Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (140 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৭-২০১২

পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব

পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব
বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে পার্বত্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবি পালনের আয়োজন শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষে কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি পল্লীর ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ আয়োজনের প্রস্তুতি। ইতোমধ্যেই এলাকাভিত্তিক নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে উৎসবকে বরণ করে নেয়ার যাবতীয় আয়োজন। পার্বত্য এলাকার উপজাতীয় সমপ্রদায় চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা বর্ষবরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে পালন করে থাকে। বর্ষবরণের উৎসবকে ত্রিপুরা সমপ্রদায় বৈসুক, মারমা সমপ্রদায় সাংগ্রাই এবং চাকমা সমপ্রদায় বিজু নামে পালন করে থাকে। একত্রে ৩টি আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈ-সা-বি নামে পাহাড়ে এই উৎসব পরিচিত। কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে ১৩ এপ্রিল সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে বর্ণিল পানি খেলার (ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল) আয়োজন করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা থেকে এই আসরে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নেবে জানা যায়। এছাড়াও পার্বত্যাঞ্চলে বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন খেলা ও মেলার আয়োজন চলছে। এসব খেলার মধ্যে রয়েছে ঘিলা খেলা, নাদের খেলা, বলি খেলা, ফোর খেলা, পুত্তি খেলা ও তুমুরো খেলা এবং তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠা। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার মধ্যে কাপ্তাই, রাজস্থলী, বাঙ্গালহালিয়া, চিৎমরম, রাঙ্গামাটি, নারানগিরি প্রভৃতি এলাকায় সাংগ্রাই জল উৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। চৈত্রের শেষ দিনের আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। এদিন ফুল দিয়ে ঘরবাড়ি সাজানো হয়। দ্বিতীয় দিন চৈত্র সংক্রান্তি, বৈসাবি অথবা মূল বিজু। এদিন উৎসবের প্রধান দিন হিসেবে পালন করে চাকমারা। মূল বিজুর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে 'পাজন' (অনেক রকমের শাক-সবজি, ফল মূলের সমন্বয়ে রান্না করা বিশেষ তরকারি)। এই পাজনে যে যত পদের সবজি মেশাতে পারবে তার গুরুত্ব তত বেশি। এদিন নতুন কাপড় পরে বাড়ি বাড়ি বেড়ানো, পাজন খাওয়া চাকমাদের আনন্দ উৎযাপনের মূল আয়োজন। চাকমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে যে, বিজুর দিন কমপক্ষে পাঁচটি বাড়িতে বেড়াতে হয়। এসব বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাজন খেলে পরবর্তী তিন মাস কোনো রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হবেন না কেউ। পাজনের সংঙ্গে ভাত থেকে তৈরি পানীয় দো-চুয়ানী (বাংলা মদ)। এই দো-চুয়ানী ছাড়া চাকমা সমাজে বিজু ও বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় না। ত্রিপুরা সমপ্রদায় এ দিনটি উৎযাপন করে তাদের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ নাচ 'গড়াইয়্যা নৃত্যের' মাধ্যমে। নারী-পুরুষ সবাই এক সঙ্গে নাচে। এ নাচের বিশেষত্ব হচ্ছে, যে বাড়ি থেকে এ নাচ শুরু হবে সে বাড়িতেই এসে নাচ শেষ করতে হবে। ত্রিপুরাদের এই উৎসবকে বৈসুক বলে। মারমা সমপ্রদায় পহেলা বৈশাখ পালন করে বর্ণিল জলকেলী বা পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে। পুরনো বছরের সব দুঃখ হতাশাকে মুছে ফেলার জন্য জল ছিটানো উৎসব (পানি খেলা) পালন করা হয়। এটি মারমা সমপ্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব নামে পরিচিত। অবশ্য আধুনিকতার ছোঁয়ায় চাকমাদের সাংগ্রাই উৎসবের নাম এখন 'ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল' হিসেবে পরিচিত।

রাঙ্গামাটি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে