Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (51 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৪-২০১২

সিঙ্গাপুরে বাংলা এখন দ্বিতীয় আবশ্যিক ভাষা

সমুদ্র হক


সিঙ্গাপুরে বাংলা এখন দ্বিতীয় আবশ্যিক ভাষা
বিদেশের মাটিতে বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে পৌঁছে দিতে পেরেছেন বাংলাদেশের শবনম আক্তার স্বাতী। তিনিসহ কয়েকজন বাঙালীর প্রচেষ্টায় সিঙ্গাপুর সরকার সে দেশে বাংলা ভাষাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়ে বাধ্যতামূলক করেছে। সেখানে বাংলা এখন দ্বিতীয় আবশ্যিক ভাষা। স্বাতী জানালেন বিশ্বে একমাত্র সিঙ্গাপুর সরকার বাংলা ভাষাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিকুলামে এনেছে এবং বাংলা স্কুল পরিচালনা করছে।

সিঙ্গাপুর সিটিতে এই স্কুলের নাম ‘সিঙ্গাপুর বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ এ্যান্ড লিটারেসি সোসাইটি (এসবিএলএস) স্কুল। বর্তমানে এই স্কুলে নার্সারি ক্লাস থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬শ’ ৬৯ জন। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষীরাই মূলত এই স্কুলের শিক্ষার্থী। তবে হালে অনেক বিদেশীও বাংলা ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাংলা শিখছেন। দুই যুগ আগে সিঙ্গাপুরে বাংলা ভাষায় লেখাপড়া ছিল না। বাংলা ভাষারও প্রচলন ছিল না। শবনম আক্তার স্বাতী তাঁর স্বামী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৯৯৩ সালে সিঙ্গাপুর গিয়ে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁদের এই উদ্যোগে যোগ হন আরও কয়েক বাঙালী। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এসবিএলএস স্কুল। প্রথমে এই স্কুলের পাঠ ছিল প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত।

পর্যায়ক্রমে ও-লেভেল (মাধ্যমিক) এবং এ-লেভেল (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। এই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বগুড়ার মেয়ে স্বাতী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে মাস্টার্স করার পর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) উত্তীর্ণ হয়ে সচিবালয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চাকরির পর স্বামীর চাকরির কারণে সিঙ্গাপুর পাড়ি দেন। এরই মধ্যে তাঁদের ঘরে ২ সন্তানের জন্ম হয়। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে ছেলেদের বাঙালীর শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করে দিতে বিদেশে বাংলা ভাষায় লেখাপড়ার ওপর মনোনিবেশ করনে।

কোথাও বাংলা ভাষা শেখার স্কুল না থাকায় উদ্যোগ নেন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার। এ কাজে এগিয়ে আসেন আরও ক’জন বাঙালী। এভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করে স্কুল প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে বসানোর লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। এর আগে সিঙ্গাপুর সরকার চীন, মালয় তামিল হিন্দী ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ওই ভাষাগুলো স্বীকৃতি পেলে কেন বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পাবে না, বিশেষ করে যে ভাষার জন্য বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং জাতিসংঘ প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। এমন যুক্তি স্থাপনে ১৯৯৯ সালে সিঙ্গাপুর সরকার বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়ে মর্যাদার আসনে বসিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিকুলাম চালু করে। তারপর এই স্কুলের অগ্রযাত্রা আর থেমে থাকেনি। স্কুল বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষক পাঠদান করেন। প্রতিবছর ও এবং এ লেভেলের পরীক্ষায় বাংলা আবশ্যিক ভাষা। নার্সারি থেকেই বাংলাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাতীর কথা, বিদেশ বিভুঁইয়ে বাঙালী ও তাঁদের সন্তানরা যেন শেকড়টা ভুলে না যায় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।

বাঙালীর শেকড় ধরে রাখার এই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন স্বাতীর কাছে আত্মীয় বগুড়ার চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ সাইয়ীদের কাছে। ডা. আরশাদ দীক্ষা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে পাওয়া গর্বের এই দেশের মানুষ বিদেশে গিয়েও যেন শেকড় ভুলে না যায়। দেশের প্রকৃতির দাবি থাকে প্রত্যের মানুষের ওপর। স্বাতী জানালেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. আরশাদের কথা তিনি লালন করেন বলেই বিদেশে এতবড় কাজ করতে পেরেছেন। স্বাতীর বাবা বগুড়ার প্রয়াত এ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন ছিলেন প্রগতিশীল ধারার মানুষ। তাঁর কন্যা সেই ধারাতেই বিদেশের মাটিতে গিয়েও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে লালন করছেন।

প্রতি বছর এই স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপিত হয়। বাঙালী সংস্কৃতির অনুষঙ্গ নিয়ে মেলা বসে। বাংলা ভাষায় গান পরিবেশন করে শিল্পীরা। ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় মর্যাদার সঙ্গে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে সে দেশের মন্ত্রী ও উর্ধতন কর্মকর্তা আসেন। তাঁরাও এই দিনে বাংলা ভাষায় কথা বলেন।

আফ্রিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে