Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০ , ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (70 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৫-২০১৫

ক্রিকেট দিয়ে পাক-ভারত বিজয়

আনিস আলমগীর


ক্রিকেটকে আমাদেরকে জাতি হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে। সে মর্যাদা আমাদের রক্ষা করা উচিত সব আচরণে। আমরা এখন গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করবো, ‘প্রিন্স অফ ডেনমার্ক ছাড়া যেমন হ্যামলেট রচিত হবে না, তেমনি টিম বাংলাদেশকে ছাড়া এশিয়ায় কোনও ক্রিকেট হবে না।’

ক্রিকেট দিয়ে পাক-ভারত বিজয়

বাংলাদেশ-ভারতের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভারত যখন রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছিল তখনই পরাজয়ের গন্ধ টের পাচ্ছিলাম আর হায়-হুতাশ করছিলাম। আমার চাচা বললেন, আরে হারতে দাও। সবটা আমরা জিতবো নাকি!

মানে কী?

-বাংলাদেশ জিতলে ওরা বোমা মারবে। দেখছোনা ওদের দেশে ছেলেগুলো কেমন সমালোচনার মধ্যে পড়েছে। মিডিয়া কি করছে।

বাহ্ কি সুন্দর যুক্তি। এটা কোনও কথা হলো!

জবাবে উনি আমাকে বললেন, দেখ খেলা কিন্তু দেশে-দেশে বন্ধুত্ব নয়, শত্রুতাও তৈরি করে। দুই প্রতিবেশী আর্জেন্টিনা- ব্রাজিলের মধ্যে শত্রুতার উপাদান যোগ করেছে ফুটবল। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেটও কিন্তু একটা শত্রুতার উপাদান। আমি উনার যুক্তি আংশিক মানতে রাজি আছি। ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের এ বছরের ক্রিকেটযুদ্ধ, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ডকাপে ভারতের সঙ্গে এবং গত এপ্রিলে ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা শত্রুতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। তবে দুই দেশের সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের সমর্থকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ হলেও- আখেরে ঢাকায় ভারতকে পরাজিত করায় একযোগে সে শত্রুতা কেটে গেছে। পাক-ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বে সমতা এনেছে, মর্যাদা এসেছে।

অনেক দিন আগের কথা। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক সিনিয়র সাংবাদিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার ধারণা কলকাতার মানুষ ঢাকার খবর পড়তে আগ্রহী। আপনারা আমাদের খবর ছাপান না কেন? সর্ব ভারতীয় পত্রিকায়তো বাংলাদেশের খবর নেই বললেই চলে। অথচ ঢাকার কাগজে ভারতের কোনও সংবাদই বাদ পড়ে না।

তিনি আমাকে বললেন, গরীব প্রতিবেশীর কে খবর রাখে আনিশ (ওরা আনিসকে আনিশই বলে, এমনকি কলকাতার কাগজে বিভিন্ন সময়ে আমার নামও ছাপা হয়েছে আনিশ আলমগীর)! আমি তোমার সেন্টিমেন্ট বুঝেছি। বাংলাদেশ যতদিন ভারতের কাতারে আসতে পারবে না- মর্যাদা পাবে না। মিডিয়ায়ও পাত্তা পাবে না।’ আমি তার কথায় যুক্তি পেয়েছিলাম। যতই ভালবাসার ভান করি না কেন, বাড়ির পাশের গরীব প্রতিবেশির খবর আমরা ক’জন রাখি! তার জ্বর হলো না কাশি হলো- তাতে কিছু যায়-আসে আমাদের, যতনা আমরা ব্যক্তি জীবনে দূরের বড়লোকের খবর রাখি! জানতে চাই।

আমাদের অনেকের ধারণা, ভারত পাকিস্তানকে শত্রু জানে, বাংলাদেশকে বন্ধু জানে। সে কারণে হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ দু’জনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির দেখা হলে শেখ হাসিনাকেই বেশি আন্তরিকতা দেখাবেন মোদি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলে সেটা ভুল। মোদি নেওয়াজ শরীফকেই বেশি মর্যাদা দেবেন। যেমনটা আমি দেখেছি বিভিন্ন ফোরামে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন দেশের সাংবাদিকদের মিলন মেলায়। আমাদের কূটনীতিকদেরও এমন অভিজ্ঞতা ভুরি-ভুরি। দ্বিপাক্ষিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এবং পাকিস্তানের জনগণের সম্পর্ক খুবই চমৎকার। কিন্তু যদি ত্রিপক্ষীয় মেলা হয়, মাঝে মধ্যে ভারত এবং পাকিস্তান তৃতীয়জন বাংলাদেশের উপস্থিতির অস্তিত্বই টের পায় না। তখন তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেদের মধ্যে- হাই ইয়ার, মাস্তি, দোস্তিতে।

আমি জানি অনেকের এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। আচ্ছা এবার এভাবে চিন্তা করেন- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজেপেয়ীর দেখা। শরীফ খালেদা জিয়াকে নয়, বাজপেয়ীকেই পাত্তা দেবেন। যতই আপনি নেওয়াজ শরীফ আর খালেদা জিয়ার মধ্যে সুস্পর্ক খুঁজে পান না কেন।

আসলে সম্পর্কের এই সমীকরণের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রের মর্যাদা আর সমতার বিষয়টি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যতই শত্রুতা থাক, দু’জনের রয়েছে পারমাণবিক বোমা। দু’জনের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় সমানতালের এবং ভারত মার্কিন ডলার খয়রাত পেলে পাকিস্তান পায় চাইনিজ ইয়ান। দু’জনের ভাষাও প্রায় কাছাকাছি। দু’জনের মধ্যে কঠিন ঝগড়াতেও তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবে না কিন্তু তার চেয়ে সামান্য বিরোধেও বাংলাদেশকে ওই বোমা মারতে দ্বিধা করবে না।

দু’জনই আবার উপমহাদেশে ক্রিকেটের এলিট গোষ্ঠী। এক দেশের নেতা অন্য দেশে ক্রিকেট খেলা দেখতে যান। আমাদের এখানে কিন্তু তারা ক্রিকেট খেলা দেখতে আসেননি। পাকিস্তানের সঙ্গে বাস সার্ভিস চালু হলে বাজপেয়ী বাসে চড়ে দিল্লি থেকে লাহোরে গিয়েছেন আর ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস উদ্বোধন করতে উনি জ্যোতি বসুকে নিয়ে বিমানে উড়ে এসেছিলেন ঢাকায়; যেমন কলকাতা-ঢাকা-শিলং বাস সার্ভিস চালু করতে মমতাকে নিয়ে এবার ঢাকা এসেছিলেন মোদি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী? বাংলাদেশ তাদের কাছে মুখে অনেক বড় বন্ধু, বাস্তবে আপনার বাসার পাশের গরীব প্রতিবেশীর মতোই।

ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের ক্রিকেট আর ক্রিকেটার সাকিব, সালমার প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘দেখুন বাংলাদেশের উন্নতির ধারা কত গতিশীল। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে অনেক পরে। কিন্তু আজ ভারতসহ ক্রিকেটের সবগুলো বড় দেশ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আর ছোট দল হিসেবে ভাবার সাহস পায় না। আপনারা অনেক দেরিতে শুরু করে এরই মধ্যে বিশ্বে জায়গা করে নিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের কৃতিত্ব।’ আরও বলেছিলেন, ‘আপনাদের একজন ক্রিকেটার আছে, সাকিব আল হাসান। সে দারুণ।’

মোদির ওই বক্তৃতা শুনে অনেকে প্রশংসায় কাত হয়ে পড়েছিলেন। আমি হইনি। কারণ ওইসব মনের কথা না। সাজানো। কর্মকর্তারা লিখেন, ওনারা পড়েন। আমি বরং প্রশংসা করি যারা এটা তৈরি করেছেন তাদের মেধার। অনেক গবেষণা করে তৈরি করা হয়েছিল সে বক্তৃতা। প্রেসিডেন্ট ওবামার বক্তৃতায়ও অনেকটা সেরকম গবেষণার ছাপ থাকে। দিল্লি সফরকালে উনি সালমানের সিনেমার ডায়লগ আউড়াবেন বক্তৃতায় নাকি শাহরুখের সিনোমার- গবেষণায় সেটাও থাকে।

যাক, মোদির ওই বক্তৃতা যদি এখন শুনতাম আমি বিশ্বাস করতাম যে ক্রিকেট সংক্রান্ত তার বক্তৃতার শব্দমালা একেবারে আন্তরিক। সত্য। কারণ বাংলাদেশ এবার সফরকারী ভারতীয় দলকে ওডিআই সিরিজে হারিয়ে এবং টেস্টে ড্র করে সত্যি সত্যি মোদির ক্রিকেট সংক্রান্ত শব্দমালার সত্যতা প্রমাণ করেছে।

ওয়ার্ল্ডকাপ ক্রিকেটের কোয়াটার ফাইনালে বাংলাদেশ দল ভারতের সঙ্গে জেতার কথা ছিল, বাংলাদেশ দলকে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছিল- এটা প্রায় বাংলাদেশি বিশ্বাস করেন। কিছু বিদেশি ক্রিকেটবোদ্ধা, এমনকি ভারতীয়রাও করেন। কিন্তু সিংহভাগ ভারতীয় ক্রিকেটবোদ্ধা সেটা বিশ্বাস করা দূরে থাক কোনও বাংলাদেশি এটা বললে তাকে সত্যি-সত্যি পাগল ভেবেছিল। এই ভাবাটা তখন বাংলাদেশিদের কাছে অসম্মানের মনে হয়েছিল কিন্তু তাদের দিক থেকে হয়তো সঠিকই ছিল। কারণ তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট পরিসংখ্যান যা তাতে ওদের হাসারই কথা।

সে সময় আমি ভারতীয় নিউজ সাইটগুলোতে ঘুরে দেখেছি এ সংক্রান্ত নিউজের নিচে তাদের যত্তসব আজে-বাজে কমেন্টস ছিল। বাংলাদেশিদেরও পাল্টা আক্রমণাত্মক কথাবার্তা ছিল। পাকিস্তানও ভারতকে আক্রমণ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল, যদিও মনে মনে তারাও বিশ্বাস করতো না তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে উন্নতি করেছে। তার প্রমাণ অল্পদিনের মধ্যেই দিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের পরপরই যখন তারা ঢাকায় আসে এবং লজ্জাজনক হোয়াইট ওয়াশ হজম করে। তখন পাকিস্তানের মিডিয়া, পাকিস্তানের ক্রিকেট ফ্যানদের সেই হারকে বিশ্বাস করাটা কঠিন ছিল।

সাকলাইন মুশতাকসহ তিনজন অতিথিকে নিয়ে পিটিভির একটি ক্রিকেট পর্যালোচনা অনুষ্ঠান হতো নিয়মিত। আমি অনলাইনে দেখতাম। সে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিল পাকিস্তানের বেশিরভাগ জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধির প্রতিচ্ছবি। উপস্থাপক অনুষ্ঠানেই বিমর্ষতার ভাব করে বলতো- এমন দিন দেখার আগে আমার মৃত্যু কেন হলো না! কোনও ক্রিকেট প্রোগামের এতো অসভ্য, অসুস্থ্য উপস্থাপক আমি দেখিনি। বাংলাদেশকে অপমান করতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে, ক্রিকেটারকে- ছোট, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে ওই লোক একটা দিনও ছাড়েনি। সর্বশেষ দেখলাম, শেষ দিনের প্রোগ্রামের উপস্থাপক হিসেবেই নেই সে। তার জায়গা নিয়েছে নিয়মিত তিন অতিথির একজন। ইউটিউবে অনুষ্ঠানগুলো দেখলে যে কেউ দেখে বুঝতে পারবেন এর সত্যতা। তার ভাড়ামিতে বাংলাদেশি দর্শকরা যে আহত হয়েছেন তা নয়, খোদ পাকিস্তানি কিছু দর্শকও বিরুপ মন্তব্য রেখেছে কমেন্টে। এই লোক কি করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভির উপস্থাপক হয়- সে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

আসলে পাকিস্তানকে হারানোর পরও আমরা যে ক্রিকেটে উন্নতি করেছি সেই সার্টিফিকেট পাইনি উপমহাদেশের লোকদের কাছ থেকে। ভারতীয়রা তখন বলেছে পাকিস্তানের দুর্বল টিমকে আমরা হারিয়েছে। পাকিস্তানিরাও সে রকম বলেছে। এবার প্রথমবারের মতো বাংলার মাটিতে আমরা ভারতকে হারিয়ে প্রমাণ করতে হয়েছে আমরাও ক্রিকেটের একটি শক্তি, আমাদের ছেলেরাও ক্রিকেট খেলতে জানে। আমাদের ক্রিকেট খেলা দেখানোর জন্যও টিভি ম্পন্সররা উৎগ্রীব হয়ে বসে আছে। সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিনতে টিভিওয়ালারা লাইন দিয়েছে। এখন শুধু সাকিব নয়, আমাদের প্রত্যেকেই এক একজন তারকা। ভাগ্যিস ভারত তাদের পুরো শক্তি নিয়েই বাংলাদেশে এসেছিল। না হয়, এবারও পাকিস্তানের মতো শুনতে হতো- বাংলাদেশ দুর্বল ভারতীয় টিমকে হারিয়েছে। বড় খোলোয়াড়রাতো টিমে ছিল না।

ভারতকে হারানোর পর, পাকিস্তান ও ভারতের পত্রিকার রিপোর্ট, মিডিয়ার পর্যালোচনা- বিশেষ করে ইংরেজি পত্রিকাগুলোর ক্ষেত্রে- আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। ভারতীয় পত্রিকার পাঠকদের মন্তব্যগুলো বাংলাদেশকে সমীহ করে করা। হয়তো কোয়াটার ফাইনালে ওরা চাতুরির আশ্রয় নিয়ে জিতেছে বলে আমরা যে দাবি করেছিলাম- সেটাও এখন বিশ্বাস করতে আর দ্বিধা করবে না। আমি খুব কম কমেন্ট দেখেছি বাংলাদেশকে গালাগালি করেছে কেউ। কলকাতার বাংলা পত্রিকাগুলোর রিপোর্টে উচ্ছ্বাস উছলে পড়ছে। বাংলাদেশের এই বিজয়কে তারা বানিয়ে ফেলেছে বাঙালির বিজয় হিসেবে। নিজেদেরকেও সম্পৃক্ত করেছে বাংলাদেশের এ বিজয়ে, বাঙালি হিসেবে। তবে কিছু ভারতীয় হিন্দি এবং বাংলা মিডিয়া মিথ্যা আর রঙ লাগানো নিউজ করা থেকে বিরত থাকতে পারলো না এবারও। কোথাকার এক সুধীর ইস্যু সৃষ্টি করা এবং ধোনির কাছে মাশরাফি-মোস্তাফিজের জন্য ব্যাট আর আইপিএল-এ খেলার সুযোগ চেয়েছেন বলে মিথ্যা রিপোর্ট করে তারা সেটা প্রমাণ রেখেছে।

পাকিস্তানের পত্রিকায় দেখলাম বাংলাদেশের ভারত বধের খবরে তাদেরও বোধোদয় হয়েছে। একজন সাবেক ক্রিকেটার বাংলাদেশের এই বিজয়কে টিম পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন কাপ ট্রফি থেকে দূরে রাখার ভারতীয় চক্রান্ত হিসেবে দেখলেও বেশিরভাগ পাকিস্তানির বক্তব্যে এটা ফুটে উঠেছে যে, গত এপ্রিলে তাদেরকে ‘বাংলা ওয়াশ’ করাটা তাদের দলীয় দুর্বলতার বিষয় ছিলো না। বাংলাদেশের উজ্জীবিত শক্তির প্রমাণ ছিল। তাদের খেলোয়াড়রা অতটা খারাপ হয়ে যায়নি যতটা তারা ভেবেছে, কারণ বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী ওডিআই ক্রিকেট টিমকেও পরাজিত করেছে, শুধু পাকিস্তানকে নয়।

শেষ খেলায় বাংলাদেশ ৭৭ রানে ভারতের কাছে হেরেছে। তবে এই হারও অমর্যদার ছিল না। ৩১৮ রানের টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ৪৭ ওভারে ২৪০ রানে বন্দী হয়েছে সত্য কিন্তু খেলার মূল অংশে তার রান রেট ছিল চোখে পড়ার মতো। যখন তারা ১০০ রান করেছে তখন ১৫ ওভার খেলা হয়েছে, যখন তারা ২০০ রান করেছে তখন ৩৪ ওভার খেলা হয়েছে। তবে নিয়মিতভাবে উইকেট পড়া আর বড় রানের জুটি তৈরিতে ব্যর্থতা তাদেরকে বাংলাওয়াশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেছে, যদিও বাংলাদেশের বিস্ময়কর বোলার মোস্তাফিজ টানা তিন ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজের সেরা খেলোয়াড়।

ভারতের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের এই জয় ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে নতুন মর্যাদা। এই মর্যাদা আমরা এখন সবচেয়ে বেশি পাচ্ছি এবং পাবো ভারত-পাকিস্তানের কাছ থেকে। এখন বাংলাদেশ আর গরীর প্রতিবেশী নয়, এখন ধনী প্রতিবেশী তার গরজেই প্রতিভাবান গরীব প্রতিবেশীর খবর রাখতে হচ্ছে। ধনীর কাগজ তার পাঠকের চাহিদার কারণে আমাদের সংবাদ ছাপতে হচ্ছে। এই ক্রিকেটাররা ত্রিদেশীয় আসরে নিঃসন্দেহে মর্যাদা বাড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের।

তবে একটা কথা না বললে নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী ভক্তরা টাইগারদের মতো সমানতালে ম্যাচিউরড হয়নি। ক্রিকেটের এ বিজয়কে তারা টাইগারদের মতো নিয়মিত এবং সাধারণ ঘটনা বলে মেনে নিতে পারছেনা। সে কারণে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে বিজয়ের পর অত্যন্ত আপত্তিকর এবং জঘণ্য ভাষায় কনটেন্ড ছড়িয়েছে। অনেক উপহাস করেছে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের। ভুলে গিয়েছিল যে এই পাকিস্তানকে হারাতে তাদের টানা ১৬ বছর লেগেছে। ভারতের সঙ্গে বিজয়ের পরও ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এইসব বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ এখানেও আমাদের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট যুদ্ধের পরিসংখ্যান প্রায় একরই রকম।

ক্রিকেটকে আমাদেরকে জাতি হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে। সে মর্যাদা আমাদের রক্ষা করা উচিত সব আচরণে। আমরা এখন গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করবো, ‘প্রিন্স অফ ডেনমার্ক ছাড়া যেমন হ্যামলেট রচিত হবে না, তেমনি টিম বাংলাদেশকে ছাড়া এশিয়ায় কোনও ক্রিকেট হবে না।’

লেখক: সাংবাদিক
ইমেইল: [email protected]

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে