Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৬-২০১২

যুদ্ধাপরাধের বিচারে সহয়তা দেবেন সায়মন ড্রিং ও মার্ক টালি

সাইদ আরমান


যুদ্ধাপরাধের বিচারে সহয়তা দেবেন সায়মন ড্রিং ও মার্ক টালি
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল- লাখো মানুষের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, গণহত্যা আর বীর বাঙালির বীরত্বের ইতহাস যারা এক সময় বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলেন তারাই আবার সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করলেন। গল্প শোনালেন সেই ১৯৭১ সালের ঘটনার।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দুই সাংবাদিক মার্ক টালি ও সায়মন ড্রিং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিচারণ করেন রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে। এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘স্মৃতি ৭১’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে এই দুই বিদেশি সাংবাদিক তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ মাসের ভয়াবহ চিত্র ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। তুলে ধরেন তাদের রির্পোটিং অভিজ্ঞতার কথাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহও।

দুই ব্যবসায়ী-শিল্পগোষ্ঠী মোহাম্মদী গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপ এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরু হয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপির কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। তিনি সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, বাংলার কথা বলি’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদ, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানসহ রাজনীতিক ব্যবসায়ি নেতা, আমলাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।


একই সঙ্গে ওই সময়কার যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী ও সব ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিৎ বলেও জানান ঐ দুই সাংবাদিক।

তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধের যে তথ্য-উপাত্ত আছে বাংলাদেশ চাইলে তা দেওয়া হবে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের এই দুই বিদেশি বন্ধু।

স্মৃতিচারণকালে সাংবাদিক সায়মন ড্রিং ও মার্ক টালি মত প্রকাশ করেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে দেখলে মনে হতো, এই দেশ পুনর্গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আজ মনে হয়, বাংলাদেশ কিছু করে দেখিয়েছে। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

ব্রিটেনের দৈনিক টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধ-সংবাদদাতা সায়মন ড্রিং হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশিদের হত্যাযজ্ঞের খবর প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (পরবর্তীকালে হোটেল শেরাটন, বর্তমানে হোটেল রূপসী বাংলা) অবস্থান করছিলেন।

তিনি জানান, পাকিস্তানিদের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশে আক্রমণ ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। যতটুকুন আমি জেনেছিলাম, সেদিন তারা প্রায় ৭ হাজার বাঙালিকে হত্যা করেছিলো। তারা কেউ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি। নিরস্ত্র বাঙালি। শুধু বাঙালিকে শিক্ষা দিতে এটি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ যতো আগেই ঘটুক না কেন তার বিচার হতে হবে। হোক তা ৪০ বছর আগে। আর বিচারের যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।

আর একাত্তরে মার্ক টালি বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। যুদ্ধকালে পাকিস্তান সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে তাদের সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের পক্ষেই প্রচারণা চলতো। বিবিসি রেডিওতে মার্ক টালির পরিবেশিত খবর ছিল মানুষের সত্য সংবাদ জানার প্রধান উৎস।

তিনি বলেন, সেই সময় কিছু পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা চেয়েছিলো অস্ত্রের মাধ্যমে সমাধান। আর কিছু সেনা কর্মকর্তা চেয়েছিলো আলোচনার মাধ্যমে দুই পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যার সমাধান।

তিনি বলেন, আমি যখন বিবিসিতে প্রতিবেদন দেওয়া শুরু করি তখন অনেক পাকিস্তিিন তা বিশ্বাস করত না। এক সময় পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানায়, বিবিসি এক তরফা ভাবে বাংলাদেশের পক্ষে লিখে যাচ্ছে। 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে