Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (43 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৩-২০১৫

গাছে গাছে গাছিরা

রেজাউল করিম মানিক


গাছে গাছে গাছিরা

লালমনিরহাট, ০৩ নভেম্বর- প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের দিনের অন্যতম আকর্ষণ খেজুর গুড়ের তৈরি পিঠা-পায়েস। অনেক আগে অবিভক্ত ভারতে খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল লালমনিরহাট। দিন বদলের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও বদলায়নি  খেজুর রস সংগ্রহ আর গুড়-পাটালি তৈরির পদ্ধতি। তাই তো, শীতের আগমনী বার্তা পেয়েই গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের।

রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা প্রথমেই খেজুর গাছ কেটে পরিষ্কার করেন। এরপর শুরু হয় রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। প্রচলিত নিয়মে মাটির ভাঁড়ে (কলসি) রাতভর রস সংগ্রহ করা হয়। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই তা আবার গাছ থেকে নামিয়ে আনে তারা। পরে ওই রস মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের তৈরি কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে তৈরি করে গুড়-পাটালি।

লালমনিরহাটসহ রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে গুড়-পাটালি তৈরির সেই প্রক্রিয়া। গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। অল্পদিনের মধ্যেই বাজারে পাওয়া যাবে নতুন খেজুর গুড়। গ্রামে গ্রামে পড়ে যাবে খেজুরের রস দিয়ে পিঠা, পায়েসসহ নানা মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম।

শীতকাল গ্রামবাংলায় নিয়ে আসে নানা রকম সুস্বাদু খাবারের সমাহার। বিভিন্ন রকমের খাবারের মধ্যে শীতের প্রধান অনুষঙ্গ সুস্বাদু খেঁজুরের রস। সে রসে তৈরি পাটালি গুড় আর শীতের রকমারী পিঠাপুলি সবার মন ভরিয়ে দেয়। লোভনীয় খেঁজুর রসের যোগান দিতে তাই এখন থেকেই ব্যস্ত গাছিরা। চলছে খেঁজুর গাছ চাঁছা-ছেঁলার কাজ। লালমনিরহাটের ৩৪টি গ্রামে রয়েছে সহস্রাধিক খেজুর গাছ। গ্রামে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দল বেঁধে গাছিরা খেজুর গাছ পরিষ্কারের কাজ করছে।

মওসুমের শুরুতেই বাজারে পাটালি গুড় ও খেঁজুর রস ওঠে গাছিদের আগাম গাছ পরিষ্কার করার কারণে। ভেলাগুড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কোমরে মোটা রশি বেঁধে ঝুলে ঝুলে খেঁজুর গাছ ঝুড়ে মাথায় চাঁছ দিচ্ছে গাছিরা। এ গ্রামের পেশাদার গাছিদের পাশাপাশি গৃহস্থরাও বসে নেই, নিজের গাছ তৈরি করছেন তারা।

কথা হয় কমলাবাড়ি গ্রামের আমিনুল নামের এক গাছির সাথে। তিনি জানান, কার্তিক মাসের শুরু থেকেই খেঁজুর গাছের পরিচর্যা চলছে। গাছের বাইগা (ডাল) ঝোড়া, গাছের মাথা ছেনি অথবা ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কয়েক দফা চাঁছ দেয়ার কাজ চলছে। রস জ্বালানো ভাটি, জ্বালানি ও রস সংগ্রহের কাজ শেষের দিকে।

মনসুর মিয়া ও বেলাল নামে দুই গাছি বলেন, কমলাবাড়ি গ্রামের খেঁজুর রস ও পাটালির সুনাম আছে। তাই আমরা আগাম কাজ করি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার গুড় বিক্রি হয়।

জেলার গ্রামীণ মেঠোপথের ধারেই রয়েছে সারিসারি খেঁজুর গাছ। তাই কার্তিকের বিকেলে গ্রামের যে পথেই হাঁটা যায়, চোখে পড়বে খেঁজুর গাছ ঝোড়ার অপূর্ব দৃশ্য। আর কিছুদিন পরেই আসবে অগ্রহায়ণ। এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই গ্রামের ঘরে ঘরে খেঁজুর রস আর গুড় দিয়ে নতুন আমন ধানের পিঠাপুলি ও পায়েশ তৈরির ধুম পড়বে। আসন্ন নবান্নতেও এই খেঁজুর গুড় ও রস নতুন মাত্রা আনবে গ্রামের গৃহস্থদের রসুইখানায়।

লালমনিরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে