Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (110 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৯-২০১২

নদীর বুকে চাষাবাদ

নদীর বুকে চাষাবাদ
‘একসময় এ নদীতে বড় বড় ঢেউ ছিল। ছিল প্রচণ্ড স্রোত। চলত ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা। জেলেরা মাছ ধরত। নদীরে সৌন্দর্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। এখন পানিও নেই, নেই সেই সৌন্দর্য। এখন আমরা শুষ্ক মৌসুমে এ নদীতে ধান চাষ করি।’
ছোট যমুনা নদী সম্পর্কে সমপ্রতি কথাগুলো বলেন বছির উদ্দিন। তাঁর বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপাড়া গ্রামে। একসময়ের প্রমত্তা ছোট যমুনা নদী শুকিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সমপ্রতি তিনি এ কথাগুলো বলেন।
নদীতে পানি না থাকায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এতে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছেন। কেউবা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ নদীগুলো হচ্ছে ছোট যমুনা, তুলসীগঙ্গা, হারামতী ও শ্রীনদী (চিরি নদী)।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জয়পুরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় এ চারটি নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। উপজেলার উত্তর দিকে উজানে তিস্তা নদীতে বাঁধ দেওয়ায় নদীগুলো শুকিয়ে গেছে।
পাউবো সূত্রে আরও জানা গেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ইছামতি ও খড়খড়িয়া নদীর মিলনস্থল থেকে ছোট যমুনা নদীর উৎপত্তি। নদীটি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হাকিমপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি হয়ে পাঁচবিবির চেঁচড়ায় ঢুকেছে। এটি দিনাজপুরের বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার ওপর দিয়ে পাঁচবিবির আটাপুর ইউনিয়নে ঢুকেছে।
হারামতি নদী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার এলকোর বিল থেকে উৎপত্তি হয়ে হাকিমপুর উপজেলার পূর্ব প্রান্ত দিয়ে পাঁচবিবির মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ঢুকেছে।
জেলার অপর ক্ষুদ্রতম শ্রীনদী (চিরি নদী) দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার নিম্ন ভূমি থেকে উৎপত্তি হয়ে হাকিমপুর উপজেলার ওপর দিয়ে পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নে ঢুকেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট যমুনার পাঁচবিবি উপজেলার চেঁচড়া, আটাপাড়া, রামভদ্রপুর, চক শিমুলিয়া, গোদাইপুর, পার্বতীপুরের ২৭ কিলোমিটার; তুলসীগঙ্গা নদীর উচাই, মহীপুর, জাম্বুবান, ধুরইল এলাকার ৪১ কিলোমিটার; হারামতির রায়গ্রাম, শাইলট্টি, চানপাড়া, শিরট্টি, আমিরপুরের ২০ কিলোমিটার এবং চিরি নদীর শালপাড়া, ধরঞ্জী, নন্দইল, কড়িয়া, হাটখোলার ২০ কিলোমিটার এলাকায় বোরো, পাট, কচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের চাষ হচ্ছে।
ছোট যমুনা নদীর তীরের আটাপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিন ও শমসের বলেন, নদীতে পানি নাই, তাই ধান চাষ করা হয়। কীভাবে ধান চাষ করছেন জানতে চাইলে তাঁরা জানান, নদীর জমি তাঁদের বাপ-দাদাদের সম্পত্তি। এসব জমি নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। এখন চর জেগে ওঠায় উত্তরাধিকার সূত্রে খরা মৌসুমে চাষবাস করি।
পাউবোর জয়পুরহাট কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ এম সেলিম জানান, নদীগুলো পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা ছোট যমুনা নদীর ২৭ কিলোমিটার ও তুলসীগঙ্গা নদীর ৪১ কিলোমিটার খননের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে