Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ , ৫ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (28 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৯-২০১১

তাহলে ইমরান খানও!

তাহলে ইমরান খানও!
ম্যাচ পাতানো ঝড়ে সেই কবে থেকেই টালমাটাল পাকিস্তানের ক্রিকেট। ম্যাচ পাতানো, ঘুষ?এসব নিয়ে শোয়েব আখতার সম্প্রতি তাঁর আত্মজীবনীতেও লিখেছেন। বিভিন্ন সময় অনেক জায়গাতেই পাকিস্তানের সাবেক অনেক ক্রিকেটারের নাম এসেছে। স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে আইসিসির শাস্তি ভোগ করছেন সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির। তবে ইমরান খানের নাম কোথাও কখনো এর সঙ্গে জড়ায়নি। পাকিস্তান ক্রিকেটের ?দেবদূত? হয়েই ছিলেন তিনি।
এখন দেখা যাচ্ছে এই দেবদূতেরও বাজিকরদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। স্প্রেড বেটিং থেকে তিনিও টাকা কামিয়েছেন! ?বাজি?র সঙ্গে ইমরানের নাম আর কেউ জড়ায়নি, পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক নিজেই জানিয়েছেন নিজের কথা।
নিজের নতুন লেখা বই, পাকিস্তান: এ পার্সোনাল হিস্টরিতে তিনি লিখেছেন, টাকা নিয়ে বাজিকরকে টিপস দেওয়ার কথা। তবে এই কাজটি তিনি করেছেন ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর। কেন করেছেন, বইয়ে সেটিও লিখেছেন ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে নামা সাবেক অলরাউন্ডার।
ঋণে পড়ে গিয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক দল তেহেরিক-ই-ইনসাফ। দলকে ঋণমুক্ত করতেই টাকা নিয়ে বাজিকরকে টিপস দিয়েছিলেন তিনি। ?নির্বাচনের সময় যে ঋণ জমেছিল, সেটা শোধ করতে আমার দলের প্রায় এক বছর লেগে যায়। শেষবারের টাকাটা আমরা এই অস্বাভাবিক পথে শোধ করেছিলাম??বলেছেন ইমরান।
ঘটনাটা ২০০২ সালের। ইংল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তখনই তিনি খপ্পরে পড়েন বাজির সঙ্গে যুক্ত শ্যালক বেন গোল্ডস্মিথের। ইমরান তাঁর বইয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ?আমি পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে ছিলাম। আমার স্ত্রীর ভাই প্রতিদিনই আমাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে কী হবে। আমি আবিষ্কার করলাম তার এই আগ্রহ স্প্রেড-বেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই। আমি ম্যাচটা দেখলাম এবং তাকে সাহায্য করলাম। ১০ হাজার পাউন্ড ক্ষতি পুষিয়ে সে লাভও করল এবং আমার পার্টিও ঋণমুক্ত হলো।?
পরে নাকি গোল্ডস্মিথকে বাজিকরেরা বলেছিল, দুলাভাই ইমরানের সঙ্গে বসে খেলা দেখতে পারবে না সে। ব্রিটেনের কোটিপতি গোল্ডস্মিথ ইমরানের স্ত্রী জেমিমার ভাই। ইমরান-জেমিমার বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। ২০০৪ সালে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার আগের ঘটনা এটি।
তবে এই একটা ঘটনা ছাড়া ইমরান আর কখনো বাজিকরদের সংস্পর্শে আসেননি বলেই লিখেছেন বইয়ে, ?আমি জীবনে কখনো বাজিতে জড়াইনি। কখনো এর প্রতি আকর্ষণও বোধ করিনি। শুধু দলের ঋণমুক্তির জন্যই আমি আমার শ্যালকের সঙ্গে দুই দিন বসে খেলা দেখেছি এবং তাকে পরামর্শ দিয়েছি কখন কী করতে হবে।?
খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরান ছিলেন সুদর্শন এক পুরুষ। তাঁকে ঘিরে আগ্রহ ছিল বিশ্বের নানা দেশের তরুণীদের। ভারত ও পাকিস্তানের পত্রপত্রিকায় বছরের পর বছর ধরে ইমরানের বিয়ে নানা গল্পগাথা লেখা হতো।
বিয়ে নিয়ে একটি মজার ঘটনা ইমরান বর্ণনা করেছেন এভাবে, ?আমার বাবা একসময় বিরক্ত হয়ে বিষয়টি নিজেই দেখার সিদ্ধান্ত নেন। বাবা আমাকে তাঁর বন্ধুর বাড়িতে চায়ের দাওয়াতে নিয়ে গেলেন, যাতে তাঁর বন্ধুর মেয়েটিকে আমি দেখি। কিন্তু মেয়েটি যখন এল, বিব্রত আমি ওর দিকে বলতে গেলে তাকাইনি। মেয়েটির মা সেই সময় আমার সঙ্গে এমন করতে লাগল যেন আমি মধ্যবয়সী নই, ২৫ বছরের এক যুবক। এমনকি তিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ নিচ্ছিলেন। যেটা মানুষ বিশের কোঠায় পড়া কাউকে জিজ্ঞেস করে। আমি ও বাবা বিদায় নিয়ে উঠে আসার মধ্য দিয়েই এ যন্ত্রণার শেষ হয়। ফেরার পথে তিনি আর জিজ্ঞেসই করল না, মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে কিনা।?
বাবার উদ্যোগের শেষ কীভাবে হলো ইমরান সেটাও লিখেছেন, ?তিনি বুঝতে পারলেন, পরিস্থিতি কতটা হাস্যকর ছিল। পরে আমি আর বাবা দুজনেই খুব হেসেছিলাম এবং আমি খুব শান্তভাবে তাঁকে বলেছিলাম, আমার জন্য যেন আর মেয়ে না খোঁজেন!?

ফুটবল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে