Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৩-২০১২

গুজরাটে ২৩ মুসলিম হত্যার দায়ে ১৮ জনের যাবজ্জীবন

গুজরাটে ২৩ মুসলিম হত্যার দায়ে ১৮ জনের যাবজ্জীবন
নয়াদিল্লী, ১২ এপ্রিল- গুজরাটের একটি বিশেষ আদালত ২৩ জন নিরীহ মুসলমানকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে আজ ১৮ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৫ জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে।


গত সোমবার আনন্দ জেলার বিশেষ আদালত এ মামলার ৪৭ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত অপর ২৩ জন আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়। সুপ্রিম কোর্ট গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর চার্জশিটে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তির মামলা চলাকালীন মৃত্যু হয়। এ ছাড়া, দু'জন আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০০২ সালে গুজরাটের গোধারায় একটি ট্রেনে আগুন দেয়াকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গা উস্কে দেয়া হয়। এরই জের ধরে আনন্দ জেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওদে গ্রাম ১ মার্চ রাতে প্রায় দুই হাজার উগ্র হিন্দু হামলা চালায়। তারা ২০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে ৯ শিশু-সহ ২৪ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। দাঙ্গার হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পাওয়ার আশায় ওই সব বাড়িতে যারা আশ্রয় নিয়েছিল তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল নারী ও শিশু।
এঘটনার বিষয়ে গুজরাটের পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তা প্রত্যাখ্যান করার পর ভারতের ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন বা এনএইচসিআর তা পুনরায় তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি পেশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এ ঘটনার তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি গঠিত হয়।
এসআইটি'র তদন্ত শেষে বিচারক এস ওয়াই ত্রিবেদী হত্যা, দাঙ্গা, ষড়যন্ত্র এবং বেআইনি সমাবেশের দায়ে ৪৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিলেন।
মজিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি ওই দাঙ্গায় তার মাসহ পরিবারের ১৩ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। এ ছাড়া, তার জ্ঞাতি ভাই শফিক মোহাম্মদ হারিয়েছেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে।
গত দশ বছরে তারা  দাঙ্গায় ভস্মীভূত নিজ বসত বাড়িতে ফিরে যাননি। এ মামলার প্রধান ফরিয়াদি রফিক ভাই ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বাস করলেও তিনি কখনোই আর নিজ এলাকায় ফিরে যাননি। তার পরিবার দাঙ্গার হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেও তিনি বাড়ি এবং ব্যবসাসহ সব হারিয়েছেন। আনন্দ জেলার কাছে ত্রাণ কমিটি দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের জন্য একটি আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। এখন সেখানেই বসবাস করছেন তারা সবাই।
এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মামলা ২০০৯ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছিল। আদালত ১৫৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে এবং এদের মধ্যে ৩৫ জনকে বৈরী বলে ঘোষণা করেছে।
গুজরাটের দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এসআইটি তদন্ত শেষে এ পর্যন্ত ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সব মামলার মধ্য এ নিয়ে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে