Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (38 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৭-২০১২

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পরীক্ষায় খারাপ করে

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পরীক্ষায় খারাপ করে
এতোদিন মা-বাবা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে কথাটি বলতেন, এখন তার সঙ্গে একমত গবেষকরাও। তারা সম্প্রতি জানালেন, যারা নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্টে তারা এগিয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফেসবুকারদের পরীক্ষা হয় মারাত্মক খারাপ এবং যার ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে।

 

অহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ২১৯ জন স্নাতক এবয় স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের পর একাট কুইজ টেস্ট করে। যেখানে দেখা যায় ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থীই প্রতিদিন একাধিকবার তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক মিনিট করে ফেসবুকে বসে আবার উঠে যাচ্ছে এবং অনেকে একটানা কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেয় ফেসবুকে। তবে শেষে গিয়ে দেখা যাচ্ছে গড়পড়তায় সবার ফেসবুকে কাটানো সময়ের হার একই। পাশাপাশি সবার মধ্যেই ফেসবুক প্রীতি এবং পড়ালেখা অনীহার প্রবণতাও এক।

 

এই সপ্তাহে আমেরিকান এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনে বার্ষিক সভায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। রিপোর্টে বরা হয়েছে, গবেষণাটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর করা হলেও, শিশু এবং কিশোরদের ক্ষেত্রেও এর ক্ষতিকর প্রভাব ওই একই। তারাও সমানভাবে আসক্ত ফেসবুকে বন্ধুত্ব করা, পোক করা, অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা এবং গেমস খেলায়।

 

তবে গবেষকরা শুধু ফেসবুককেই দোষারোপ করেননি। তারা জানিয়েছেন, শুধু ফেসবুক না। পরীক্ষায় খারাপ করার পেছনে হাত আছে সবধরনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট আসক্তির।

 

তবে ফেসুবক ছিল তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু। আরিন কারপিনস্কি নামের এই দলের এক গবেষক বলেন, “যারা ফেসবুকে সময় বেশি দিচ্ছে, তাদের পড়াশোনায় সময় কমে যাচ্ছে। অনেকে এক মিনিট-এক মিনিট করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকে। যার ফলে পড়ার সময় আর তারা পাচ্ছে না এবং এর পরিণতিতে তারা পরীক্ষা অকৃতকার্য হচ্ছে।”

 

গবেষক আরিন আরো বলেন, “প্রতিটি প্রজন্মেই থাকে ধ্বংসাত্মক একটি কাল যন্ত্র। এই যুগে যা ফেসবুকে নামে এসেছে। এটা অন্যসব ধ্বংসাত্মক রূপ থেকে ভিন্ন রূপে এসেছে।”

 

তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, কুইজে অংশ নেয়া ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফেসবুক আসক্তি এখন বাড়তির দিকে এবং তাদের পরীক্ষার গ্রেড পয়েন্ট কমতির দিকে।

 

অন্যদিকে বৃটেনেও একই হাল। বৃটেনে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮৩ ভাগই এখন পুরোপুরি ফেসবুক এবং মাইস্পেস ও ম্যাসেঞ্জারের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে আসক্ত। যা তাদের পড়াশোনার প্রতি ইচ্ছাকে কমিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া এখন ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার চেয়ে ব্লগ, নোট এবং অনলাইন নিউজ পড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

 

ডেইজি জোনস নামে বৃটেনের এক ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী বলেন, “আমি লাইব্রেরিতে বসে ২০০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লেকার চেষ্টা করছিলাম। তখন হঠাৎ মনে হলো আমি তো অনেকক্ষণ ধরে ফেসবুক ব্যবহার করছি না। আর এই চিন্তা মাথায় ঢোকার পর থেকে আমি আর একটা শব্দও লিখতে পারলাম না। সঙ্গে সঙ্গেই আমি মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে গেলাম এবং দেখতে দেখতে কয়েক ঘণ্টা কেটে গেল এবং আমি প্রবন্ধ ভুলে ফেসবুক নিয়েই পড়ে থাকলাম।”

 

তবে এটা তো গেল বৃটেনের ডেইজির কথা। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীই মানতে নারাজ যে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহারে খারাপ প্রভাব পড়ছে তাদের শিক্ষা জীবনে।

 

শিক্ষার্থীদের মতো ধারণা ফেসবুক কর্তৃপক্ষেরও। তাদের এক প্রতিনিধি বলেন, “সব কিছুরই ভালো এবং খারাপ প্রভাব থাকে। ফেসবুকের খারাপের পাশাপাশি কিছু ভালো দিকও আছে। আর খারাপ এই দিকটাকে বর্জন করা কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে। শিক্ষ এবং পরিবারের চেষ্টায় তারা পড়ালেখার ক্ষতিতে না, পড়ালেখার স্বার্থেধই ব্যবহার করতে পারে ফেসবুক।”

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে