Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.3/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৯-২১-২০১৫

মহসিনের আসনে প্রার্থী হতে চান স্ত্রী, তৎপর অন্যরাও

আবদুল বাছিত বাচ্চু


মহসিনের আসনে প্রার্থী হতে চান স্ত্রী, তৎপর অন্যরাও

মৌলভীবাজার, ২১ সেপ্টেম্বর- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মন্ত্রীর শোক না কাটতেই অন্তত পাঁচ প্রার্থীর সমর্থকেরা শুরু করেছেন নির্বাচনী তৎপরতা। এমনই পরিস্থিতিতে প্রার্থী হতে চান প্রয়াত  মন্ত্রীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন। দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাপ আর পরিবারের অতীত রাজনৈতিক এতিহ্য ধরে রাখতে পরিবারের এই সিদ্ধান্ত।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শও করেছেন। এমনকি মন্ত্রী কন্যা সৈয়দা সায়লা শারমীন ও সৈয়দা সাবরিনা শারমীন পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়য়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন বলে জানান সৈয়দ মহসিন আলীর ছোটভাই সৈয়দ সলমান আলী।

সোমবার এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, “বড় ভাইয়ের (মন্ত্রীর) প্রতি জেলার মানুষ যে পরিমাণ সিম্পেথাইজড সেটা আমরা ধরে রাখতে চাই। তাঁর স্বপ্ন পূরণে এবং অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তির জন্য ভাবীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

মৌলভীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে একাধারে তিনবার চেয়ারম্যন হওয়া ছাড়াও সৈয়দ মহসিন আলী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি পরাজিত করেন বিএনপির অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে। আর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি মৌলভীবাজার জেলায় আওয়ামী লীগ থেকে একমাত্র পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব পান সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের।

তিনি একমাত্র মন্ত্রী যিনি নিজ বাড়িতে থাকতেন কোনো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছাড়াই। আর এজন্যই তিনি এতো জনপ্রিয় ছিলে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান লোকমান।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের এই নিবেদিতপ্রাণ নেতা মারা গেলে এই আসনটি শূন্য হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে মন্ত্রীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন ছাড়া আরও পাঁচ প্রার্থীর সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। তাদের নিজ নিজ প্রিয় নেতাকে প্রার্থী করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোটার, দলীয় নেতাকর্মী ও কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও জনতা ব্যাংকের পরিচালক সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্ত, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কামাল হোসেন এবং জেলা যুবলীগ সভাপতি ফজলুর রহমানের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঝড় তুলেছেন তাদের অনুসারীরা।

সৈয়দ মহসীন আলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, দেশ বিভাগের পর সিলেট নগরীর কাজি ইলিয়াছে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসীনের। তার দাদা সৈয়দ কাপ্তান ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী। ১৯৮১ সালে সৈয়দ মহসির আলীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এরপর থেকে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও এই শহরের মানুষের খেদমতে কাজ করছেন।

তিন কন্যা সন্তানের জননী সৈয়দা সায়রা মহসিন বর্তমানে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভানেত্রী, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার উপদেষ্টা ও মহিলা সমিতির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। স্বামী সৈয়দ মহসিন আলীর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অর্জনে এই মহিয়সী নারীর অপরিসীম অবদান আছে বলে  জানান দেবর সৈয়দ সলমান আলী।

এছাড়া তৎপরতা চালানো অপর পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ প্রার্থিতার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অপর প্রার্থী পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সৈয়দ বজলুল করিম বলেন, প্রয়াত মহসিন আলী আমার চাচাতো ভাই। আমরা একই পরিবারের সদস্য। এ ছাড়া আমরা একই সাথে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি সবই করেছি। এলাকার লোকজনকে দেওয়া কমিটমেন্ট থেকে আমি প্রার্থী হতে চাই।

আওয়ামী লীগের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, তিনিও উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এর বেশি এক্ষুনি বলতে নারাজ। অবশ্য তার অনুসারীরা ইতিমধ্যে তার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন।  গত দুটি উপজেলা নির্বাচনে সদর উপজেলায় তিনি প্রার্থী হয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকায় বিজয়ী হতে পারেননি।

অপর প্রার্থী জেলা যুবলীগ সভাপতি ফজলুর রহমান বর্তমানে হজ পালনে মক্কায় রয়েছেন। তার সমর্থকেরাও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভোটার ও কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী এই আসনের এমপি থাকাবস্থায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করায় ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পর পরই তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের আয়োজন করবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে