Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (56 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৯-২০১২

স্মৃতির  পাতা থেকে তাসরীনা শিখা

স্মৃতির  পাতা থেকে 
তাসরীনা শিখা
জীবনের পথে চলতে চলতে অনেকটা পথই চলে এসেছি । স্মৃতির ডাকে যখন পেছন ফিরে তাঁকাই তখন অনেক কিছুই মনে হয় ঝাপসা, ঘোলাটে। আবার কখনো অবসর সময়ে যখন স্মৃতির খাতা খুলে বসি আর একের পর এক পাতা উল্টাতে থাকি তখন দেখি অযত্নে কত পাতায় ধূলা জমে গেছে। কত পাতার লেখা ঝাপসা হয়ে গেছে, কত পাতা ঝড়েও পড়ে গেছে। আবার দেখি স্মৃতির খাতায় কোন কোন নাম এখনো স্পষ্ট হয়ে লেখা আছে ।
‘কাজী হাবিবুর রহমান’। এটাই ছিল তার পুরো নাম। সব হাবিবুরের ডাক নাম হয় হাবিব, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যপারটা ছিল অন্য রকম। তিনি পরিচিত ছিলেন হাবু নামে। হাবু নামটা বলার সাথে সাথে একজন হাবাগোবা মোটাসোটা মানুষের চিত্র ফুটে উঠে। কিন্তু তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি  ছিলেন সুদর্শন, আধুনিক, রোমান্টিক এক যুবক। দীর্ঘ দশ বছর তিনি আমাদের সাথে কাটিয়েছেন । আমাদের ছোট বেলার সম¯ত স্মৃতিই তাকে ঘিরে। আমাদের ফুপাতো ভাই ছিলেন এই কাজী হাবিবুর রহমান, আমাদের হাবু ভাই। কলেজে পড়ার জন্য আমাদের বাড়ীতে তার থাকতে আসা, যেটা হাবু ভাইয়ের মামার বাড়ী। তারপর দীর্ঘ দশ বছর তিনি কাটিয়েছেন মামার বাড়ীতে। আমাদের ফুপু মারা গেছিলেন হাবু ভাইদের নয় ভাই বোনকে  ফুপার উপর ফেলে রেখে। নয় সন্তান নিয়ে ফুপার দ্বিতীয় বিবাহ করা সম্ভব হয়নি। এই নয় সন্তানকে লালন পালন করতে  করতে স্কুলের হেড মাষ্টার ফুপা কিছুটা ছিটগ্রস্থ হয়ে গেছিলেন।

মামার বাড়ীর কোন অধিকারই আদায় করতে কার্প্যণ করেননি হাবু ভাই। কিন্তু তাকে কিছু দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে। আমরা ভাই বোনরা যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে পড়লে আমাদের যার যার বিছানায় শোয়ানো, মশারী লাগিয়ে দেয়া, আমাদের হাত ধরে স্কুলের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। বৈশাখী মেলায় নিয়ে গিয়ে আমাদের জন্য মাটির পুতুল, মাটির ব্যাংক্, কাঠের ঠুকঠুকি কিনে দিতেন । পাঁচ টাকার জিনিস কিনে  মাকে বলতেন দশ টাকা খরচ হয়েছে। হাবু ভাইয়ের হাতে যখন টাকা পয়সার টানাটানি পরতো তখন হাবু ভাইয়ের বাজারে যাবার খুব সখ হতো। মাকে বলতেন মামী আমি আজ বাজারে যাবো। কাজের মানুষের বাজার খেতে খেতে মুখের রুচী চলে গেছে। মা বলতেন, কেন তুই বাজারে যাবি, তোর কলেজে যেতে হবে না? হাবু ভাই নিবিঘেœ বলে দিতেন না মামী আজ যেতে হবে না কলেজে। আজ কোন দরকারী ক্লাস নাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হাবু ভাই যেদিন বাজারে যেতেন সেদিন বাজারে বড্ড বেশী আকাল পরে যেত। জিনিস পত্রের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুন  হয়ে যেত । কুড়ি টাকার বাজার এনে চল্লিশ টাকার হিসেব দিতেন। মা সবই বুঝতেন, কিন্তু কিছুই বলতেন না। শুধু বলতেন হাবু শোন তোর টাকা পয়সার টান হলে আমাকে বলিস্ না কেন? এটাতো তোর মামারই বাড়ী। আমার মার একটা অভ্যাস ছিল বাজারের ফিরতি টাকা আঁচলে বেধে রাখা । হাবু ভাই সে সুযোগ কখনো হাত ছাড়া করতেন না।  মার পেছনে দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে টাকা খুলে নিয়ে যেতেন।  মা যখন দেখতেন আঁচলের টাকা নেই তখন হাবু ভাইকে জিজ্ঞেস করতেন, হাবু আমার টাকাগুলি কোথায় গেলরে? হাবু ভাই নির্বিগ্নে জবাব দিতেন কি জানি কোথাও পড়ে গেছে হয়তো। এছিল মোটামোটি হাবু ভাইয়ের চরিত্র।
হাবু ভাই ইন্টারমেডিয়েট পাশ করে বি এ ভর্তি হলেন । তখন হাবু ভাই ভীষন রোমান্টিক একজন তরুন। হাবু ভাইয়ের গানের সুরে সবার কান ঝালাপালা। কখনো উদাস হয়ে গাচ্ছেন “অলীর কথা শুনে বকুল হাসে” কখনো করুন সুরে গান “এত সুর আর এত গান যদি কোন দিন থেমে যায়”। আমাদের খালাতো বোন শিমুল আপার আসা যাওয়া খুব বেশী তখন আমাদের বাড়ীতে কলেজ শেষে প্রায়ই চলে আসতেন মার সাথে গল্প করতে। মাকে দুচারদিন না দেখলে যেন শিমুল আপার জান অস্থির । হাবু ভাই শিমুল আপা আসলেই আমাদের সাথে খুব খাতির জমাতেন। আমাদের হাত দিয়ে শিমুল আপার কাছে চিঠি পাঠাতেন। আমাদের বলতেন দেখিস্ চিঠিটা যেন কেউ না দেখে। যদি ঠিকমত শিমুলের হাতে চিঠিটা দিতে পারিস্ তাহলে কাল স্কুলের সামনে থেকে তোদের দুই আনা দামের  মালাই আইসক্রিম কিনে খাওয়াবো। আমরা ভাই বোনরা আইসক্রিম খাওয়ার লোভে নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালন করতাম। কিন্তু শিমুল আপা একটা চিঠির জবাবও কোন দিন দেন নি। কিন্তু খুব আগ্রহ সহকারে তিনি মাকে লুকিয়ে আমাদের হাত থেকে চিঠি নিতেন। শিমুল আপা বাড়িতে এলে হাবুভাই বারান্দায় হেঁটে হেটে গাইতেন, “ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাংগালে...।” হাবু ভাই বি এ পরীক্ষা দিলেন কিন্তু শিমুল আপার প্রেমে হাবু ডুবু খেতে খেতে বিএ পাশ করতে পারলেনা। সে লজ্জায় হাবু ভাই গ্রামে গিয়ে  তিন মাস  ডুব দিয়ে থাকলেন। তিন মাস পর ফিরে এসে আবার তৈরী হতে থাকলেন পরীক্ষা  পাশের জন্য। পরীক্ষার দুই মাস আগে শিমুল আপার বিয়ে ঠিক হলো অন্য জায়গায়্ একমাসের মধ্যে বিয়ে হয়েও গেল। শিমুল আপার বিরহে হাবু ভাই আবারো বিএ ফেল করলেন। এবার তৃতীয় বার বি এ পরীক্ষা দেবার জন্য হাবু ভাই তৈরী হলেন। এবার কোন মেয়েকে হাবু ভাই প্রেম পত্র লিখলেন না। প্রেমের গান না শুধু সে বছর হাবু ভাই কোন গানই গাইলেন না। রাতদিন পড়া শুনায় ডুবে থাকলেন। সে বছর হাবু ভাই বিএ পাশ করলেন। আমার মা ভাগ্নের তিন বারে বি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ায় এতটাই আনন্দিত হলেন যে সারা পাড়ায় মিষ্টি বিতরন করা হলো।

সোভাগ্যবশতঃ হাবু ভাইয়ের একটা সরকারী চাকুরীও হয়ে গেল। এখন হাবু ভাইয়ের মাথায় আরেক চিন্তা বিয়ে করতে হবে। সব কিছু হারালে পাওয়া যায় কিšন্তু বয়স হারালে কোথায় তাকে খুঁজে পাবে? এনিয়ে দুদিন পরপরই হাবু ভাই মার সাথে মিটিং বসায়। মা হাবু ভাইকে বলেন, হাবু কেবলইতো চাকুরীটা হলো কিছু পয়সা জমা তারপর বিয়ে করিস। হাবু ভাই কিছুদিন চুপ থাকে আবার মিটিং করে মার সাথে।  হাবু ভাইয়ের বক্তব্য, এ বছর না সে বছর মানুষ বাঁচে কয় বছর মামী। মা বাধ্য হয়ে হাবু ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করলেন। মেয়ে দেখা হলো মেয়ে পছন্দ হলো । হাবু ভাইয়ের বাবা এলেন বিয়ের কথা পাকাপাকি করতে। পাকা কথা হলো পানচিনি হলো সবই হলো। বিয়ের তারিখ ঠিক হলো ছয় মাস পর। এর মাঝে হাবু ভাইকে চাকুরী থেকে কুষ্টিয়া বদলী করা হলো। হাবুর ভাইয়ের মনের কষ্ট আবার শুরু হলো। বিয়ের আগে হবু বউয়ের সাথে একটু দেখা সাক্ষাত করবে, গল্প গুজব করবে তাআর হলো না। কি আর করা ছুটি নিয়ে এসে বিয়ে করবে তারপর বউ নিয়ে কুষ্টিয়া চলে যাবে সে সিদ্ধান্ত হলো।
হাবু ভাই চলে গেলেন কুষ্টিয়া এদিকে ঘটনা ঘটে গেল অনেক। হাবু ভাইয়ের বাবা, আমাদের ফুপা মেয়ে পক্ষকে বিরাট চিঠি পাঠালেন, তিনি যৌতুক ছাড়া ছেলেকে বিবাহ করাবেন না। মেয়ে পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে ভেংগে দিল। আমার মা বহু চেষ্টা করলেন বিয়েটা যেন না ভাংগে সে ব্যাপারে। ছেলের বাবা একটু পাগল গোছের মানুষ তার কথায় যেন তারা আমল না দেন তাও বললেন। কিন্তু মেয়ে পক্ষকে আর রাজী করান গেল না। মা হাবু ভাইকে চিঠি লিখে পাঠালেন , হাবু দু চারদিনের জন্য এসে ঘুরে যা, তোর সাথে বিয়ে সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা আছে। হাবু ভাই চিঠি পাওয়ার দুদিন পরই হাসি মুখে কুষ্টিয়ার আম মিষ্টি শ্বশুর বাড়ী ও আমাদের জন্য নিয়ে হাজির হলেন। এসেই মাকে হাবুভাই বউয়ের কথা নানা ভাবে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। মা রয়েসয়ে হাবু ভাইকে জানালেন ঘটনা। হাবু ভাই রাগে দুঃখে কেঁদে ফেললেন। হাত তুলে আল্লাহকে বললেন, হে আল্লাহ্ এমন কুৎসিত মনের পিতা তুমি দুনিয়াতে পাঠিও না, যে পিতা  তিনবারে বিএ পাশ করা ছেলের জন্য যৌতুক দাবী করে। হাবু ভাই মেয়ে পক্ষর সাথে দেখা করে পিতার পক্ষ থেকে তাদের কাছে মাফ চাইতে চাইলেন কিন্তু মেয়ে পক্ষ রাজী হলো না । হাবু ভাই মনে এক রাস ব্যাথা নিয়ে কুষ্টিয়া ফিরে গেলেন। তিনি দুই বছর আর কুষ্টিয়া থেকে ফিরে এলেন না। মাঝে মধ্যে মাকে দু একটা চিঠি লিখে কুশল সংবাদ জানিয়েছেন এই যা। এবার মার কাছে হাবু ভাইয়ের কাছ থেকে অন্য রকম একটা চিঠি এলো। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেনÑ

   মামী,
         সালাম নিবেন। মামাকেও আমার সালাম জানাইবেন। দীর্ঘ দিন আপনাদের খোঁজ খবর নিতে পারি নাই বলিয়া মনে কষ্ট নিবেন না। মামী আমার বয়স দিন দিন বন্যার অবরুদ্ধ পানির মত বাড়িয়া চলিয়াছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনি এবং মামা কোন রূপ চিন্তিত না। তাই আমি নিজে সিদান্ত নিয়া গত সপ্তাহে বিবাহ করিয়া ফেলিয়াছি। মেয়েটি উচ্চ শিক্ষিতা। একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষিকার পদে নিয়োজিত আছে। মেয়েটি তেমন সুন্দরী না হইলেও কুৎসিত নয়। তাছাড়া আমার এখন সুন্দরী মেয়ের জন্য বসিয়া থাকিবার সময় নাই। একাকী জীবনে আমি ক্লান্ত হইয়া পরিয়াছি। আগামী মাসের প্রথম রবিবার আপনাদের বউমাকে নিয়া আপনাদের কাছে আসিতেছি। ট্রেন কয়টায় পৌছাইবে সে খোঁজ নিয়া স্টেশানে গাড়ী পাঠাইবেন।
                                                                                            ইতি
                                                                                          আপনাদের ¯েœহের হাবু
বি:দ্রঃ মামী আমার কুৎসিত মনের পিতাকে আমার বিবাহের এবং বউ নিয়া আসিবার খবর জানাইবেন না তাহা হইলে তিনি হয়তো যৌতুকের জন্য আমার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ছুটিয়া আসিবেন।

যথাদিন যথাসময়ে স্টেশানে গাড়ী পাঠানো হলো। মা ভাগ্নে বউয়ের জন্য রান্ন্াবান্না করে তৈরী । আমরাও ভালো কাপড় চোপড় পরে কাগজের ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম নতুন ভাবীর জন্য। আমাদের যেন উত্তেজনার শেষ নেই। গাড়ী এসে দঁড়ালো। হাবু ভাই হাসি মুখে নামলেন গাড়ী থেকে। হাবু ভাইয়ের  সাথে নামলেন একজন বেশ মোটাসোটা কুচকুচে কালো না হলেও মোটামুটি কালোর পর্যায়ে ফেলা যায় শাড়ীর আঁচল দিয়ে ঘোমটা দেয়া একজন মহিলা। আমরা ধরে নিলাম ভাবীর সাথে হয়তো মহিলাটি এসেছে ভাবীর কোন আতœীয়া। আমি ভাবীর নামার অপেক্ষায় উকি ঝুকি দিতে লাগলাম। মাও মিষ্টির প্লেট নিয়ে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকলেন বউকে মিষ্টি মুখ করাবেন বলে। নাহ্ গাড়ী থেকে আর কেউ নামলো না। হাবু ভাই হৈচৈ করে বললেন এই দেখ তোদের ভাবীকে নিয়ে এসেছি। ভাবীকে দেখে আমরা ঘাবড়ে গেলাম। যে মালা ভাবীকে পড়াবো বলে দাঁড়িয়েছিলাম সে গুলো আমরা হাবু ভাইকে পড়িয়ে দিলাম। হাবু ভাই হায় হায় করে উঠলেন, করিস্ কি? করিস্ কি ? মালাতো তোদের ভাবীকে পড়াবি আমাকে পড়াচ্ছিস্ কেন? এই বলে নিজেই ভাবীকে নিজের গলা থেকে মালা খুলে পড়িয়ে দিল। মা ম্লান হাসি দিয়ে ভাগ্নে বউকে মিষ্টি মুখ করালেন। হাবু ভাই প্রচন্ড আনন্দ ফুর্তি করে আমাদের এখানে  সাতদিন বেড়িয়ে গেলেন। হাবু ভাইয়ের মাঝে যেটা আমরা দেখেছিলাম তিনি কুষ্টিয়ার ভাষা ছাড়া আর সব ভাষা ভুলে গেছেন। আমাদের ভাবী সাতদিনে শুদ্ধ বাংলায় আমাদের সাথে অনেক মাষ্টারী করে গেলেন। আমরা উনাকে মোটেও পছন্দ করলাম না। হাবু ভাই বউ নিয়ে চলে যাবার পর আমরা ভাই বোনরা কুষ্টিয়ার ভাষার চর্চা চালালাম কিছুদিন। সেটা আমাদের একটা মজার খেলা হয়ে উঠেছিল।
তারপর বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে । হাবু ভাই বার দুয়েক এসেছিলেন আমাদের বাড়ীতে, ভাবী আর কখনো আসেন নি। আমরাও ধীরে ধীরে হাবু ভাইয়ের অস্তিতটা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। আমরা তখন কেউ কলেজে কেউ ইউনিভার্সিটিতে পরি। এক ছুটির দিনের  সকালে  মহা হট্রোগোল করে কে যেন বাড়ীতে ঢুকলো শুনলাম। আমাদের সব ভাই বোনদের নাম ধরে ডাকাডাকি করছে। আমরা সবাই বাইরে বেড়িয়ে আসলাম। বেড়িয়ে দেখলাম একজন লম্বা কোর্তা পড়া ও সাদা লম্বা দাড়ি ওয়ালা এক ভদ্রলোক । আমাদের দেখে মহা আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠলেন, এই তোরা আমাকে চিনতে পারছিস্ না? আমি তোদের হাবু ভাই। হাবু ভাইয়ের এই পরিবর্তন দেখে আমরা অবাক হলেও ভীষন আনন্দিত হলাম। আমরা যেন সেদিন হাতে চাঁদ পেয়েছিলাম। বাবা মাও খুব খুশী হলেন এতদিন পর হাবু ভাইকে পেয়ে। আমাদের দিনটা দারুন আনন্দে কাটলো হাবু ভাইকে পেয়ে। হাবু ভাই আমাদের রসিয়ে রসিয়ে শোনালেন আধুনিক জীবন থেকে এ জীবনে আসার কাহিনী। তিনি ঢাকায় এসেছেন একটি ইসলামিক সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য এবং সেখানে তিনিও একজন বক্তা। হাবু ভাই মাকে অনেক অনুরোধ করে গেলেন আমরা যেন সমে¥লনে যাই । মহিলাদের বসার ভালো ব্যবস্থা আছে তাও জানালেন। সমে¥লনের পর হাবু ভাই আমাদের এখানে এসে বেড়াবেন সে আশ্বাসও দিলেন। আমরা মহা আনন্দে রাজী হয়ে গেলাম। কিন্তু হাবু ভাই চলে যাবার পর আমাদের সম্মেলনে যাবার আগ্রহও চলে গেল । হাবু ভাইকে কথা দিয়েও আমরা শেষ পর্যন্ত কেউই হাবু ভাইয়ে ইসলামি আলোচনা শুনতে গেলাম না। এতে হাবু ভাই মনে অনেক কষ্ট পেলেন এবং সে জন্য তিনি আর আমাদের বাসায় থাকতে এলেন না। কুষ্টিয়ায় যাবার আগে সে কথা তিনি আমাদের ফোন করে জানিয়ে গেলেন। আমরা সেদিন খুব লজ্জিত হয়েছিলাম হাবু ভাইয়ের কাছে। ্হাবু ভাই আমাদের বাসায় এলো না আমাদের উপর রাগ করে সেটা আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছিল।

তারপর হাবু ভাইয়ের সাথে আমাদের  আর কোন দিন দেখা হয়নি। দুই মাস পর খবর এসেছিল হাবু ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। হাবু ভাইয়ের মৃত্যু শোক আমরা বহুু দিন ভুলতে পারিনি।তখন আমাদের মাঝে অপরাধ বোধ আরো বেশী করে জেগে উঠেছিল ,কেন আমরা হাবু ভাইয়ের সম্মেলনে গেলাম না?

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে