Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (45 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৯-২০১৫

৭ খুন: কোটি টাকায় আসামি অব্যাহতির অভিযোগ

মজিবুল হক পলাশ


৭ খুন: কোটি টাকায় আসামি অব্যাহতির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ, ০৯ জুলাই- নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি টাকার বিনিময়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

এই পাঁচ জনের অব্যাহতির বিরুদ্ধে দেওয়া নারাজি আবেদন খারিজ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর সাত খুনে দায়ের করা দুই মামলায় গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল।

অভিযোপত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে ২২ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তবে মামলার এজাহারে নাম থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, হাসমত আলী হাসু, আমিনুল ইসলাম রাজু, আনোয়ার হোসেন আশিক ও ইকবাল হোসেন এই পাঁচজনকে অভিযোগপত্রে নির্দোষ দেখানো হয়।

অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর আসামিরা এলাকায় এসে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে অভিযোগ করেন নজরুলের স্ত্রী বিউটি।

তিনি বলেন, “এজাহারভুক্ত আসামি ইকবাল, রাজু এলাকায় এসে অস্ত্র নিয়ে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তারা নাকি দেড় কোটি টাকা দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েছে।”

“এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার ছাড়াই কীভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়”, প্রশ্ন রাখেন স্বামীর মৃত্যুর পর একই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া সেলিনা ইসলাম বিউটি।

গত বছরের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারের পরপরই নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনসহ কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম প্রধান টার্গেট হলেও সঙ্গে থাকায় তার গাড়ি চালকসহ চার সহযোগী এবং অপহরণের ঘটনা দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণের কথা পরে বের হয়ে আসে।

এ ঘটনায় নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

নজরুলের স্ত্রী অভিযোগপত্র নিয়ে নারাজি দিলেও চন্দনের জামাতা কোনো আপত্তি জানাননি।

অবশ্য গত ১১ মে এ বিষয়ে আদালতে নজরুলের স্ত্রীর নারাজি আবেদনে মামলার অভিযোগ গঠন পিছিয়ে যায়।

সঠিক বিচার পাইনি: নজরুলের স্ত্রী  
বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুজ্জামান শরিফ ওই নারাজি আবেদন নাকচ করে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রই গ্রহণ করে নেন।


নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম থেকে এজাহারভুক্ত ওই পাঁচ আসামির ক্ষেত্রে শিথিল আচরণ করেছেন অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন।

“এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা কাছে তাদের গ্রেপ্তার বা তাদের মালামাল জব্দের আবেদন করা হয়। কিন্তু তিনি তা করেননি। ”

সাখাওয়াত বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পনা ও অর্থের জোগান, অপহরণ, গুম এবং হত্যা এই চার অংশে ভাগ করা যায়; পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানের যে বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা কোনক্রমেই উদঘাটন করতে পারেনি। ”

এছাড়া প্রথম থেকে ওই আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা শিথিল ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম থেকেই চেয়েছি আসামিরা যেন সিএসভুক্ত না হয়।”

আদালতে নারাজি আবেদন নাকচের পর নিহত নজরুলের সেলিনা ইসলাম বিউটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয় কোটি টাকা নিয়ে আমার স্বামীসহ সাতজনকে অপহরণের পর খুন করা হলো। আমরা তো সঠিক বিচার পাইনি। ”


 

“নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের মামলায় বাদীর নারাজি আবেদন গ্রহণ করা হলেও সারাদেশ আলোচিত সাতখুন মামলায় আমার নারাজি গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমার জন্য এতো বাধা কেন?”

এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান কাউন্সিলর বিউটি।

হত্যাকাণ্ডে স্বজন হারানো আরও পাঁচ পরিবারের ‘মুখের দিকে’ তাকাতে পারছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বেঁচে থাকার জন্য আমরা অস্বাভাবিক জীবনযাপন করছি।”

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা আশা করেন নিহত নজরুলের স্ত্রী।

অভিযোগ অযৌক্তিক: তদন্ত কর্মকর্তা
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল বাদীপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, পেশাদারিত্ব নিয়ে নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলায় অযথা কাউকে জড়িত করা হয়নি, আবার কাউকে অভিযোগপত্র থেকে বাদও দেওয়া হয়নি।”

দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে ১২৭ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য ও ১৬২টি আলামতসহ আলোচিত সাতখুনের দুই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে জানান এই ডিবি কর্মকর্তা।

দেড় কোটি টাকা নিয়ে এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সংক্রান্ত বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর দাবি করেন, “এ মামলায় ওই পাঁচজন জড়িত এমন কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে বাদীও কোন সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে পারেননি।”

অভিযোগপত্রের বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিনও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রধান বলেন, মামলার বাদী-বিবাদী সবার নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বদ্ধ পরিকর।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে