Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৬-২০১৫

টিপিপি চুক্তি সই: ইন্টারনেটে ভয়াবহ নজরদারির শঙ্কা

টিপিপি চুক্তি সই: ইন্টারনেটে ভয়াবহ নজরদারির শঙ্কা

ওয়াশিংটন, ০৬ অক্টোবর- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নের্তৃত্বে আন্তঃপ্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তির (টিটিপি) ভিত্তিতে বিশ্বের অন্যতম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হয়েছে; যেটি বিশ্ব অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে। এ অঞ্চলের ১২ টি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে। তবে এ চুক্তিকে ঘিরে ‘ইন্টারনেটে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় নজরদারির’ সম্ভাবনার অভিযোগ তুলছেন অনেকে। তারা বলছেন, এ চুক্তির ফলে মানুষ কম্পিউটার বা ইনটারনেটে কি করছেন, তার উপর অনেক নিয়ন্ত্রণ অারোপ ও নজরদারি করা আগের থেকেও আরও বেশি সহজ হয়ে যাবে।

পাঁচ বছর মেয়াদী এ টিপিপি চুক্তি বিশ্বের মোট অর্থনীতির ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করবে। চুক্তিভুক্ত দেশগুলো একটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করবে যাতে দেশগুলোর কোম্পানি ও ব্যাবাসায়িরা আরো সহজে নিজেদের বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু এ চুক্তির সমালোচনা করে অনেকে বলছেন, ইন্টারনেট বিষয়ে এ চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সন্দেহ করছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ চুক্তির অনেক কিছুই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। চুক্তিতে বলা আছে, কেউ যদি গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য ফাঁস করে, তাহলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এমনকি সাংবাদিকেরা যাতে এ ধরণের কোন সংবাদ না জানতে পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’

আরেক জায়গায় বলা আছে, ফেসবুক ইউটিউবের মত ইন্টারনেট কনটেন্ট সার্ভিস যারা দিচ্ছে, তাদের কোন কনটেন্ট সম্পর্কে আপত্তি জানালে তাদেরকে তা তুলে নিতে হবে, যেহেতু এসবে মূল অফিস যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৩ সালে চুক্তিটি যখন আলোচনার পর্যায়ে ছিলো তখনই এটিকে বিশ্বে ইন্টারনেটের প্রাইভেসির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করেছিলেন অনেকে। এ অংশীদারি চুক্তির আওতায় দেশগুলো তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি এবং তাদের ইন্টারনেট আইন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারি আরও জোরালো হবে।

টিপিপি চুক্তি প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ চুক্তি। ভারতীয় ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি লিখেছে, টিপিপি চুক্তিতে এমন কথাও বলা আছে যে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো টিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত যে কোনো জাতীয় সরকারের বিরুদ্ধে এর আওতায় মামলাও করতে পারবে। বলা আছে সরকারগুলো এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারবে না, যাতে টিপিপির মূল স্পিরিটকে আঘাত করে। টিপিপি মূলত একটি ’যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি' হলেও, মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলোর কর্তৃত্ব ও প্রভাব এতে স্বীকৃত। যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট স্বার্থ রক্ষাই এর প্রধান দায়িত্ব। এই চুক্তি বলে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট দেশের আইনও বদল করতে পারবে। ফলে ১২টি দেশের মধ্যে এখন এই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে চলে গেছে।

চুক্তির ফলে ইন্টারনেটে নজরদারির জন্য অনেক নতুন নতুন আইন তৈরী হবে। এ চুক্তির বিরোধী একটি গোষ্ঠি ‘এক্সপোজ দ্য টিপিপি’ দাবি করেছে, এ চুক্তির আওতায় ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেবে। এমনকি গ্রহককে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বঞ্চিত করার অধিকারও থাকছে তাদের হাতে।

একই সাথে আধুনিক ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের উপর নজরদারির সুযোগ রেখে সেগুলো বাজারে বিক্রি করবে তারা। যাতে বিক্রির পরও গ্রাহকের উপর নজরদারি করতে পারে তারা।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট,  ভারতীয় ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে