Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-৩০-২০১২

হরতালে কাবু দেশ

হরতালে কাবু দেশ
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে ডাকা ২ দিনের হরতালের প্রথম দিনই কাবু সারা দেশ। মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যাহত কল-কারখানার উৎপাদন। বারবার পেছানো হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা। হাসপাতালগুলোতে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। রাজপথের সহিংসতায় ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
ঝরে পড়ছে একের পর এক তাজা প্রাণ। সংঘর্ষ ও হামলায় বাড়ছে আহতের সংখ্যা। ব্যাপক বোমা বিস্ফোরণ ও গ্রেপ্তারে জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক, আশঙ্কা। সৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। পুলিশি নিরাপত্তার নামেও ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। দিন যত যাচ্ছে ততই সহিংস হয়ে উঠছে পরিবেশ। রাজপথে বাড়ছে মিছিল, সহিংসতা আর গ্রেপ্তারের ঘটনা। নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে ১৮ দলের দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনের হরতাল ঝটিকা মিছিল, বাস-মাইক্রোবাসে চোরাগোপ্তা হামলা, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, ধরপাকড় ও দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। আজ সকাল ৬টায় শুরু হবে দ্বিতীয় দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। দিনশেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি। হরতালে রাজধানীর সচিবালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় ২৫টি বোমা বিস্ফোরণ ও ২২টি গাড়ি ভাঙচুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাত ৯টায় রাজধানীর পুরাতন বিমান বন্দর রোডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে হরতাল সমর্থনকারীরা। এর আগে রাত সাড়ে ৮টায়  নটর ডেম কলেজ  ও গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে আরও দুটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে পিকেটাররা। হরতাল চলাকালে রাজধানীতে ১৮ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ সারাদেশে ৪৫৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। পুলিশ ও সরকারদলীয় কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছে ৫০০। হরতালের সমর্থনে শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি’র মিছিলে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে গুলি চালানো হলে ডা. জাহাঙ্গীর আলম খোকা নামে একজন নিহত হয়েছেন। এদিকে হরতালে রাজধানীর রাজপথ ছিল পুরোপুরি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে। সেই সঙ্গে নগরীর অলিগলিতে র‌্যাব-পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারপরও মূল সড়কগুলোতে টহল দেয় রায়ট কার। মোতায়েন করা হয় জলকামান। নগরীর গলির মোড়ে মোড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ, আনসার ও র‌্যাবের সতর্ক পাহারা। টহল দেয় ১০ ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাজধানীর রাজপথে টহল দেয় বিজিবিও। এছাড়া, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মহড়া। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি দেখা যায় সরকারি দলের কর্মীদেরও। লাল প্রাইভেটকারে চড়ে ঘুরে ঘুরে এসব কর্মীর দেখভাল করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এভাবে হরতালবিরোধী অবস্থান নেয়া সরকারি দলের কর্মীরা নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সহায়ক শক্তি হিসেবে দাবি করলেও ডিএমপি’র পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেয়া হয়। বলা হয়, পুলিশ সংগঠিত বাহিনী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের কোন রাজনৈতিক দলের কর্মীর প্রয়োজন নেই। পুলিশের সঙ্গে যারা আছেন তারা স্থানীয় জনতা। এ হরতাল নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের পরস্পরবিরোধী কঠোর অবস্থান রাজপথে ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে ব্যাহত হয়েছে উচ্চ আদালতের কার্যক্রমও। এমনকি হরতালের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি হয়নি হরতালের কারণেই। মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমও ছিল স্থগিত। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে দূরপাল্লার যাত্রীদের। হরতালে যানবাহনশূন্য হয়ে পড়ে রাজধানী। দূরপাল্লার যানবাহনগুলো ছিল টার্মিনাল আর ডিপোবন্দি। ব্যাপক পুলিশি তৎপরতার কারণে রাজপথ দখলে নিতে না পারলেও রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে দেশের বেশির ভাগ জেলায় হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। হরতালে নগরীর বেশির ভাগ দোকানপাট খোলেনি। এদিকে সকাল থেকেই বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। হরতালের বিরুদ্ধে রাস্তায় অবস্থান নেন সরকার দলীয় নেতারা। দিনের প্রথম ভাগে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হরতালবিরোধী ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগ। রাজধানীর ব্যস্ততম পয়েন্টগুলো ছিল ফাঁকা।
অবরুদ্ধ নয়াপল্টন: ভোর থেকেই পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখে গোটা নয়াপল্টন। হরতালের শুরুতেই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি কিছুদূর এগোতেই পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আটক করা হয় রিজভী ও বাবুলসহ ১০ নেতাকর্মীকে। পরমুহূর্তেই সেখানে বিস্ফোরিত হয় পরপর তিনটি হাতবোমা। ১০ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে কার্যালয়ের গেটে অবস্থান নেন তিনি। রিজভী আহমেদকে আটকের পর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে তারা নয়াপল্টনকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। হরতাল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ। মিছিল ন্যূনতম অধিকার কিন্তু বিএনপিকে সে অধিকার পালন করতে না দিয়ে সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। তিনি বলেন, দেশকে একটি কারাগার ও বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে সরকার। তবে আমরা ইলিয়াস আলীকে জীবিত ফেরত চাই। এই দাবির সঙ্গে দেশী-বিদেশী সকলেই একমত। দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এদিকে রিজভী আহমেদকে ছেড়ে দেয়ার পর বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে অলস সময় কাটান নেতারা।
রাজধানীতে ২৫টি বোমা বিস্ফোরণ, ২২টি গাড়ি ভাঙচুর: ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দফা হরতালের প্রথম দিনে রাজধানীতে ২৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ২২টি গাড়ি। হরতাল সমর্থনকারীরা সকাল ৯টায় মহাখালীর শাহীনবাগে একটি মোটরসাইকেল ও ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করে। একই সময়ে পুরান ঢাকার নবাবপুর বড় মসজিদের সামনে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল ১০টা দিকে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে দু’টি হাতবোমা ও সাড়ে ১১টায় মালিবাগ বায়তুল আজীম শহীদ জামে মসজিদের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পাশেই আরেকটি ককটেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় হরতাল সমর্থনে পিকেটাররা একটি বাস ভাঙচুর করে। সে সময় মৌচাক ও মগবাজারের মাঝামাঝি সিদ্ধেশ্বরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ৫টি ট্রাক ও একটি কাভার্ড ভ্যান ভাঙচুর করেছে পিকেটাররা। এছাড়া, সায়েদাবাদ এলাকায় ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে পুরান ঢাকার আদালতের সামনে পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ককটেল ছোড়ার অভিযোগে পুলিশ পারভেজ নামে এক হাসপাতাল কর্মীকে আটক করে। আটক অবস্থায় তাকে ব্যাপক লাঠিপেটা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। শাহজাহানপুরে হরতালের সমর্থনে পিকেটাররা একটি লেগুনা ভাঙচুর করে। সবুজবাগে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ভাঙচুর চালায় তিনটি বাসে। বিকালে সচিবালয়ে ২টি ও মিরপুর ১ নম্বরে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। বিকাল ৪টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে হরতাল সমর্থনকারীরা। পুলিশ মিছিলটি ধাওয়া করলে পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ নতুন রাস্তায় বাহাদুর শাহ পরিবহনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল:  ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আহূত দ্বিতীয় দফার হরতালে বেড়েছে ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা। সকালে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিরোধীদলীয় এমপিরা। সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে আইনজীবীরা। এছাড়া, হরতালের সমর্থনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কাঁটাবন মোড়ে, মহাখালীতে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল, মিরপুরে বাঙলা কলেজ ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে, পুরান ঢাকার নবাবপুরে যুবদল, শাহজাহানপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল ঝটিকা মিছিল বের করে। এছাড়া, রামপুরা ও মিরপুরে মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী।
লেবার পার্টি সভাপতি ডা. ইরান গ্রেপ্তার: বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করা হয়। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের প্রতিবাদে ডাকা বিএনপি’র হরতালে নবগঠিত ১৮ দলীয় জোটের সমর্থন রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে তিনি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে আটক করে।
আন্দোলন কঠোর হবে -ফখরুল: আজকের মধ্যে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়া না হলে আন্দোলন কঠোর হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হরতালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে বিকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইলিয়াস আলীকে ফেরত না দিয়ে সরকার ষড়যন্ত্রের দাবায় নতুন চাল চালার চেষ্টা করছে। ইলিয়াস আলীকে সরকারের এজেন্সির লোকেরাই নিয়ে গেছে। তাই অবিলম্বে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার কোন ঘটনারই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি। এতে প্রতীয়মান হয়, গুম ও গুপ্তহত্যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে। এ জন্য সরকারই মূলত দায়ী। ইলিয়াস আলীর ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনাও করছি। মির্জা আলমগীর বলেন, আজ হরতাল চলাকালে ১৮ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ সারা দেশে ৪৫৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার ও ৫১২ জনকে আহত করেছে। টাঙ্গাইলে দলের ১০ নেতাকর্মীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা কাসেম জেহাদীর নেতৃত্বে গুলি করে বিএনপি নেতা ডা. জাহাঙ্গীর আলম খোকাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অবিলম্বে কাসেম জেহাদীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ সমাবেশ: বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানে ডাকা দ্বিতীয় দফা হরতালে মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির। গতকাল রাজধানীর চকবাজার রামপুরা, কাফরুল, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, বেইলী রোড়, সোয়ারিঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা। দাবি জানিয়েছে, রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ ২ শিবির নেতাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার। অন্যথায় লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়েছেন কারা। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দলের ৩ কর্মীকে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে কয়েকটি জেলা শহরেও গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের ১০-১২ নেতাকর্মী। এর আগে গত সপ্তাহে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র ডাকা হরতালে জামায়াতের অনুপস্থিতি বিভিন্ন আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ২৫শে এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর মাঠে নামে জামায়াত-শিবির। সেদিনের বৈঠকে হরতালে মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেন শরিক দলের অন্য নেতারাও। ইতিপূর্বে  হরতাল কর্মসূচি ঘোষণায় এবং রাজপথে আন্দোলনে সমন্বয় না থাকায় জামায়াত খানিকটা ক্ষুব্ধ হয় বিএনপি’র ওপর এবং সেই অভিমানে নিষ্ক্রিয় থাকে এমন তথ্য জানান দলের দায়িত্বশীল এক নেতা।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে