Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (32 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৯-২০১২

মমতার সমালোচনায় মুখর ‘বর্তমান’

মমতার সমালোচনায় মুখর ‘বর্তমান’
কলকাতায়, ৯ এপ্রিল: ভারতের কলকাতার ‘বর্তমান’ দৈনিকটি সবসময়ই সিপিএম’র বিরোধী। রাজ্যটিতে বিজেপি সক্রিয় হলে এই দলটির সমর্থনে উঠেপড়ে লাগে বর্তমান। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র কোনো ভবিষ্যত না থাকায় পত্রিকাটি ঝুঁকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতার দিকে। গত নির্বাচনে পত্রিকাটি মমতার পক্ষে ‘অল-আউট’ মাঠে নামে। আর সিপিএম’র বিরুদ্ধে ঘোষণা করে জিহাদ। মমতাকে মহিমান্বিত করার জন্য ‘বর্তমান’ হাজারো প্রতিবেদন ছাপে তাদের পত্রিকায়। ক্ষমতায়্ আসেন মমতা। ক্ষমতায় আসার মাস চারেক পরেই ‘বর্তমান’র সঙ্গে গোল বাঁধে মমতার। অবস্থা দাঁড়ায় ‘বড়র পীরিতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ’।

 

সরকার পরিচালিত গ্রন্থাগারগুলোতে পত্রিকা রাখার যে ফতোয়া জারি করেছেন মমতা, তাতে বাদ পড়েছে ‘বর্তমান’। এরপরই পত্রিকাটি মমতার বিরুদ্ধে ফুঁসতে থাকে। সোমবার ‘কাজ ফুরোতেই পাজি হয়ে গেল বর্তমান?’ শিরোনামে এক লেখা ছাপে পত্রিকাটি। লেখাটি এখানে তুলে ধরা হলো:

 

‘দাদা, দেখেছেন স্কুলে, কলেজে কেমন ছাত্রদের তাণ্ডব শুরু হয়েছে!’

 

‘চুপ, একদম বাজে কথা বলবেন নাঅ ছোট্ট একটা ঘটনা। সর্বত্রই বাচ্চা ছেলেরা অধ্যক্ষদের সঙ্গে একটু মজা করছে। ওটাকে সিপিএম’র সঙ্গে গলা মিলিয়ে তাণ্ডব বলবেন না।’

 

‘পথেঘাটে ক্রাইম কেমন বেড়েছে, নিরাপত্তা আরো কমে গেছে। দেখেছেন তো পুলিশেরই নিরাপত্তা নেই। অপরাধী ধরতে গেলে তাকে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করে দেয়া হচ্ছে।’

 

‘আজেবাজে কথা প্রচার করবেন না তো। সব সাজানো ঘটনা নিয়ে মিডিয়া চেঁচামেচি করছে। সিপিএম’র টাকা খেয়েছেন নাকি?’

 

জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া! মা-মাটি-মানুষ খাবে কী?’

 

‘নিন্দা করাটা আপনাদের বদঅভ্যাস। কলকাতা যদি লন্ডন হয়, তবে দামটাও তো লন্ডনের মতো দিতে হবে! আলুর দাম কেজিতে সাত-আট টাকা বেড়েছে, তো কী হয়েছে! রেলের ভাড়া তো আমরা এক টাকাও বাড়তে দিউনি। ফালতু প্রচার না করে, সরকারের গুণগান করুন।’

 

‘গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের দাদারা, ভাইরা র‌্যান্ডম তোলা (চাঁদা) তুলছে। এ কী হলো রে বাবা! টকের জ্বালায় পালিয়ে এলাম তেতুঁল তলায় বাসা।’

 

‘গত  কয়েকদিনে টিভিতে দেখলাম, কাগজে পড়লাম, উল্টোডাঙ্গায়, বাইপাসে সিপিএম’র হামদার্দের মতো একটা নতুন প্রজাতি রাস্তায় নেমে পুলিশকে সরিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করছে। তাদেরও হাতে ডাণ্ডা, পায়ে চটি, মাথায় পুলিশের হেলমেট। ছেলেমেয়ে বাছবিচার না করে পেটাচ্ছে।’

 

‘কিচ্ছু বোঝেন না আপনারা। আপনারা শুধু মিথ্যা অপপ্রচার করে দিদির ভাবমূর্তি নষ্ট করএত চাইছেন।’

 

‘দিদির যাদবপুরে প্রথম ভোট থেকে শুরু করে, দিদির মাথায় লালুর ডাণ্ডা খাওয়া থেকে শুরু করে, সিঙ্গুর থেকে শুরু করে, নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে একা ‘বর্তমান’ তাঁর পাশে থেকে তার আন্দোলনে সাহায্য করেছে। এখন কাজ ফুরোলে ‘বর্তমান’ পাজি হয়ে গেল?’

 

‘চাড়ুন তো ওসব বাজে কথা। কবে কে কী করেছে, আজ ওনাকে সেটা মনে রাখতে হবে নাকি! জানেন উনি মুখ্যমন্ত্রী। উপরতলায় উঠে পড়লে সিঁড়ির কথা মনে রাখতে নেই রে ভাই।’

 

গত কয়েকদিন ধরেই বাজারে, বাসে, ট্রামে, ট্রেনে, মলে, জনস্রোতে মিশে এমনকি খোদ মহাকরণের অন্দরে যেসব কথা শুনেছি, তারই সারাংশ উপরের কথাগুলি। এরা সবাই মা-মাটি-মানুষের অংশ। তাদের কথাবার্তায় শুনেছি সরকারের প্রতি তীব্র ব্যঙ্গ ও শ্লেষ।

 

সব মিলিয়ে তাহলে কী দাঁড়ালো! ‘আতঙ্ক’ ছবির সেই প্রচ্ছন্ন হুমকি, ‘মাস্টারমশাই আপনি কিন্তু কিচ্ছু দেখেননি।’ এখন কি তাহলে খারাপ কিছু ঘটলে চোখ বন্ধ রাখতে হবে? যদি দেখেও ফেলি, তকে কান বন্ধ করে রাখতে হবে? যদি শুনেও ফেলি, তবে মুখ বন্ধ রাখতে হবে? অর্থাৎ চোখ, কান, মুখঢাকা সেই ‘ভালো বানরে’র গল্পের প্রসঙ্গটা এসে যায়। ‘ভালো বানর’রা খারাপ কিছু দেখে না, খারাপ কিছু শোনে না, খারাপ কিছু দেখলেও তা বলে না।

 

কেউ যতোই ভয় দেখাক বা মগজ ধোলাইয়ের ব্যবস্থা করুক, আমরা ওই ‘ভালো বানরের’ মতো হতে পারবো না।

 

মনে পড়ছে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই কবিতার লাইনটা। সেই যে, ‘রাজা আসে যায় আসে আর যায়, শুধু পোশাকের রং বদলায়, শুধু মুখোশের ডং বদলায়।’ দিনে দিনে বোঝা যাচ্ছে, ‘পরিবর্তন’র লেবেল যতোই মারি, আসলে শুধু পোশাক আর মুখোশের রং বদল হয়েছে। লাল পোশাক হয়েছে সবুজ। ‘সর্বহারা’র মুখোশ এখন পায়ের নিচে পাপোশ। সেখানে ‘মা-মাটি-মানুষ’ এর মুখোশ দেদার বিলি হচ্ছে। মুখোশ কখনো প্রকৃত মুখ হয় না। এই কথাটুকু আমরা বলবোই।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে