Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১১-২০১২

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন : বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি অকল্পনীয়

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন : বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি অকল্পনীয়
বাংলাদেশের পরিচিতি দারিদ্র্যপীড়িত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে। কিন্তু দেশটিতে নারীর অগ্রগতি অন্যান্য মুসলিম সমাজের চেয়ে অকল্পনীয়। বাংলাদেশের নারীরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছেন। দেশটিতে নারী রাষ্ট্রদূত, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং বৈমানিক রয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব দুই নারী। তাদের একজন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অপরজন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। উভয়ে পালাক্রমে দেশটির ক্ষমতার হাল ধরেন। পার্লামেন্টে নারীর আসনসংখ্যা শতকরা ১৯ দশমিক ৭
শতাংশ। ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে এ হার ২২ দশমিক ৩, যা বাংলাদেশের চেয়ে খুব একটা বেশি নয়। এ বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এ দেশে মেয়েরা সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে দীপু মনি নারীর অধিকার এবং স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে সব সরকারের আমলে এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যাহত চেষ্টায় দেশজুড়ে নারীর ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম এবং শহরে নারীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ বিস্তৃত হওয়ায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। কয়েক দশকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে লাখো নারীর কর্মসংস্থান তাদের পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন, অগ্রগতি এবং সার্বিক উন্নয়নের ওপর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় জনপ্রিয় 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর ৯ এপ্রিল সংখ্যায়। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক বেটিনা ওয়াসেনার 'সাকসেস ইন অ্যা ল্যান্ড লোন ফর ডিজাস্টার্স' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে গাড়িতে চার ঘণ্টা লাগে সমেশপুর যেতে। হতদরিদ্র গ্রামটিতে প্রায় এক হাজার লোকের বাস। সমেশপুরে এলে বোঝা যায়, বাংলাদেশি নারীর বেঁচে থাকার সংগ্রাম কত কঠিন। কিন্তু এ গ্রামের মেয়েদের জীবনেও পরিবর্তন ঘটে গেছে। দু'সন্তানের মা নূরজাহানসহ (২৬) এ গ্রামের অনেক নারী এখন ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সাহায্যে স্বাবলম্বী। তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। তাদের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ দুস্থ নারীর জন্য দু'বছর মেয়াদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তারা স্থানীয় সড়ক উন্নয়নে শ্রম দিচ্ছে। বিনিময়ে পাচ্ছে দৈনিক এক দশমিক ২০ ডলার করে (গড়ে ১০০ টাকা); যা দিয়ে ধীরে ধীরে তারা জমি কিনে বাড়িঘর তৈরি ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে এবং সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশে মূল উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা অফিসের জ্যেষ্ঠ সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা ফেরদৌসী সুলতানা বেগম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য নারী বিধবা হন। তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। বিগত দুই দশক ধরে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষাসুবিধা ও প্রাপ্তি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। মেয়েরা সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে। পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের নারীর জীবনযাত্রার উন্নয়নের কিছু চিত্র পাওয়া যায়। যেমন, টিনএজ মায়ের প্রসব হার ২০০০ সালে ছিল প্রতি এক হাজারে ১৩০ দশমিক ৫ ভাগ। ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৯ ভাগে। যদিও পশ্চিমা মানদণ্ডে এ হার এখনও অনেক বেশি। প্রতিবেশী ভারতে এ হার প্রতি হাজারে ৮৬ দশমিক ৩ ভাগ। যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। শিশু মৃত্যুহার বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৫২, ভারতে ৬৬ এবং পাকিস্তানে ৮৭। সেদিক থেকে বাংলাদেশে জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আশির দশকে বাংলাদেশে এক নারীর গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ১। ২০০৯ সাল নাগাদ এ হার ২ দশমিক ৩ ভাগে নেমে এসেছে। ভারতে বর্তমানে জন্মহার নারীপ্রতি ২ দশমিক ৭ (সন্তান)। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যে এ সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীর ঝরে যাওয়া হারে বিশ্বের ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬ নম্বরে। জাতিসংঘের তৈরি এ তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার অবস্থান মিয়ানমার বা আফ্রিকার অনেক দেশের তুলনায় ভালো। তবে ইরাকের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্বল অবকাঠামো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কষ্টের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিনষ্ট করছে অর্জিত সাফল্য। পল্লী এলাকায় পানি এবং বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। আয়তনের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের চেয়েও ছোট বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ লোক পল্লী এলাকায় বসবাস করে। পল্লী জীবনে প্রতিনিয়ত গৃহবিবাদ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে রয়েছে যৌতুকের জন্য নির্মমতা। তারপরেও সমাজে শিক্ষিত যেসব মহিলা ক্ষমতার অধিকারী তারা পুরুষ আত্মীয়স্বজনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। সমাজে রক্ষণশীল ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম সমাজে নারীর ক্ষমতা যেভাবে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্রটি তেমন নয়।
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রান্তিক সমস্যা। দেশটিতে নারী উন্নয়ন প্রকল্প ধর্মীয় রক্ষণশীলতা থেকে খুব সামান্যই বাধা পায়। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ উদারপন্থি মুসলমান। হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, নারীরা ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে এ বিষয়টি সমাজে স্বীকৃত।
আশির দশক থেকে যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা থেকে নারীরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছেন। তারা এ আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তৈরি পোশাকশিল্পে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি পোশাক দেশটির মোট রফতানির চার ভাগের তিন ভাগ। চট্টগ্রামের মোস্তফা গার্মেন্টস কারখানায় কয়েক হাজার মহিলা আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য শটস (হাফপ্যান্ট) তৈরি করছেন। সে ফ্যাক্টরির জেনারেল ম্যানেজার কল্লোল মজুমদার জানান, এসব নারী শ্রমিকের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা গড়ে দৈনিক ২ মার্কিন ডলার মজুরি পান। এ থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশের নারীরা নিজেদের আয়েই জীবন ধারণ করছেন। তারা পশ্চিমা বিশ্বের দানের ওপর আর নির্ভরশীল নন।
ঢাকার ইউএনডিপির পরিচালক স্টেফান প্রিজনার বলেন, বাংলাদেশ আর্থিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন ঘটছে কৃষি খাত থেকে উৎপাদন খাত পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা ব্যাপক।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনও পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। উচ্চশিক্ষায় নারীর ভর্তি আগের চেয়ে ক্রমেই বাড়ছে।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে