Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩০ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২০-২০১৫

ভাগ্য বদলাবে সিলেট-সুনামগঞ্জের দুই সেতু

ভাগ্য বদলাবে সিলেট-সুনামগঞ্জের দুই সেতু

সিলেট, ২০ আগষ্ট- বৃহত্তর সিলেটে নদ-নদীকে গাঙ বলা হয়। আঞ্চলিক এই নামেই নদ-নদীর পরিচিতি। এখানকার জীব বৈচিত্র্যের মূল প্রাণশক্তিই এই গাঙ। আর সেই গাঙগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সুরমা ও কুশিয়ারা। ওই দুই নদরীর দুই পাড়ে বাস হাজারো মানুষের। তাদের সুবিধার জন্য সুরমা-কুশিয়ারার উপর দুটি সেতু নির্মাণ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই দুই সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেতু দুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে সুরমা ও কুশিয়ারা পাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে ৯টি সেতু উদ্বোধন করেছেন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় নবনির্মিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানিবাজার সড়কে কুশিয়ারা নদীর ওপর চান্দেরপুর সেতু ও সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ওপর আবদুজ জহুর সেতুও উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও একই সময় মাদারীপুর-শরিয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের মাদারীপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আসমত আলী খান ব্রিজ, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ রাসেল সেতু, কক্সবাজারের চকোরিয়া-বদরখালী-মহেশখালী সড়কে বেতাখালী সেতু, এবং গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা-নকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে করতোয়া নদীর উপর বরদহ ব্রিজ উদ্বোধন করেন তিনি।

সেতুগুলো উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সেতুর মাধ্যমেই এখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।’

এদিকে, সিলেটের দুটি সেতু উদ্বোধন করায় সুরমা ও কুশিয়ারা পাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দের বন্যা। কারণ, সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানিবাজার সড়কে কুশিয়ারা নদীর ওপর নবনির্মিত চান্দেরপুর সেতু প্রায় ১৫ বছর পর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


সেতুটি উদ্বোধনকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিলেট-হবিগঞ্জ আসনের মহিলা সংসদ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, সিসিকের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষের মোনাজাতও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ-সিলেট সড়কের চন্দরপুর-সুনামপুরের মধ্যবর্তী কুশিয়ারা নদীতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৩-০৪ অর্থবছরে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে নির্মিতি অ্যান্ড ওহিদুজ্জামান চৌধুরী জয়েন্টভেঞ্চার নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রথমদিকে বেশ দ্রুত গতিতে কাজ হলেও ২০০৫ সালে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ।

সওজ সূত্র জানায়, সেতুটির নকশায় কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হওয়ায় ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ২০০৫ সালে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হলেও ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছিল চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু। ২০০৯-১০ অর্থবছরে সেতুটি কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য এটিকে অসমাপ্ত সেতু সমাপ্তকরণ প্রকল্পের আওতায় এনে সেতুর নকশায় কিছুটা পরিবর্তন করে। ওই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বাড়ে ৭ কোটি টাকা। সেসময় সওজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার অবসান হয়েছে এবং ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করবে। কিন্তু নানা জটিলতায় তা পেছাতে থাকে। এক সময় মানুষের মনে শঙ্কা জেগেছিল- সেতু পূর্ণাঙ্গ হবে তো?

অবশেষে দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভগুলোকে সেতুতে রূপ দেয়ার দায়িত্ব নেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর অসম্পূর্ণ সেতুর নির্মানকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ-সিলেট সড়কের চন্দরপুর-সুনামপুরের মধ্যবর্তী কুশিয়ারা নদীতে নির্মিত এই সেতু সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সিলেট থেকে বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা উপজেলায় যাতায়াতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় বাঁচবে।

শুধু কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়নি। পাশাপাশি সুরমা নদীর উপরও একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুটি সুনামগঞ্জ জেলায়। এতে করে সিলেটের পাশাপাশি সুনামগঞ্জবাসীর স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না।

এই লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকায় সুরমা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ কাজ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩ কোটি টাকা। পরে সেতুর নকশা পরিবর্তন করে নতুনভাবে ব্যয় ধরা হয় ৭১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা। আজ উদ্বোধনের পরই যানবাহন চলাচলের জন্যে সেতুটি খুলে দেয়া হয়েছে।


এদিকে, সেতুটি উদ্বোধনের পর সুনামগঞ্জ শহরে আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের নেতৃত্বে তারা একটি গাড়িবহর নিয়ে সেতুর উপর কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখানেও আনন্দ মিছিল করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি সুনামগঞ্জের উন্নয়নের বাহক হিসেবে কাজ করবে। পর্যটন অঞ্চল গড়ে উঠবে অতি সহজেই। এ অঞ্চলের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

সুরমার উত্তর পাড়ে রয়েছে- মাছ, সবজি, বালি ও পাথরের বিরাট সম্ভার। সেতু হওয়ায় অতি সহজেই কম খরচে এসব মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হবে। এই সেতুর ফলে জেলার তাহিরপুর, বিশম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। জেলার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প ব্যাপক বিকাশ লাভ করবে। বিশেষ করে দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে ঘোষিত টাঙগুয়ার হাওরসহ সুনাগঞ্জের হাওরাঞ্চল দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এছাড়া মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুরমা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুজ জহুরের নামে নামকরণের সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগষ্ট মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়। এতে জানা যায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম রাখা হয়েছে আব্দুজ জহুর সেতু।

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে