়ের বাবারা কেন মেয়েকে বিয়ে দেবে। এবিষয়ে কিছুটা আভাস আমরা গৃহিনী রুবির কথায় জানতে পারি। প্রায় দশ বছরে আগে তিনি বিয়েসূত্রে এই গ্রামে আসেন, আর সঙ্গে নিয়ে আসেন বাপের বাড়ি থেকে দেয়া ফ্রিজ। কিন্তু এই গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় সেই ফ্রিজ এতদিন ব্যবহার করা যায়নি। এখন বিদ্যুৎ আসায় সেই ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা পানি থেকে শুরু করে অনেককিছুই খেতে পারবে তারা।

নিজের মা-দিদিমাকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখতে অভ্যস্ত শিক্ষার্থী রবি রাজপুত। গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় আজ সেও অনেক খুশি কারণ এখন আর তার মাকে কষ্ট করে তীব্র গরমের মধ্যে হাতপাখা চালাতে হবে না। রবির মতে, এখনও অনেক গ্রাম আছে তাদেরই আশেপাশে যেখানে আজও বিদ্যুৎ পৌছায়নি। কিন্তু সেই গ্রামগুলোতে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পৌছাতে পারে তার কোনো ঠিক নেই। তবুও শীতলখেরা গ্রাম পার্শ্ববতী গ্রামগুলো আশা করে আছে আগামী বিদ্যুতের।

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে