Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (134 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৭-২০১২

ক্ষমতা যার, দখল তার!

ক্ষমতা যার, দখল তার!
ক্ষমতা যার, দখল তার। এটাই এখানকার রেওয়াজ। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দখলবাজির এই প্রথার এতটুকু ছন্দপতন হয়নি। ১৯৯৭ সালে আ স ম আবদুর রব মন্ত্রী ছিলেন। সেটা সবারই জানা। কিন্তু যেটা জানা নেই, তা হলো, রবের আশীর্বাদপুষ্ট জাসদের নেতা-কর্মীরা সেই সময় ২৬ একরের একটি সরকারি সম্পত্তি দখলবাজির প্রথম স্বাদ পেয়েছিল। এরপর বিএনপি, তারপর আওয়ামী লীগ। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরবাদামের চরসীতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওই ২৬ একর সম্পত্তি সময়ের বিবর্তনে এখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে। ভোগ করে চলেছেন নিজেদের ইচ্ছামতো। এর আগে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একই কায়দায় ওই সম্পত্তি ভোগদখলে ব্যস্ত ছিল। তারও আগের দখলবাজ সংগঠনটির নাম জাসদ।
সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাউবোর কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের কবজায় চলে যায়। ১৫ বছর ধরে ওই সম্পত্তি দখলবাজদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বছরের পর বছর দলীয় নেতা-কর্মীদের সম্পত্তি ভোগদখলের সুযোগ করে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগর কারা! পানি উন্নয়ন বোর্ডেরই অসাধু কর্মকর্তারা। তবে পাউবো কর্তারা জানিয়েছেন, লিজ নিয়েও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যর কারণে ওই জমি লিজগ্রহীতা ভোগ করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে তারা অসহায়। সম্প্রতি লিজগ্রহীতাকে ওই জমি বুঝিয়ে দিতে গিয়ে দখলবাজ আওয়ামী লীগ নেতা নাসের বাহিনীর হাতে পাউবো কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও তাঁরা যুক্তি দেখাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, যখন যাদের জোর বেশি, তখন তারাই ভোগ করে ওই জমি। বছরের পর বছর সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনোই কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো দখলবাজদের সঙ্গে তাদের দেখা গেছে বন্ধুবেশে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকেই জানান, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের লোকজন পাউবোর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ওই জমি লিজ ছাড়াই ভোগদখল করে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে দখলবাজদের ওঠাবসাও দেখা যায় নিয়মিত। রামগতি থানা পুলিশকেও ম্যানেজ করে চলে দখলবাজরা।
রামগতি পাউবোর এসডিও হাফেজ আহমদ মৃধা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ায় বার বার চেষ্টা করেও জমিটি ইজারাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত মঙ্গলবার ওই জমি ইজারাদারকে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে তিনিসহ রামগতি পাউবোর এসও মো. শাহজাহান এবং সার্ভেয়ার জসীম উদ্দিনকে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেন খোকন, মনসুর আহমদ বাদল, কবীর, সানাউল্লাহ এবং ওমরসহ ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে কর্মকর্তাদের রক্ষা করেন। পরে সন্ত্রাসীরা 'জয় বাংলা', 'জয় বঙ্গবন্ধু' এবং 'নাসের ভাই (রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে'_এসব স্লোগান দিয়ে স্থানীয় জমিদারহাট বাজারে একটি মিছিল করে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্মীপুরের সঙ্গে ইশরাক ফিশ অ্যান্ড ডেইরি কমপ্লেক্স (প্রা.) লিমিটেডের মধ্যে রামগতির চরসীতা মৌজার ২৬.০৫ একর জলাশয় ও ভূমি ১০ বছরের জন্য ইজারা চুক্তি হয়। এর আগে সরকারের রাজস্ব খাতে ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা জমা দেয় ওই কম্পানি। লিজ গ্রহণ করেও প্রভাবশালী দখলবাজদের কারণে ওই জমি ভোগ করতে পারছে না লিজগ্রহীতা।
জানা গেছে, রামগতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক স্বরূপ মজুমদার এবং মনসুর আহমেদ বাদলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা (একাংশ) এসব জমি দখল করে স্থানীয় বিভিন্নজনের কাছে কয়েক ভাগে তা লিজ দেয়। সরকারি জমি আওয়ামী লীগ নেতারা লিজ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার হোসেন জানান, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা নাসেরকে ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে এক একর জমি ভোগ করছেন।
চরবাদাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন আহমেদ জানান, লিজ দেওয়ার আশ্বাসে ৬০ জনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বরূপ মজুমদারসহ দখলবাজরা।
লিজগ্রহীতা ইশরাক ফিশ অ্যান্ড ডেইরি কমপ্লেক্স (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বিএনপি নেতা) মো. ইউসুফ জানান, তিনি সরকারের রাজস্ব খাতে ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪ টাকা জমা দিয়ে ইজারা নেওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো পাউবো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সম্পত্তিগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে না।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, লিজ গ্রহণের আগে ওই জমি একই কায়দায় জবরদখল করে ভোগ করতেন বিএনপি নেতা মো. ইউসুফ এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি ইশরাক ফিশ অ্যান্ড ডেইরি কমপ্লেক্স (প্রা.) লিমিটেডের নামে জমিটি লিজ নেন।
রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা চৌধুরী জানান, তিন বছর ধরে নাসের, স্বরূপ মজুমদার এবং বাদলসহ আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সরকারি ওই জমি জবরদখল করে রেখেছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, সরকারি জমি জবরদখলের বিষয়টি শুনেছি। তবে যথাযথ নির্দেশনা না থাকায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারছে না। পাউবো ফেনী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) আবদুর রহীম জানান, সহযোগিতা চেয়েও পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ায় দখল করা জমিটি লিজগ্রহীতাকে বুঝিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে