Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ , ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৩-২০১২

ঢাকাতে আমিই প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী হচ্ছি: শিরীন

ঢাকাতে আমিই প্রথম নারী মেয়র প্রার্থী হচ্ছি: শিরীন
পেশাজীবী সংগঠন ‘কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার। বর্তমানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। বাম রাজনীতিতে তার পর্দাপণ শুরু ৬৯ গণঅভ্যুত্থান থেকে। পরবর্তীতে ৭১ মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ, নব্বইয়ের স্বৈরাচাররিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্পূক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন নারী ও শিশুদের নিয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও সঙ্গে সম্পুক্ত।
১৯৬৯ সালে এসএসসি পাশ করেন আজিমপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এইচএসসি পাশ করেন বদরুন্নেসা কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৮০ সালে মাস্টার্স করেন। রাজনীতিক মাঠ গরম করার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল ও পত্র পত্রিকায় গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন যা বিভিন্ন সময় আলোচিত সমলোচিত হয়েছে। ৮৩ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ১৯৯১ সালে নারীর ক্ষমতায়ন, নারী-পুরুষ সমকাজে সমমজুরি ও সমমর্যাদা এবং সকল নারীই কর্মজীবী নারী ডাক নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘কর্মজীবী নারী সংগঠন’। ২০০৬ সালে গামেন্টর্স শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলের মা। ছেলে অমিত মনসিজ পেশায় চিকিৎসক। গণমানুষের রাজনীতি করা শিরিন আক্তার এবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তরের মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।

শিরীন আখতারের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নুর মোহাম্মদ।

প্রশ্ন: শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ নাকি আপনার দিকে?

শিরীন আখতার: কে বলেছে আপনাকে? প্রধানমন্ত্রী কোনো আশীর্বাদ আমার দিকে নেই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ তো অনেকের দিকেই থাকে।

প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই নাকি দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রচারণা চালাচ্ছেন?

শিরীন আখতার: মোটেও ঠিক না। আমি ছোটবেলা আজিমপুরে কেটেছে সে জন্য প্রথম দিকে দক্ষিণে প্রচারণা চালিয়েছি। মহাজোট বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশনা পেয়ে নয় বরং নিজের পক্ষ থেকেই উত্তরে নির্বাচন করার জন্য কাজ করছি। এটা আমার নিজের মতো করে করছি।

প্রশ্ন: উত্তরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মায়া তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

শিরীন আখতার: এটা স্থানীয় নির্বাচন । যে কেউ তার প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারেন এবং নির্বাচন করতে পারেন। তাছাড়া একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচন করতে পারেন। আসলে জোট বা দলের কে সমর্থন পাবে সেটা নিয়ে সমঝোতা হয়। তখন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রশ্ন: মায়া এবং মান্নার মতো ব্যক্তিদের কাছে আপনি নিজেকে কতটুকু সাংগঠনিকভাবে যোগ্য মনে করছেন?

শিরীন আখতার: দেখুন আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি, আন্দোলন সংগ্রাম করছি, ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছি। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে সাথে যুক্ত ছিলাম। নারী, শিশু ও শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘসময় আন্দোলন করেছি। সে হিসেবে আমি মনে করি ঢাকাবাসীর সেবা করতে পারবো। তাছাড়া ঢাকার চার’শ বছরের ইতিহাস দেখলে দেখা যায় কোনো নারী মেয়র প্রার্থী হননি। সে হিসেবে আমি একজন নারী প্রার্থী হিসেবে গর্ববোধ করি এবং সবার সমর্থন  কামনা করছি।

প্রশ্ন: মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেলে কী করবেন?

শিরীন আখতার: এসব প্রশ্নে জবাব আরো পরে, এখন নয়। জনগণের জন্য আমি কাজ করতে চাই। এই মুহূর্তে মনোনয়ন নিয়ে কিছুই ভাবছি না। তবে নির্বাচন করছি, এটাই শেষ কথা।

প্রশ্ন : মনোনয়ন না দিলে এককভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা আছে কী?

শিরীন আখতার: আমি নির্বাচন করার জন্য মাঠে নেমেছে। সেক্ষেত্রে আমি সবার সমর্থন নিয়েই নির্বাচনটা  করতে চাই।

প্রশ্ন: মেয়র নির্বাচন করতে গেলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এই কোটি  কোটি টাকা আপনি কীভাবে যোগাড় করবেন?

শিরীন আখতার: জনগণের সমর্থনে নিয়েই এতোদূর এসেছি। আগামীতেও জনগণের ওপর নির্ভয় করতে করে নির্বাচন করতে চাই। আমার পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী আর বন্ধুদের সহযোগিতায় এই নির্বাচন করতে চাই।

প্রশ্ন: অনেক পোস্টার করেছেন, কত টাকা খরচ হয়েছে?

শিরীন আখতার: আমি করেনি, জনগণ করেছে। যারা আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান তারা এ প্রচার করেছেন।

প্রশ্ন : আপনার সমর্থকরা প্রচারের জন্য কত টাকা খরচ করেছেন তার কোনো হিসাব আপনার কাছে আছে কী?

শিরীন আখতার: কে কত টাকা খরচ করেছেন তা আমি কেমনে বলবো। কে কোন জায়গা কতো টাকা খরচ করেছেন তা আমি জানি না।

প্রশ্ন: আপনার ইনকামের সোর্স কি?

শিরীন আখতার: ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করা আসলে আমাদের মতো ব্যক্তির পক্ষে  কঠিন। আমি জনগণের শুভেচ্ছাতেই এই নির্বাচনটা করবো।

প্রশ্ন : বসবাসাযোগ্য ঢাকা গড়ার কথা আপনার পোস্টারে বলছেন। এটা কীভাবে করবেন?

শিরীন আখতার: মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথমে আমি ঢাকাকে বাসযোগ্য ও মানবিক নগর গড়ার কাজটি হাতে নিব। এ জন্য দরকার সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগ। নগরের মায়েদের দিনের বেশিরভাগ সময় চলে যায় সন্তানের স্কুলের পেছনে। এ ছাড়া প্রতি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার’, সামাজিক আড্ডার জন্য ‘মাল্টিসেক্টরাল কমিউনিটি সেন্টার’ ও শিশুদের জন্য খেলার মাঠ করার কাজটা আগে করতে চাই।  ঢাকার ৪০০ বছরের ইতিহাসে কোনো নারী মেয়র হননি। নারী হিসেবে, শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকাকে স্বপ্নের শহরে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ নিতে চাই।

প্রশ্ন: উত্তরের জন্য আলাদা কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কী?

শিরীন আখতার: ডিসিসির আর্থিক সামর্থ সব সময়ই দুর্বল। এর মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে এবং হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চেষ্টা করব ফান্ডকে শক্তিশালী করতে। তবে সীমিত সামর্থের মধ্যেই নগর পরিকল্পনায় আমি জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ তথা সাধারণ মানুষের পরামর্শকে কাজে লাগাতে চাই। উন্নয়ন পরিকল্পনায় যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চাই।

প্রশ্ন: ঢাকার যানজট একটা নিত্যনৈমত্তিক সমস্যা হয়েছে দাঁড়িয়েছে।

শিরীন আখতার: যানজট ঢাকার নতুন সমস্য নয়। এটাকে একবারে কমানো সম্ভব না হলেও একটা সহনশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রথমে যে কাজটা করতে হবে গণপরিবহন বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে হবে। আমি প্রথমে এই দুটো কাজ শুরু করবো যানজট কমানোর জন্য।

প্রশ্ন: আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। মেয়র নিবার্চিত হলে তাদের জন্য কী করবেন?

শিরীন আখতার: প্রথম তো নারীর শ্রমের মূল্যায়ন করা। তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে কি না সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলের জন্য প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা ব্যয় করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একই মানসম্মত স্কুল স্থাপন করতে পারলে মা ও শিশুদের প্রতিদিনের কষ্টটা কিছু লাগব করা সম্ভব হবে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মুদি দোকানদার, কাঁচামাল ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া মানুষই এই শহরের প্রাণ। নির্বাচিত হতে পারলে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়েই সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে কাজ করব।

প্রশ্ন: নারায়ণগঞ্জের আইভীর মতো ডিসিসি মেয়র হিসেবে কোনো চমক দেখাতে চান কী না?

শিরীন আখতার: আইভী তো আইভীই। আমি আইভী নই, শিরিন আক্তার। এখানে চমক বড় বিষয় নয়, মানুষ যা আশা করছে সেটা বড় বিষয়। সাধারণ জনগণ কতোটা আশা করছে আর আমি কতটুকু দিতে পারলাম সেটিই হলো মুখ্য বিষয়।

প্রশ্ন: আপনারা এক সময় বাম রাজনীতি করতেন। এখন আপনাদের রাজনীতি পুরো বুর্জোয়া। এটাকে আপনি উত্তরণ নাকি অধঃপতন বলবেন?

শিরীন আখতার: প্রথমে বলবো আমাদের রাজনীতি কখনো বুর্জোয়া ছিল না, এখনো নেই। আমাদের আর্দশ হলো সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি। আমি মনে করি আমাদের সামর্থ অনুযায়ী এটা করতে অনেক অংশে সফল হয়েছি।

প্রশ্ন: আপনাকে ধন্যবাদ

শিরীন আখতার: আপনাকেও ধন্যবাদ।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে