Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৭ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১২-২০১২

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ায় বুধবার দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৬। স্থানীয় সময় ৩টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্পের পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়। ইন্দোনেশিয়ার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বান্দা আচেহ? প্রদেশ থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে এবং এর কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের নিচে ২০ মাইল মাটির গভীরে। এই কম্পনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আচেহ প্রদেশে আবারো ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রথম ভূমিকম্প ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হলেও পরে তা ৮.৬ মাত্রার ছিল বলে জানানো হয়। এর পরই ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ ২৬টি দেশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টা পর বেশিরভাগ এলাকাতেই সুনামির আশঙ্কা কেটে গেছে বলে জানিয়েছে প্যাসিফিক সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র। আচেহ প্রদেশে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োধোইয়োনো বামবাং। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, আপাতত ভয়ের কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ২০০৪ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছেই এই নগরী অবস্থিত। ওই ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ২০ হাজার লোক মারা যায়। এর মধ্যে আচেহ প্রদেশেই ১ লাখ ৭০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বান্দা আচেহর বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় মাটি ব্যাপকভাবে কাঁপছিল। স্থানীয় মেট্রো টিভির খবরে বলা হয়, 'এ সময় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বান্দা আচেহর সব জায়গায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।' ভূমিকম্পের পরপরই ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের কারণে আচেহ প্রদেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং বিপদ সঙ্কেতের মুখে মানুষজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো বলেন, 'বিদ্যুৎ নেই। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় যাওয়ার জন্য যানজট লেগে গেছে। এছাড়া মসজিদ থেকে কোরআন পাঠ করা হচ্ছে এবং সাইরেন বাজানো হচ্ছে।' ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৮ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এরপরই প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার থেকে ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ভারতসহ ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মৌরিতানিয়া, পাকিস্তান, সোমালিয়া, ওমান, মাদাগাস্কার, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুরসহ আরো কয়েকটি দেশের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। কিন্তু পরে প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার এই সতর্কতা তুলে নেয়। আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করেই থমকে যায় শহরটির জীবনযাত্রা। এ সময় বিভিন্ন ভবন দুলতে থাকে। ফলে লোকজন ভয়ে বাইরে চলে আসে। ভূমিকম্পের কারণে কলকাতা মেট্রো চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। কিছু পরে খবর আসে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। উত্তর কলকাতায় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। ভূমিকম্পের ফলে পার্কস্ট্রিটের এপিজি হাউসেও ফাটল দেখা দিয়েছে। এরপরই রাজ্য প্রশাসন রেড অ্যালার্ট জারি করে। ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থ ও আবহাওয়া সংস্থার বিশেষজ্ঞ মারজুকি বলেন, 'আচেহ, উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা, বেংকুলু ও লামপাং_ এই পাঁচটি প্রদেশ সবচেয়ে সুনামি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।' এই জায়গাগুলো একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা এবং এখানে কয়েকটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগ স্থল রয়েছে, যাদের নড়াচড়ার ফলে প্রায়ই এ এলাকায় ভূমিকম্প বা সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে