Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.2/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৫

ফি দিতে না-পারায় তাড়িয়েছিল স্কুল, এখন ছেলের ঠিকানা IIT-দিল্লি

ফি দিতে না-পারায় তাড়িয়েছিল স্কুল, এখন ছেলের ঠিকানা IIT-দিল্লি

দিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর -বাবা জুতোর দোকানে কাজ করতেন। চূড়ান্ত অভাবের সংসার। ভাত-ডাল জোগাড় করাই মূল চিন্তা ছিল। বিলাসিতা তো দূর-অস্ত। বাবা স্কুলের ফি দিতে পারেননি, তাই স্কুল তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। বিহারের বেগুসরাইয়ের সেই ছেলেই এখন IIT দিল্লির ছাত্র। অসাধারণ মেধা আর অধ্যাবসায় জীবন সংগ্রামে সে জয়ী। অদম্য ইচ্ছেশক্তি একেই বলে!

দারিদ্র কাকে বলে, ছোট থেকেই টের পেয়েছিল হনজালা শফি। দু'বেলার একমুঠো খাবার জোগাড় করতে যে কী ভীষণ পরিশ্রম করছেন বাবা, তা ছোট থেকেই দেখেছে সে। ছেঁড়া শাড়ি সেলাই করেই গায়ে চাপিয়ে রাখেন মা। রান্নার গ্যাস কেনার মতো পয়সা ছিল না। বরাবর উনুনের ধোঁয়ায় কাশতে কাশতে মায়ের চোখ জল দেখেছে হনজালা। মা-বাবার কষ্ট যত দেখেছেন, ততই মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছেন, এই কষ্ট তিনিই দূর করবেন।

ছোটবেলায় হনজালা তার বাবা ভর্তি করেছিলেন একটি সরকারি স্কুলে। কিন্তু স্কুলটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অর্ধেক দিনই বন্ধ থাকত। শেষমেশ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল। সঙ্গে পড়াতেও ইতি হয়ে যায় হনজালার। এরপর পাড়াতুতো এক কাকিমা হনজালাকে একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করেন। মহিলা ওই স্কুলে পড়াতেন। হনজালার বাবা খুব গরিব হওয়ায়, ফি দিতে হত না। কয়েক বছর বেশ ভালোই কাটছিল। পড়াশোনাও চলছিল মসৃণ ভাবে। হঠাত্‍‌ কাকিমা অন্য স্কুলে চাকরিতে চলে যান। ব্যস, জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠল হনজালার। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল, ফি না দিলে তারা হনজালাকে রাখতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত স্কু তাকে তাড়িয়ে দেয়।

ওই স্কুলের জাভেদ নামে শিক্ষক হনজালার মেধা দেখে চমকে যান। তিনি হনজালার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। স্কুলের ফি মিটিয়ে দেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হনজালাকে। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় অসাধারণ রেজাল্ট। কিন্তু পরবর্তী পড়াশোনা করতে গেলে তো স্কুলের ফি দিতে হবে। মা তখন নিজের শেষ এবং একমাত্র গয়নাটিও বেচে দিয়ে ছেলের স্কুলে ফি মেটান। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় হনজালা রাজ্যে প্রথম ২০-র মধ্যে স্থান করে নেয়। কিন্তু বাবার মাসিক আয় ২৮০০ টাকা। হনজালাকে আর পড়ানোর ক্ষমতা ছিল না তাঁর। কিন্তু হনজালা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল। সে ইঞ্জিনিয়ার হবেই। IIT-র পরীক্ষায় সফল হতে গেলে যে ট্রেনিং লাগবে, তার টাকাও তো নেই।

হনজালার মা ইয়াসমিনের কথায়, 'ছেলেটা নিজে নিজেই বাড়িতে পড়াশোনা করত। একটি অঙ্ককে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সমাধান করত। সারা দিনরাত এক করে খাটত।' তারপর এল সেই দিন। ২০১৩ সালে IIT পরীক্ষায় দুর্দান্ত র‍্যাঙ্ক করে হনজালা। এখন সে দিল্লি IIT-র দ্বিতীয় বর্ষের অন্যতম মেধাবি ছাত্র। 

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে