Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০ , ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (168 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১০-২০১২

জামালপুরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোল্ট্রি খামার

জামালপুরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোল্ট্রি খামার
জামালপুরের পোল্ট্রিশিল্প বার্ড ফ্লুর আক্রমণে ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই মাসে চার লক্ষাধিক মুরগি বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হওয়ায় তিন শতাধিক পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। পুঁজি হারিয়ে পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন খামার মালিকরা। জামালপুরের সাত উপজেলায় ১৯৭টি লেয়ার এবং ২৯১টি ব্রয়লার খামার রয়েছে। খামারগুলোতে লেয়ার মুরগি ছিল প্রায় দুই লাখ এবং ব্রয়লার মুরগি ছিল প্রায় আড়াই লাখ। গত দুই মাসে খামারগুলোতে বার্ড ফ্লু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে মারা গেছে লক্ষাধিক মুরগি। বাধ্য হয়ে আক্রান্ত মুরগি কম দামে বিক্রি করছেন আতঙ্কিত খামারিরা। যদিও জামালপুরের কোথাও বার্ড ফ্লু আক্রান্ত মুরগি পাওয়ার তথ্য নেই জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে। তারা বলছেন রানীক্ষেত রোগের কথা। এদিকে আক্রান্ত মুরগি ধ্বংস না করে খোলা বাজারে বিক্রি করায় জেলায় বার্ড ফ্লু প্রকোপ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মানবদেহে এ রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি। অনুসন্ধানে জানা যায়, জামালপুরের বার্ড ফ্লু আক্রান্ত মুরগি স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। আক্রান্ত মুরগি নিধনের নিয়ম থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকায় খোলা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বার্ড ফ্লু'র কারণে অধিকাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে ডিমের দাম এখন আকাশচুম্বি। জামালপুরের বাজারে প্রতি হালি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বার্ড ফ্লু আতঙ্কে গত দুই মাসের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার তিন শতাধিক পোল্ট্রি খামার। সেই সঙ্গে বেকার হয়ে পড়েছেন এ পেশার প্রায় ২০ হাজার পোল্ট্রি শ্রমিক। আর এই জন্য খামারিরা দায়ী করছে সরকারি নীতিমালাকে। যোগীরঘোপা এলাকারপোল্ট্রি খামারি শোয়েব হোসেন জানান, ডিম উৎপাদনে আসার কিছুদিনের মধ্যেই তার মুরগির খামারে বার্ড ফ্লু দেখা দেয়। এ সময় মারা যায় বেশ কিছু মুরগি। এক সপ্তাহ চিকিৎসা করার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে খামারেরদেড় হাজার মুরগি ঢাকার পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০ সপ্তাহের উপরের বয়সের বার্ড ফ্লু আক্রান্ত দেশি মুরগি ধ্বংস করলে সরকার ১৮০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। অথচ একই বয়সের লেয়ার মুরগি ধ্বংস করলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় মাত্র ১৫০ টাকা। আর সরকারের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেও পেরিয়ে যায় অনেক সময়। তাই কাউকে না জানিয়ে আক্রান্ত প্রতিটি মুরগি ২১০ টাকা করে খোলা বাজারে বিক্রি করেছেন। খামার মালিক বেলাল হোসেন জানান, সীমান্তবর্তী এ জেলায় দেদার ভারতীয় ডিম ও বাচ্চা প্রবেশ করায় বার্ড ফ্লু ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের সহযোগিতা না পওয়ায় এ রোগের খবর চেপে যাচ্ছেন। তিনি জানান, মুরগির খামার করতে তার খরচ হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। মুরগি বিক্রি করে পেয়েছেন ৪ লাখ টাকা। পুঁজি হারিয়ে এখন তিনি পথে বসেছেন। সরকারি- বেসরকারি ঋণ সহায়তা ছাড়া তার পক্ষে নতুন করে খামার করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই পোল্ট্রি খামারের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হচ্ছে তাকে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলী আজগর বলেন, ২০০৮ সালের পর জামালপুরের কোনো খামারে বার্ড ফ্লু'র অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রানীক্ষেতরোগের সরকারি ভ্যাকসিন ব্যবহার না করে খামারিরা বিভিন্ন কোম্পানির নিম্নমানের ভ্যাকসিন ব্যবহার করছে। তাই রানীক্ষেত রোগে মুরগি মারা যাচ্ছে। আর খামারিরা আতঙ্কিত হয়ে মুরগি বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

জামালপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে