Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (103 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০১-২০১২

কোরিয়াতে বৈশাখী মেলা উদযাপিত

মনির হোসেন পাটোয়ারী


কোরিয়াতে বৈশাখী মেলা উদযাপিত
সিউল, ১ মে- পহেলা বৈশাখ মানে হলো বাংলা সংস্কৃতিক ঐত্যিহের ধারক। চৈত্রের খরতাপ পেরিয়ে বৈশাখ শুরু হয় ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সকল বাঙ্গালীর মনে অনাবিল আনন্দ। আর আনন্দকে সামনে রেখে রমনার বটমূলে থেকে সারা বাংলাদেশে যেমন এর প্রভাব্ পড়ে। তেমনি দূর প্রবাসেও সকল বাঙ্গালীর যে যার মতো করে নতুন বছরকে বরন করে নেন। তেমনি দক্ষিন কোরিয়া ৪র্থ বারের মত পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হলো গত ২২শে এপ্রিল রবিবার হাওয়াড়াং ন্যাশনাল পার্ক আনসান সিটিতে। প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়া ও ঝড়ো বৃষ্টি ধমিয়ে রাখতে পারেনি কোরিয়া প্রবাসী বাঙ্গালীদের।

অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য প্রবাসী বাঙ্গালীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে বর্ষবরনের উৎসব। বর্ষবরণ কে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম ও আনসান রোটারী ক্লাব প্রেসিডেন্ট আন চউল হোন। বৈশাখী উৎসব এবং বাংলাদেশ ফেষ্টিভাল- ২০১২ সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মানব্যর রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম, আন চউল হোন প্রেসিডেন্ট, আনসান রোটারী ক্লাব, কিম জুংহান চেয়ারম্যান ফরেন এফেয়ার্স এন্ড ট্রেড্-স অব ন্যাশনাল এসেম্বলী ও কোরিয়া-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ ফোরাম, কিম ছল্ মিন মেয়র আনসান সিটি, ডেভিড কিম কনসাল জেনারেল বাংলাদেশ দূতাবাস, সৈয়দ নাসির এরশাদ প্রথম সচিব বাংলাদেশ দূতাবাস,সাইফুল ইসলাম সভাপতি বৈশাখী মেলা এবং বাংলাদেশ ফেষ্টিবল ২০১২ উদযাপন পরিষদ। অনুষ্ঠানটিকে প্রানবন্ত করে দর্শকদের মাঝে উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ থেকে আগত মডেল রিয়া।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে গান করেন কোরিয়া অবস্থানরত প্রবাসী বৈশাখী শিল্পী গোষ্ঠির মোস্তফা শানু, মিলা রহমান, এবং কোরিয়ান গানের বিখ্যাত বাঙ্গালী গায়ক খান। মধ্যাহ্ন ভোজে পান্তা ইলিশ খাওয়া শেষে শুরু হয় বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী ক্লোজ আপ তারকা বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোক গানের শিল্পী দিনা এবং বান্ড তারকা মিলার গানে দর্শক আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে। জমকালো গানের মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে আগত নৃত্য শিল্পী মেীরি ও সারিকা নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটি দর্শকদের কাছে স্বরনীয় করে রাখতে এম এন ইসলামের সম্পাদনায় একটি বাংলা ম্যাগাজিন বের করা হয়। প্রায় হাজার দুয়েক প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সিটি থেকে এসে অনুষ্ঠানটি মিনি বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছে আনসানের পার্কটি যে বাংলাদেশের একটি ভূ-খন্ড। অনুষ্ঠানটি সহযোগীতায় ছিলেন কোরিয়ার কিছু সংস্থা আনসান রোটারী ক্লাব, কোরিয়ান এক্্রচেঞ্জ ব্যাংক, ইয়ং ইয়ং গ্রুপ, মোনালিসা গ্র“প, বিউটিফুল ইন্সুরেন্স, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক, পূর্বাচল রিজেন্ট টাউন।
বাংলাদেশী হালাল খাদ্য ব্যবসায়ীরা বাঙ্গালী রসনা বিলাস খাবারের স্টল বসায়। স্টলে মূল খাবারের আকর্ষন ছিল পান্তা ভাত-ইলিশ মাছ। অন্যান্য স্টল গুলোতে ছিল পেয়াজু, সিঙ্গারা, চমুচা, ঝালমুড়ী সহ রকমারী খাবারের সমাহার। পহেলা বৈশাখ উদযাপনে সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশী কমিউনিটি ও ব্যবসায়ী কমিউনিটি এবং মিডিয়া পাটনার ছিলেন হেড অফ প্রোগ্রাম শামীম শাহেদের নেতৃত্বে বাংলা ভিশন। মেলা শেষে আর্কষনীয় র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বৃষ্টিতে ভিজেও বাঙ্গালী সংস্কৃতির এই সব অনুষ্ঠান আয়োজনে যাদের সহযোগীতা ছিল তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও ভূয়সী প্রসংশা করেন।

দক্ষিন কোরিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে