Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.1/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১১-২০১৫

স্কুলের দাবি ‘শাসন’, বিশেষজ্ঞ মতে নির্যাতন

স্কুলের দাবি ‘শাসন’, বিশেষজ্ঞ মতে নির্যাতন

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর- ছবিটি রাজধানীর মিরপুর এগারো নম্বরের সান মুন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ছবিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে ‘সাজানো’ বললেও তাদের দাবি ‘দুষ্টুদের ভদ্রতা শিখাতে গেলে একটু-আধটু শাসন করতেই হয়'। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকার পরও এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি।’

ফেসবুকের এই ছবিটি নিয়ে কথা বলে ওই স্কুলের কো-অর্ডিনেটর ও শিক্ষক নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে। তার ব্যাখ্যা, ‘ওই ছবিতে কোনও বাচ্চার মুখ দেখা যাচ্ছে না। আমরা চাইলে বলতে পারতাম ছবিটি আমাদের স্কুলের নয়। সেটা আমরা বলছি না। বিষয়টি হলো, আমাদের স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী আছে। প্রায় সময় শিক্ষার্থীরা মারামারি করে একে অন্যের সাথে। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় দুষ্টুমিও করে থাকে। তখন আমরা তাদের শাসন করি। তবে ফেসবুকে যে ছবিটা পাওয়া গেছে এভাবে আমরা কাউকে শাসন করি না।’

তাহলে ছবিটি পাওয়া গেল কিভাবে? জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘ছবিটা দেখার পর আমি শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, কালো মতো মোটা একটি লোক স্কুলের ভেতরে এসে তাদের এমন সাজানো ছবি তুলে নিয়ে গেছে। এ সময় ঐ লোক শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখিয়েছে। লোকটি বলেছে ফেসবুকে তোমাদের দেখা যাবে। আর এ কারণে শিক্ষার্থীরা ছবি তুলতে রাজি হয়েছে।’

স্কুলের ভিতরে অন্য লোক এসে কীভাবে ছবি তুললো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্কুলের গেটে একজনকে নিরাপত্তার জন্য রাখছিলাম। তিনি কিছুদিন হলো ছুটিতে গেছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় কেউ এসে ছবি তুলে নিয়ে গেছে। তবে আরেকজন নিরাপত্তা প্রহরী নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ এ কথা শেষ না হতেই তার পাশের চেয়ারে বসা ওই স্কুলের আরেক শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, ‘বিষয়টা আসলে আমাদের সাথে ষড়যন্ত্রমূলক। কেউ হিংসা করে এমন সাজানো একটি ছবি তুলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ কত রকমের কাজ করে। আর কাজ করলে ভুল হবেই। প্রতিষ্ঠান চালালেও ভুল হতে পারে। আপনারা আমাদের অনুপ্রেরণা দেবেন যেন স্কুল চালাতে পারি, জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।’ নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘শোনেন ভাই, আপনিও দেখবেন ছেলে-মেয়েদের একটু শাসন না করলে ভদ্রতা শেখে না। আমরা চাই তারা ভদ্র হয়ে উঠুক। আপনি খোঁজ নিলে জানবেন, আমাদের স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই গরীব পরিবার থেকে আসে। তাই তারা একটু দুষ্টু হয়। আর এ কারণে শাসনও করতে হয়।’ স্কুলে ‘শাসন’ হাইকোর্টের নির্দেশনা বিরোধী তবু কেন করেন জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ‘সবাইকে তো আর শাসন করতে হয় না। দু’একজনের দুষ্টুমি এতো বেশি যে শাসন না করলে আরো দুষ্টু হয়ে ওঠে।’

তবে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে রাজি হননি তিনি। কিন্তু স্কুলের বাইরে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে। তারা জানান, ‘স্কুলের অনেক শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের যে কোনও অজুহাতে ‘শারীরিক নির্যাতন’ করে। স্কুলে ম্যাম কিংবা শিক্ষকদের কথা না মানলে বেত দিয়েও পেটায়।’ এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘শিশুদের শাসন বলতে কিছু নেই। শাসনের নামে শিক্ষকরা শিশুদের নির্যাতন করেন। নির্যাতনের মাধ্যমে কিছু হয় না। শিশুদের বুঝাতে হয়। ছোট মানুষ তো একটু দুষ্টু হবেই। তাদের ভালোভাবে বললে সব কথাই শোনে।’

তার মতে, ‘বর্তমানে যারা শিক্ষক তারা শিশু থাকতে নির্যাতনের শিকার হয়ে এসেছেন। তাদের সেই সংস্কৃতি থেকে এই শিক্ষকরা এখনো বের হতে পারেনি। সে কারণে তারা একই প্রক্রিয়ায় এখন শিশুদের নির্যাতন করেন।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন শুধু স্কুলেই নয়, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যন্ত হয়। স্কুলে হয় শারীরিক ও মানসিক কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় মানসিক। এটার মাত্রাও কম নয়।’

শাসনের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হয় না উল্লেখ করে এই শিক্ষাবিদ আরো বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে অনেক শিক্ষকেরই জ্ঞানের অভাব রয়েছে। আর এটি এখন জাতীয় সমস্যাও বটে। এই সমস্যা দূর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের শেখাতে হবে, শাসন নয়, ভালোবাসার মাধ্যমে শিক্ষাদান সম্ভব।’

২০১১ সালে ২১ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১’ প্রণয়ন করে। এতে বলা হয়, ছাত্রছাত্রীদের ১১ ধরনের শারীরিক শাস্তি দেওয়া যাবে না। আর মানসিক শাস্তি হিসেবে মা-বাবা, বংশ ও ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করা যাবে না। অশোভন অঙ্গভঙ্গিসহ শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এমন আচরণও করা যাবে না।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে