Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৬-২০১৫

‘বাবা স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমাকে মাঠে নিয়ে যেতো’

‘বাবা স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমাকে মাঠে নিয়ে যেতো’

ঢাকা, ১৬ নভেম্বর- ক্রিকেট মহল তাকে চিনতো আইসিসি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের কন্যা হিসেবে; কিন্তু বিপিএল দিয়েই সংগঠক হিসেবে নিজেকে চেনাতে শুরু করেছেন নাফিসা কামাল। এবারের বিপিএলে নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান হিসেবে তার সক্রিয়তা নজর কাড়ার মতো।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে প্রথম প্রজন্মের নারী সংগঠক হিসেবে কথা বলেছেন তিনি। নিজের ক্রিকেটের সাথে জড়ানো, নারী সংগঠক হিসেবে প্রতিশ্রুতি ও বিপিএল নিয়ে ভাবনার কথা বলেছেন একান্ত এই সাক্ষাত্কারে। নাফিসা কামালের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—

ক্রিকেটে এলেন কী করে?
এটা আমার জন্য খুব ন্যাচারাল একটা চয়েস ছিলো। সব বাবা-মা চান, তারা যে কাজটা শুরু করেছিলেন, তাদের সন্তান যেনো সেটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমার বাবার যত পরিশ্রম, যত কষ্ট, তার বেশিরভাগটাই ক্রিকেট নিয়ে। ফলে ক্রিকেটে আমাকে আসতেই হতো।

আপনার বাবার মতো ক্রীড়া সংগঠকের কন্যা তো নিশ্চয়ই দেশে আরো আছেন। তারা কেউ আসেননি ক্রিকেটে। তার মানে, আপনার ব্যক্তিগত আগ্রহটাও একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ, সেটা আমিও ভাবি। অবশ্যই ব্যক্তিগত একটা ভালোবাসার ব্যাপার তো আছেই। আসলে ছোটবেলা থেকে আমি অন্তত ক্রিকেটের একটা অংশ হিসেবেই বড় হয়ে উঠেছি। এই কৃতিত্বটাও বাবার। উনি আমাদের ভেতরে এই ভালোবাসাটা ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন।

আপনাদের শৈশবে ক্রিকেটের বড় ভূমিকা ছিলো...
শুধু আমার জীবনে নয়, আমাদের পরিবারেই ক্রিকেট অনেক বড় একটা রোল প্লে করে। আমি তো প্রায়ই মজা করে বলি, বাবার তিনটে সন্তান। আমরা দুই বোন আর ক্রিকেট;
ক্রিকেট মনে হয় বড় সন্তান! (হাসি)

আপনাদের শৈশবে ক্রিকেটের বড় ভূমিকা ছিলো...
শুধু আমার জীবনে নয়, আমাদের পরিবারেই ক্রিকেট অনেক বড় একটা রোল প্লে করে। আমি তো প্রায়ই মজা করে বলি, বাবার তিনটে সন্তান। আমরা দুই বোন আর ক্রিকেট;
ক্রিকেট মনে হয় বড় সন্তান! (হাসি)

বাবার কাছ থেকে ক্রিকেট দেখায় উত্সাহ পেতেন?
আমরা ছোটবেলা থেকে দেখেছি, ক্রিকেট সবার আগে। দেশের কোনো খেলা থাকলে, গুরুত্বপূর্ণ কোনো খেলা থাকলে, আমরা কোনো দাওয়াতেও বেড়াতে যেতে পারিনি। কারণ, বাবা খেলা দেখবেন। পরীক্ষার আগের রাতে বাবার সাথে বসে আমরা সবাই খেলা দেখছি, এমন অনেক হয়েছে। বাবা স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমাকে মাঠে নিয়ে যেতো।

আবাহনীর খেলা দেখতে যেতেন না?
যেতাম না! বাবা বিসিবিতে এসেছেন তো অনেক পরে। আগে তো আবাহনীর কর্মকর্তা। আবাহনীর ম্যাচ তো একটাও মিস করতাম না। আমাদের পিকনিক বলে কিছু ছিলো না। আবাহনীর খেলাই ছিলো পিকনিক। বাবার কেন যেন মনে হতো, আবাহনীর খেলার দিন বাসায় রান্না হলে আবাহনী হেরে যাবে। তাই আমরা এদিন কখনো বাসায় রান্না হতে দেখিনি। মাঠে গিয়ে পিকনিকের মতো করে বাইরের খাবার খেতাম।

শুনে মনে হচ্ছে, সংগঠক হিসেবে আপনার এই পর্যন্ত আসাটা খুব ফুল বিছানো রাস্তায় ছিলো?
না, বেড অব রোজেস ছিলো না এই পর্যন্ত আসাটা। লোটাস কামালের মেয়ে হিসেবে আমি অনেক সুবিধা পেয়েছি। পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতাও আমাকে পার করতে হচ্ছে বাবার নামের জন্য। সুনির্দিষ্ট কিছু বলছি না। এটুকু বলতে পারি, বাবার কর্মকাণ্ডের তো কিছু ক্রিটিক ছিলেন; সেটা দীর্ঘদিন কাজ করলে যে কারো থাকবে। আমি বাই ডিফল্ট ওই সমালোচকদের আমার জন্যও পেয়ে গেছি।

নারী সংগঠক হিসেবে কী কোনো বিশেষ বাধা পার করতে হচ্ছে?
নাহ। এটা আমাকে অবশ্যই মানতে হবে যে, ক্রিকেট মহলে আমি একজন নারী হিসেবে কোনো বাধা পাইনি। বরং আমাকে সবাই দারুণ সহায়তা করছেন। সংগঠকদের কাছ থেকে, ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দারুণ শ্রদ্ধা পাচ্ছি। তবে হ্যাঁ, অনুভব করতে পারি যে, আমি এখানে একা। বিপিএল লটারির দিনটার কথা খুব মনে পড়ে। হলরুমে হঠাত্ খেয়াল করলাম, তিন-চারশ মানুষ বসে আছি আমরা; এর মধ্যে মেয়ে কেবল একা আমি।

একজন নারী সংগঠক হিসেবে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে কিছু করার একটা দায় কী থাকে আপনার?
অবশ্যই। আমার সামনে প্রস্তাবও ছিলো বিসিবির উইমেনস উইংয়ে কাজ করার; কিন্তু আমি আগে ক্লাব পর্যায়ে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করে আসতে চাই। নিজেকে প্রস্তুত করে আসতে চাই।

আপনি নিজে তো কুমিল্লায় সেভাবে সময় কাটাননি; কিন্তু আমরা দেখলাম, কুমিল্লা নামটা পাওয়ার জন্যও আপনি লড়াই করছেন। কুমিল্লার প্রতি টানটা কিভাবে এলো?
দেখুন, আমি বিভিন্নভাবে যেটা বলেছি, ক্রিকেটে আমার কর্মকাণ্ড হলো মূলত বাবার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করা। আমার বাবা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক লড়াই করেছেন। তার এই লড়াইয়ের পুরো গল্প জুড়েই আছে কুমিল্লা। বাবা আমাদের কখনো কুমিল্লা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেননি। আমরা কিন্তু কুমিল্লা নাম পাওয়ার জন্য কম লড়াই করিনি এবার। পরে যখন নাম ঠিক করা হবে, আমি ভেবেছি, বাবার কলেজটাকেও জড়িয়ে রাখা উচিত। বাবার জীবনে ভিক্টোরিয়া কলেজ অনেক বড় একটা ব্যাপার।

দলের কথা বলুন। কেমন হলো আপনার দল?
আমার হিসেবে তো খুব ভালো দল হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, অধিনায়ক হিসেবে আমরা মাশরাফিকে পেয়েছি। সে সারা দেশেরই অনেক বড় আইকন। কুমিল্লার মানুষ তার জন্য পাগল। আমরাও মাশরাফির প্রবল ভক্ত। তাই অধিনায়ক হিসেবে তাকে পাওয়াটা বড় ব্যাপার ছিলো। এ ছাড়া লিটন, রাব্বি, ইমরুলসহ দেশিরা সবাই খুব ভালো। বিদেশি রিক্রুটমেন্ট দারুণ হয়েছে। আমি খুব আশাবাদী।

একটা ব্যাপার থাকে যে, মালিকরা দলের ব্যাপারে ঠিক কতোটা হস্তক্ষেপ করবেন। আপনি এই মার্জিনটা কীভাবে ঠিক করতে চান?
দেখুন, মালিক হিসেবে কথা বলতে ইচ্ছে করে। মনে তো হয়, খেলা চলার সময়ও বলি, এটা নয়, ওটা করো। তবে আমি আমার ভূমিকা জানি। আমি যা কথা বলার ম্যানেজমেন্টের সাথে বলবো। খেলোয়াড়রা আমাকে দেখবে, মাঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের একজন সমর্থক হিসেবে। মাঠে চিত্কার করবো, হারলে মন খারাপ করবো, জিতলে এনজয় করবো, খারাপ করলে গালি দেবো। তবে সেটা মালিক হিসেবে নয়; একজন ভিক্টোরিয়ান হিসেবে।

দল গঠনের শুরু থেকেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার কথা বলেছেন। এই চিন্তা কিভাবে এলো?
আমি যখনই দল শুরু করেছি, তখনই বলেছি, কুমিল্লার প্রথম চেকটা ইস্যু হবে বাচ্চাদের জন্য। সেটাই করেছি। জাগো ফাউন্ডেশনের বাচ্চাদের জন্য কিছু করা হয়েছে। আমরা ওদের খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে, আরো ভালো জীবনের ব্যবস্থা করতে পাশে থাকতে চাই।

কুমিল্লার ক্রিকেটের জন্য কি কিছু করার ইচ্ছা আছে?
অবশ্যই। বাবা কুমিল্লায় ছোট পরিসরে হলেও একটা অ্যাকাডেমি শুরু করেছেন। সেটাকে বড় করতে চাই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যানারে। আমি চাই জাতীয় ক্রিকেটাররা এসব কাজে যুক্ত থাকবেন।

ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, ক্রিকেট; এতো কিছু সমন্বয় করেন কিভাবে?
এখানে আমার পরিবারকে বড় ধন্যবাদ দিতে হবে। আমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির সবাইকে ধন্যবাদ দিতে হবে। ওনারা আমার স্বপ্নটাকে গুরুত্ব দেন। আমার স্বামী আমাকে এই স্পেসটা খুব আনন্দের সাথে দেয়।

ব্যবসা, নাকি ক্রিকেট? কোনটা কঠিন?
ক্রিকেট কঠিন। তবে ভালোবাসাটাও এখানে বেশি।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে