Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৪-২০১৫

যুদ্ধ বাণিজ্যের রাজনীতি: নতুন অস্ত্রের পরীক্ষাগার হচ্ছে সিরিয়া?

মেহেদী হাসান


যুদ্ধ বাণিজ্যের রাজনীতি: নতুন অস্ত্রের পরীক্ষাগার হচ্ছে সিরিয়া?

লন্ডন, ১৩ অক্টোবর- পূর্ব ইউরোপ এবং সিরিয়াকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে রুশ-মার্কিন টানাপোড়েন।  সম্প্রতি সিরিয়ায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বিমান হামলার পর ন্যাটোর সেক্রেটাটি জেনারেল জেনস স্টোলেনবার্গ রাশিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হামলায় এমনটি মনে হচ্ছে যে রাশিয়া সকলের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এদিকে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন’ ঠেকাতে ব্যাল্টিকে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এই যুদ্ধ বাস্তবতায় কার লাভ কার ক্ষতি? এই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের ফলাফল যুদ্ধক্ষেত্রে যাই হোক না কেন, এর বাণিজ্যিকতার দিকটা তাতে আড়াল করা যায় না।  নতুন নতুন অস্ত্রের ব্যবহারে একদিকে সিরিয়া যেমন রূপান্তরিত হচ্ছে নতুন অস্ত্রের পরীক্ষাগারে, অন্যদিকে  তৈরি হচ্ছে নতুন অস্ত্র বিক্রির বাজার। এসব নিয়েই দ্য কনভেনশন নামের এক ওয়েবে একটি নিবন্ধ লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ইউনিভার্সিটর ই্যালেকট্রিক্যাল এন্ড ই্যলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক ডেভিড স্টুপেলস। অনেক বছর ধরে সেনাবাহিনীর রাডার এবং রয়্যাল সিস্টেমের উপর গবেষণা করেছেন  ডেভিড স্টুপেলস। স্যাটেলাইটের উন্নয়নে কাজ করেছেন তিন বছর।  বর্তমানে তিনি মাল্টি সেন্সর সারভাইলেন্সের উপর কাজ করে আসছেন।

যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় বেড়েছে রাশিয়ার সৈন্যদের উপস্থিতি। সিরিয়ার বাসার আল-আসাদের বিদ্রোহী এবং আইএস উভয়ের বিরুদ্ধেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে রাশিয়া। একই লক্ষ্যেই মিসাইল হামলাও চালিয়েছে দেশটি। তবে শত্রুদের অবস্থান জানতে এবং তাদের স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করতে রাশিয়া তার আবিস্কৃত নতুন জ্যামিং সিস্টেম ক্রাসুখা-৪ সিরিয়ায় স্থাপন করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ক্রাসুখা হচ্ছে রাশিয়ার আবিস্কৃত এমন জ্যামিং সিস্টেম যা ১৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শত্রুর রাডার এবং ই্যলেকট্রনিক অয়ারকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ইউরোপীয় প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল হোডজে বলেছেন রাশিয়া ডোবনাসে ইউক্রেন বাহিনীর একটি উচ্চ রাডারকে ধ্বংস করেছিলো ক্রাসুখা-৪ এর মাধ্যমে।


যুদ্ধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুদের নজরদারির সিস্টেমকে অকেজো করার জন্য প্রথম ব্যবহৃত হয় ই্যলেকট্রনিক অয়ারফেয়ার(ইডব্লিউ)। এরপর থেকে এটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক উন্নতি সাধন করেছে। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এ প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নতির জন্য বহু টাকা খরচ আসছে। এদিকে পিছিয়ে নেই এশিয়ার দেশ চীনও।

শত্রুর উপর হামলা, নজরদারি এবং শত্রুর নজরদারিকে প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয় ইডব্লিউ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংঘর্ষের সময় কোরিয়া, ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান এবং ইউক্রেন অঞ্চলে বিরাট ভূমিকা রাখে এটি।

আরব বসন্তের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে ইউব্লিউ ব্যবহার করে তথ্য নিয়ে তা সংঘর্ষের মিত্রবাহিনীকে দিয়ে সহায়তা করে আসছে। সিরিয়া এবং ইরাকে আধিপত্য বিস্তারের পর থেকে ইডব্লিউ ব্যবহার করে ন্যাটো আইএসের উপর নজরদারি ছাড়াও সহায়তা পেয়েছে তাদের রাডারে ভুল তথ্য সরবারহ করে।


চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত আসাদ বাহিনীকে অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে আসছিলো রাশিয়া কিন্তু সম্প্রতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো শুরু করে তারা। তবে অভিযোগ রয়েছে রাশিয়া শুধুমাত্র আইএসের উপরই বিমান হামলা চালাচ্ছে না বরং সমস্ত আসাদবিরোধীদের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটছে।

রাশিয়া খুব ভালোভাবেই জানে যে ন্যাটো বাহিনী তার ব্যবহৃত অস্ত্র, অবস্থান এবং লক্ষ্যের উপর নজরদারি রাখতে সক্ষম। সুতরাং ন্যাটো যাতে রাশিয়ার বাহিনীর উপর নজরদারি রাখতে না পারে সেজন্যই গোপনে এ কাজ করছে রাশিয়া।

অস্ত্র ব্যবহার করে বাজার তৈরি
রাশিয়ার ক্রাসুখা-৪ এমনভাবে বানানো হয়েছে যা শুধুমাত্র ন্যাটোর বিমানের অবস্থানকেই নজরদারিতে রাখবে না বরং তাদের ধরন এবং এদের নজরদারিকেও জানাতে সক্ষম হবে। লাক্রোসি স্যাটেলাইট, সেন্টিনেল ইন এক-ব্যান্ডের মতো স্যাটেলাইটগুলোকে নিয়মিত ট্রাক করতে পারবে রাশিয়া। ট্র্যাক করে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ন্যাটোর ব্যবহার করা নজরদারি সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিতে পারবেন তারা।


এখানেই শেষ নয়। ন্যাটোর হাতেও রয়েছে ইসিসিএম যা আবার ইডব্লিউর সিস্টেমকে নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম। প্রযুক্তির এ ক্রমাগত ব্যবহারে চলবে স্নায়ু যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি। হয়তো রাশিয়ার নতুন এ যন্ত্রকে ন্যাটো নিস্ক্রিয় করে দিতে পারে কিন্তু এর প্রকৃত ফলাফল যা হবে তা হচ্ছে রাশিয়া তার নতুন এ সিস্টেমকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে বিক্রির বাজার তৈরি করতে পারবে। অপর পক্ষে ন্যাটোর পক্ষেও সম্ভব হবে তার নতুন ইসিসিএমের পরীক্ষা চালানো।
সূত্র: স্ক্রল.ইন

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে