Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 1.8/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২২-২০১৫

বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ থেকে বাঁচতে যা করছেন নূর হোসেন!

বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ থেকে বাঁচতে যা করছেন নূর হোসেন!

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর- নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক নূর হোসেন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া পিছাতে চাইছেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন মতে, নূর হোসেনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়ের করা অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নিতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করলেও তার আইনজীবী মামলা চালিয়ে যেতে চান। তবে বাংলাদেশের আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ভারতের আদালতে নূর হোসেনের আবেদনকে ‘কালক্ষেপণ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করছেন, বাংলাদেশে ফিরলে তার যে সাজা হবে, তা থেকে বাঁচতেই ফন্দি আঁটছেন তিনি। নূর হোসেনের এমন আবেদন আদালত আমলে না নিলেও পারতেন বলে মনে করেন তিনি।

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে সোমবার শুনানি হয় উত্তর চব্বিশ পরগনার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। এ সময় নূর হোসেনের পক্ষে সোমবারই প্রথম অনুপ ঘোষ নামে কোনও উকিল হাজির হন। তিনি আদালতের কাছে তাদের বক্তব্যও শোনার আহ্বান জানান, বলে বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আদালত প্রথমে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে সরকার পক্ষের আইনজীবী মামলাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করলে নভেম্বরের শুরুতেই শুনানির দিন নির্ধারণ করে আদালত।

তবে ভারতীয় আদালতে নূর হোসের আবেদনের বিষয়কে শুধুমাত্র সময় ক্ষেপণ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। নূর হোসেনের বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পিত মনে করেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভারতে একজন লোক অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ধরা পড়লে তার এমনিতেই শাস্তি হবে। কিন্তু নূর হোসেন পিস্তল নিয়ে ধরা পড়লেন যাতে তার ওখানে লঘু শাস্তি হয়। কারণ তিনি জানেন বাংলাদেশে তার যে অপরাধ এর জন্য ফাঁসি হবে। এটিই তার বড় গেম।’

সোমবারে ভারতের আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র চাইলে দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই মামলা চালানোর। আর এ ক্ষেত্রে আদালত আইনানুগভাবেই মামলা খারিজ করতে পারতো। এ মামলায় নূর হোসেনকে সময় দেওয়া মানেই হলো নূর হোসেনের আইনজীবীর গালগল্প শোনা ছাড়া আর কিছুৃই নয়।’

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী দায়ের করা ওই আবেদনে সরকার জানিয়েছে, ‘নূর হোসেন বাংলাদেশের একজন দাগী অপরাধী। তার নামে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ রয়েছে। বাংলাদেশে গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি ভারতে এসে বেআইনিভাবে লুকিয়ে ছিলেন’। আবেদনে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে নূর হোসেনকে নিজেদের দেশে ফেরত নিতে চেয়েছে। সেজন্যই সরকার অনুপ্রবেশের মামলাটি প্রত্যাহার করে নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায়’।

এই আবেদনের কপি রাজ্য সরকারের 'গোপন বিভাগে'ও পাঠানো হয়েছ যারা এধরনের অতি স্পর্শকাতর বিষয়গুলির ওপরে নজর রাখে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবীদের মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়েছিল যে ভারতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে এদেশে যে অপরাধ করছেন নূর হোসেন তার বিচার এবং শাস্তি হওয়ার পরে তাকে ফেরত পাঠানো যাবে, নাকি বিচার চলাকালীন সরকার মামলা তুলে নিলে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করা যাবে তাকে।

ভারতের সরকারী আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন দে জানান, আদালতের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে বিচারের যে কোনও পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহারের সরকারি আর্জি মেনে নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আইনজীবীও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তবে সরকার কোন পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি তুলতে চাইছে বা অভিযুক্তর বিরুদ্ধে সেদেশে কত গুরুতর মামলা রয়েছে সেগুলো অবশ্যই আদালত খতিয়ে় দেখবে। নূর হোসেন আর তার দুই সঙ্গী গত বছর ১৪ই জুন কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে কৈখালী এলাকায় গ্রেপ্তার হন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে