Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৩-২০১২

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি, মন্ত্রী বললেন সবই ষড়যন্ত্র

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি, মন্ত্রী বললেন সবই ষড়যন্ত্র
চাঞ্চল্যকর রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রথম রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গতকাল রেল ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। রেলমন্ত্রী বলেন, আমার এপিএস ও রেলওয়ের জিএম অর্থসহ আটকের ঘটনার পেছনে রয়েছে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র। রেলের ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে না দেয়ার জন্যই তারা এ প্রয়াস চালাচ্ছে। তারা তাদের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। অপচেষ্টার অংশ হিসেবে আমার এপিএস এবং জিএম অর্থসহ আটকের ঘটনা ঘটতে পারে। নিজের পদত্যাগ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি রাজনীতিবিদ। ৫৫ বছর রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। সুবিধা, লোভ-লালসা বা ক্ষমতা আমার কাছে কখনও আসেনি। আমার কাছে মন্ত্রিত্ব বড় কথা নয়। মন্ত্রী স্থায়ী কোন পদ নয়। মন্ত্রিত্ব যাওয়া বা ত্যাগ করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। বরং আমার স্থায়ী পরিচয় হচ্ছে আমি সংসদ সদস্য। মন্ত্রী বলেন, আমার কাছে ঘটনাটি একেবারেই অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। এতে স্বাভাবিকভাবেই আমি হতবিহবল ও স্তম্ভিত। আমার রয়েছে ৫৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। কিন্তু মন্ত্রিত্ব জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। মন্ত্রী হিসেবে আমি একেবারেই নতুন অর্থাৎ তিন মাসের। আমি অনেকটা মন্ত্রণালয়ের অপভ্রংশের দায়িত্ব নিয়েছি। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এটারই একটি অংশ রেল। জেনেশুনেই আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। রেলমন্ত্রী বলেন, ২০ বছর ছিল এটা বন্ধ। এর মধ্যে যতো রকম দুর্নীতি, সুবিধাভোগী, অসৎ সরকারি কর্মচারী রেলে দীর্ঘদিন থেকেই আছে। ৯০ দিনের মধ্যে রেলের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। অনেকাংশে আমি মনে করি সফল হয়েছি। নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও সময়মতো চলা, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়ে রেল মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রেল নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন হিসেবে আবার দাঁড়াক এটা অনেকেই চান না। এর একটি প্রতিপক্ষ আছে। রেল যদি আবার নির্ভরযোগ্য এবং সারা দেশে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে অনেকের লাল বাতি জ্বলবে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এর প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত সজাগ। শক্তিশালী চক্র এর বিরুদ্ধে লেগে আছে। তাদের কোন দল-মত নেই। এই প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একজন মন্ত্রীর একা দাঁড়িয়ে লড়াই করা দুরূহ ও কঠিন কাজ। তিনি বলেন, রেলের ৪০ বছরের সুবিধাভোগী কতিপয় আমলাতন্ত্র, ঠিকাদার বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রেলপথকে একটি স্বাধীন, পৃথক সত্তা ও জনকল্যাণে দাঁড় করানো খুবই কঠিন কাজ। আমি আগেও বলেছি সুবিধাভোগী দল, মত, গোত্র অভিন্ন। এখানে এরা এক। এরা হীন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ। তাদের ষড়যন্ত্রের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণে রেলকে নো লস, নো প্রফিটে দাঁড় করানোর সংকল্প অতীতেও ব্যক্ত করেছি। সেটা খুবই কঠিন কাজ। সেটা আমি গুরুদায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছি। এরপরও আমি আপসহীনভাবে এগিয়ে চলবো। সব সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এটা জেনেও রেলের পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা এবং দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য কমেছে। অচল রেলকে সচল করার চেষ্টায় আছি। এতে সুবিধাভোগী মহল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও অসত্যের বিরুদ্ধে ছোটকাল থেকেই আমি সোচ্চার রয়েছি। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সমর্থন সব সময় পেয়েছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি কখনও আপস করিনি। ৪০ বছরে আমি কোন সুবিধাভোগী পদেও যাইনি। এদের সঙ্গে আপস করলে রেলকে দাঁড় করানো যাবে না। এদের সঙ্গে আপস আমি করবো না। রেলকে আমি দাঁড় করাবো। তারা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আমি কোন মন্ত্রীর বাড়িতে যাইনি। ঝিগাতলায় নিজের বাড়িতেই আছি। ১০টার পর একজন মন্ত্রীর বাড়ি খোলা থাকে না। আমার ৪০ হাজারের বেশি রেল শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। এর সঙ্গে ইউনিয়ন- আরও ৪০ হাজার যোগ করা যায়। নানা রকমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আছেন। কেউ বিপদে-আপদে পড়লে আমার সাহায্য নেবেন এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আমি রাজনীতিকে সম্পদ করার হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বাস না করে এটাকে জনগণের সেবা করার পথ হিসেবে বিশ্বাস করেছি। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমার এপিএসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি, জিএমকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। এর সঙ্গে গতকাল জেনেছি একজন কমাড্যান্ট যুক্ত হয়েছেন। এজন্য তদন্ত কমিটিতে মহাপরিচালককে যুক্ত করেছি। জিএমকে বরখাস্ত করার বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে নেই। এটা একেবারেই উচ্চতর পর্যায়ে করতে হয়। নিয়োগ বাণিজ্যের কথা যা এসেছে, তা তদন্তের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি করার জন্য বলেছি। গতকাল (বুধবার) আমাদের সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানেও একটি সংসদীয় সাব কমিটি করে দেয়া হয়েছে। সাব কমিটি সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহ আলমের নেতৃত্বে করা হয়েছে। তাদেরও এ বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। রেলমন্ত্রী বলেন, কাগজে দেখেছি দুদক এ বিষয়ে তদন্ত করতে চায়। দুদক আইন দ্বারা গঠিত স্বাধীন সংস্থা। তারা যদি করেন, তবে আমার মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন যাতে জাতির সামনে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয়। সে প্রচেষ্টায় আমি তাদের সাহায্য করবো। জুডিশিয়ারির বিষয়টি কোন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে নেই। তবে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট ইচ্ছা করলে এ বিষয়ে সুয়োমোটো ইস্যু করতে পারে। তারা করলে এ ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা করা হবে। তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন মধ্যরাতে আমার বাসায় যাওয়ার কোন কারণ নেই। এপিএসের বাড়ি মোহাম্মদপুর। যাওয়ার পথে তাদের সঙ্গে বচসার কারণে শুনেছি তারা বিজিবিতে ঢুকে যায়। আমি বিজিবিতে তাদের ছেড়ে দেয়া বা রেখে দেয়ার জন্য তদবির করার মতো লোক নই। তারা তাদের আইন অনুযায়ী ও সিদ্ধান্তে শাস্তি দেবে। তিনি বলেন, ১০টার সময় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তাই ১২টার সময় কারও সঙ্গে সাক্ষাতের প্রশ্নই আসে না। এপিএস বা জিএম দু’জনই সরকারি কর্মকর্তা। এরা ব্যক্তিগত জীবনে কে কি করেন তার দায়িত্ব মন্ত্রীরা নিতে পারবেন না। দুর্নীতি দমন কমিশন বা সংসদীয় কমিটি ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানও তদন্ত করলে আমাদের সহায়তা পাবে। এনবিআর করতে চাইলেও আমাদের সহায়তা পাবে। এ দিকটাও আপনারা খতিয়ে দেখবেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যামেরা মধ্যরাতে গিয়ে হাজির হয়ে গেল। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে গেলেন- রেলমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। সরকারেরও পদত্যাগ করতে হবে। এটা একেবারে আকস্মিকভাবে একই সময়ে কিভাবে ঘটলো। এটা অর্কেস্ট্রেটেড কনস্পিরেসি। আমি রেলকে রক্ষা করতে চাই। আমি যে মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্বে আছি, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো। রেলের বাকি কাজটুকু আমি করবো। এ কথা আমি বলতে পারি, এ দুর্নীতির সঙ্গে কারা জড়িত, কিভাবে জড়িত এ কথা সবাইকে জানতে হবে। এটা না জেনে একজন রাজনীতিবিদের ৫৫ বছরের লাইফকে হেয় প্রতিপন্ন করা কি সঠিক হবে? সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা কারও কাম্য নয়। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, আমি অতীতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম, এখনও সোচ্চার আছি, সরকারও সোচ্চার আছে। তদন্ত কমিটি প্রকৃত ঘটনা আপনাদের সামনে হাজির করবে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আপনাদের কাছে আমার একটি প্রার্থনা, অতীতের মতো গণমাধ্যম ও জনগণের সমর্থনই একমাত্র সহায়। আপনাদের সমর্থন থাকলে স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমি জয়ী হবো। মূল উৎপাটন করা যাবে। নইলে অতীতের মতো আবারও ষড়যন্ত্রকারীরাই জয়ী হবে। আমার শুধু মিত্র বা বন্ধু নয়, রাজনৈতিক শক্রও আছে। আমার শক্র প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিবিদরা। আজীবন প্রগতিশীল রাজনীতি করেছি। এখনও করছি। আমার শত্রু দুর্নীতিবাজ, শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত যাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তারাই আমার শত্রু। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারীরা আমার শত্রু। আমার বন্ধু সাধারণ জনগণ, সৎ সাংবাদিক ও প্রশাসনের সৎ সরকারি কর্মকর্তা। আমার বন্ধুরা যারা এই ষড়যন্ত্রের ঘটনায় বিব্রত তাদের আমি আশ্বস্ত করে বলতে চাই, সত্যের জয় হবেই। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য ফোন পেয়েছি। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সবার উদ্দেশে বলতে চাই, বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে যেন না করি ভয়। এটা আমার ব্যক্তিগত কথা। এ বিপদ আমার ব্যক্তিগত। এ বিপদ গণতন্ত্রের ও সত্যের। তাই এ বিপদ কাটিয়ে উঠতেই হবে। গণতন্ত্র, স্বাধীন গণতন্ত্র ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য অতীতে আমার যেমন ভূমিকা দেখেছেন, এখনও আমাকে একই ভূমিকা পাবেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার প্রতি যাদের বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। হ্যাঁ, আমি সোজা কথা সোজাভাবেই বলে থাকি। আপনারা জানেন এখন আমরা একটি কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছি। করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সবাই সরগরম। এটা নিয়ে যদি সরকারকে বিব্রত করা যায়। সরকারের মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের বিব্রত করা যায়, তার একটি সুবিধাভোগী গ্রুপ রয়েছে। তারাই এ চেষ্টা করবে। আজকের মূল বিষয় দুর্নীতির মূলোৎপাটনের বিরুদ্ধে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে সফল হবো। যে সুযোগ এসেছে, ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আপনাদের সহায়তা চাই।
নিজের দেয়া বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সুরঞ্জিত।
প্রশ্ন : এপিএস ও জিএমসহ সমপ্রতি নানা ঘটনার জন্য আপনি পদত্যাগ করবেন কি না? এপিএস ফারুক ওই টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন, আপনার বাসায় কি?
উত্তর : ফারুকের সঙ্গে ঘটনার পর আর দেখা হয়নি। শুনেছি তিনি এসেছিলেন। সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলে দিয়েছি, তিনি যেন এদিকে না আসেন। এ ছাড়া টেলিফোনেও কোন কথা হয়নি। এজন্য এ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাকে লিখিত বক্তব্য দিতে হবে। তখনই স্পষ্ট হবে তিনি টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন। স্পষ্ট হলে এ বিষয়টি আমি গণমাধ্যমকে জানাবো। টাকা কোথায় যাচ্ছে সেটা অভিযুক্তরা বলবেন এ জন্যই তো তদন্ত হচ্ছে। আগেও বলেছি, ফারুকের বাড়ি মোহাম্মদপুরে। তারা তো ওই দিকেই যাবে। গণমাধ্যমের কিছু কিছু জায়গায় দেখেছি ওই টাকা কেউ কেউ দাবি করেছে। অঘোষিত টাকা হলে এটা সরকারি কোষাগারে চলে যাবে। জবাব পেলে আপনাদের সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়া হবে। এজন্য জিএম ও এপিএসকে লিখিত বক্তব্য দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। দু’জনের জবাব এলেই প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন। পদত্যাগের বিষয়ে আগেও বলেছি, একজন রাজনীতিবিদের জন্য পদ অর্জন করা যেমন কঠিন কোন বিষয় নয়, তেমনি ত্যাগ করাও অতি সহজ বিষয়। কারণ আমার মূল বিষয় হলো আমি রাজনীতিবিদ, আমি দেশের সেবা করি। আমার স্থায়ী ব্যবস্থা হচ্ছে আমি জনপ্রতিনিধি। সুতরাং পদত্যাগের দিকে নিয়ে গেলে এটা আমার জন্য খুব সহজ বিষয়। এক মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।
প্রশ্ন: সুস্পষ্ট অভিযোগ ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ হলেও জিএমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না কেন? যে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কথা উঠেছে ওই নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা ব্যাখ্যা করবেন কি?
উত্তর: আমার ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু হয়েছে তা তো নয়। আরও তিন বছর আগে থেকেই রেলওয়েকে সচল করার জন্য এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয় নয়, তারাই ঠিক করেছে এ নিয়োগগুলো কিভাবে হবে। ওই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হতো। এ নিয়োগ সম্পর্কে সমপ্রতি ঘটনা না ঘটলে আমরা জানতাম না। এ কারণে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছ থেকে রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এপিএসের বিষয়টি আমার এখতিয়ারের মধ্যে ছিল। ওই বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে চাই- প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেবো। বিষয়টি সহসাই স্পষ্ট হয়ে আসবে। বিষয়টির যেমন আকস্মিকতা আছে তেমনি একটি শিকড়ও রয়েছে।
প্রশ্ন: ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কি? ৭০ লাখ টাকার অবস্থান এখন কোথায়? কার কাছে আছে?
উত্তর: ৭০ লাখ টাকার অবস্থান কোথায় এটা আপনার মতো আমারও প্রশ্ন। আপনারা বুঝতেই পারছেন, টাকাটা নিয়ে তারা দীর্ঘ সময় বিজিবি’র কাছে ছিল। টাকাটা অঘোষিত হলে আইন অনুযায়ী জব্দ করা হবে। কেউ দাবি করলে তিনি নিয়ে যাবেন। এটা বিজিবি’র কাছ থেকে নিয়ে যাবেন। তবে কাগজে করেছি- ফারুক নাকি বলেছেন ওটা তার টাকা। কিভাবে এ টাকা ফারুক পেলেন এ জবাব তো তিনিই দেবেন। ঘটনা শোনার পর দিন বেলা ১১টায় আমি ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি বলেছি, রাতে তারা যাচ্ছিল। এরপর কি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো শুনেছি আপনার লোকজন নাকি পিলখানা দখল করে নিয়েছে। এরপর তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তাই কথা হয়নি।
প্রশ্ন: বিজিবি’র কাছে চারজন আটক হয়েছে, পত্রিকায় জানা গেছে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনজন বাদে ড্রাইভার এখন কোথায় আছে?
উত্তর: এ প্রশ্নটি বিজিবিকে করতে হবে। আমার মন্ত্রণালয় তো তাকে আটকায়নি। তাই বিজিবিই জানবে ওই ড্রাইভার এখন কোথায় আছে।
প্রশ্ন: সরকারদলীয় সদস্যরাও আপনি পদত্যাগ করলে তারা সম্মানের চোখে দেখবেন বলে জানাচ্ছেন। তাহলে তারাও কি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য?
উত্তর: আপনি বুঝতে ভুল করেছেন। এমপিদের সঙ্গে সংঘবদ্ধ চক্রকে মেলালে হবে না।
প্রশ্ন: কোন কোন পত্রিকা বলছে চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। দুই জন সরকারি কর্মকর্তার কাছে এত টাকা থাকা কি স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক?
উত্তর : পত্রিকায় জেনেছি কেউ বলেন ৭০, কেউ বলেন ৭৪। তবে চার কোটি ৭৪ লাখ টাকা চার জনে বয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। যা-ই হোক টাকা কত ছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজিবি জানতে পারবে। কারণ সরকারি এজেন্সি হিসেবে নিশ্চয়ই তারা টাকা গুনেছে এবং গুনে ফেরত দিয়েছে।
প্রশ্ন: আমাদের কাছে ভিডিও রেকর্ড রয়েছে মৃধা কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তিন জনের বক্তব্য অনুযায়ী টাকা নিয়ে তারা আপনার বাসার দিকে যাচ্ছিলেন- এ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
উত্তর: আপনার কাছে ভিডিও রেকর্ড থাকলে তদন্ত কমিটির কাছে দিয়ে দিন। এটা তারা নিতে পারে।
প্রশ্ন: কথা উঠেছে এপিএস ও জিএমকে আপনি ছাড়িয়ে এনেছেন?
উত্তর : প্রশ্নই আসে না। এ সম্পর্কে আমি প্রথমেই বলেছি।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক জীবনে আপনি অন্যের দিকে যথেষ্ট তীর বিদ্ধ করেছেন? এখন সব তীর আপনার দিকে? এখন আপনার মনের অবস্থা কি?
উত্তর: ‘চির সুখী জন, ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন, বুঝিতে কি পারে, কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিষে দংশেনি যারে’। আমি যে কথা বলেছি সব বিশ্বাস থেকেই বলেছি। আমি আগেও যেভাবে তীর বিদ্ধ করেছি, অবশিষ্ট জীবন সেভাবেই চলবে। যে তীর আসছে সবার সহযোগিতায় উত্তরণ করতে পারবো।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে