Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৬-০৯-২০১৫

বিজ্ঞাপনের বুলিতে বিশ্বাস নেই মাশরাফির

রানা আব্বাস


বিজ্ঞাপনের বুলিতে বিশ্বাস নেই মাশরাফির

ঢাকা, ০৯ জুন- তীব্র দাবদাহে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট সামনে রেখে সতীর্থরা ঘাম ঝরাচ্ছেন ফতুল্লায়। মাশরাফি বিন মুর্তজা তখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। 
গতকাল দুপুরের কথা। স্টেডিয়ামে এসেই ঢুকলেন বিসিবির মেডিকেল রুমে। মাশরাফির আপাতত তাড়া না থাকলেও দ্রুত ফিট হওয়ার তাড়া আছে। চোট নিয়ে বিসিবির চিকিৎসকের সঙ্গে খানিকক্ষণ কথা বললেন। কদিন আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। হাত-পায়ের চোট এখনো সারেনি। অবশ্য মাশরাফির জন্য চোটাঘাত আর নতুন কী! এর চেয়ে কঠিন চোট জয় করে ফিরেছেন মাঠে। 
চোটের কী অবস্থা জানতে চাইলে ডান হাতের তালুটা দেখালেন, ‘এই ক্ষতটা খানিকটা ভোগাচ্ছে। ঘা এখনো শুকায়নি।’ ব্যাট-বল ধরেন এ হাতেই। দ্রুত না সারলে তো বিপদ! কদিন লাগতে পারে শুকাতে? চিন্তিত মুখেই বললেন, ‘চার-পাঁচ দিন তো বটেই।’
ধীর পায়ে ঢুকলেন সাজঘরে। প্রসঙ্গটা এবার তোলা হলো। ভারত সিরিজ সামনে রেখে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা প্রচার-প্রচারণা। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক? বললেন, ‘যদিও আমি বিজ্ঞাপন বা এসব প্রচারণা দেখিনি। এ ব্যাপারে খেলোয়াড়দের মাথা ঘামানোর কোনো কারণ দেখি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে যেটা বিশ্বাস করি, আমাকে যদি কেউ কোনো কিছুর মাধ্যমে ছোট করে, সেটা তার সমস্যা। কিন্তু জবাবে আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। একটা সময় সেই অনুধাবন করতে পারবে, কাজটা ঠিক হয়েছে কি হয়নি। সে আমার সঙ্গে যে আচরণ করবে, আমাকেও সেটা করতে হবে, তা মনে করি না।’

সম্প্রতি প্রচারিত টিভি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, পাকিস্তানি এক দর্শককে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ! তাঁকে টিপ্পনী কাটছেন ভারতীয় দর্শক। পাকিস্তানি দর্শক রেগেমেগে একপর্যায়ে ওই ভারতীয় দর্শককে জানান, বাংলাদেশে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে বড় বাঁশ! এ প্রসঙ্গে মাশরাফি বললেন ‘এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে! এও ঠিক দর্শক-সমর্থকেরা অনেক কিছুই করতে পারে। এর সঙ্গে খেলোয়াড়দের কোনো সম্পর্ক নেই।’
বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানে অবধারিতভাবে মাশরাফির নামটা আসবেই। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে যে তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, দুটির মূল নায়ক তিনি। ১৩ ওয়ানডেতে ১৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তাঁর অবস্থান দুইয়ে। কাজেই ভারত তাঁর ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ বললেও অত্যুক্তি হবে না!
তাঁকে জানানো হলো দুদিন আগে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে শত্রুতা বা ঈর্ষা নেই...’। মাশরাফির পাল্টা প্রশ্ন, ‘এখানে শত্রুতা প্রসঙ্গই বা আসছে কেন?’ এরপর যোগ করলেন, ‘এটা তো আর যুদ্ধ নয়। ভালো খেললে জিতব, খারাপ খেললে হারব। তাদের সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছি না আমরা। মাঠে খেলব, মাঠেই শেষ। আর আমাদের দেশের মানুষ আমাদের সমর্থন করবে, সেটাই স্বাভাবিক। ওদেরও এটা অন্যভাবে নেওয়ার কিছু নেই।’ 
গত মার্চে মেলবোর্নে কোয়ার্টার ফাইনালের পর এক ধরনের ভারত-বিরোধী আবেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-সমর্থকদের মধ্যে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আসন্ন সিরিজেও তার প্রভাব দেখা যেতে পারে। এ শঙ্কা থেকেই কিনা আপত্তিকর প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন, স্লোগান-মন্তব্য নিষিদ্ধ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 
দর্শকের প্রতিক্রিয়াকে অবশ্য স্বাভাবিকই মনে করছেন মাশরাফি, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে বলছি না। বিশ্বকাপে মেলবোর্নে যেটা হয়েছে, তাতে আমাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হবে সেটাও কিন্তু স্বাভাবিক। বার্সা-রিয়ালের খেলায় দেখবেন, ন্যু ক্যাম্পে রোনালদোকে গালি দেয় স্বাগতিকেরা। আবার বার্নাব্যুতে গালি খান মেসি! যুগ যুগ ধরে এটা হচ্ছে। তবে অতিমাত্রায় কিছু হোক, সেটাও চাই না। ভদ্রভাবে যতটুকু দলকে সমর্থন করা যায়, সেটা করাই ভালো।’
মেলবোর্নের কোয়ার্টার ফাইনালকে অতীত মেনে সামনে তাকাতে চান মাশরাফি। ২২ গজে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে সব জবাব দিতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আসলে এসবে কান দিয়ে তো ক্রিকেট খেলা যাবে না। খেলা হবে মাঠে। যারা ভালো খেলবে, তারাই জিতবে। সুতরাং এসবে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমাদের মনোযোগ থাকবে মাঠেই।’ 
ভারত প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে। সেটা ছিল তৃতীয় এশিয়া কাপ। এরপর আরও ১১টি টুর্নামেন্ট, ওয়ানডে সিরিজে খেলতে বাংলাদেশে এসেছে ভারত। ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক বাদে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ খেলতে এসেছে আরও তিনবার। প্রতিবারই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের তকমা নিয়েই বাংলাদেশে এসেছে ভারতীয় দল। এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলো পকেটে পুড়েই দেশে ফিরেছে। 
এই প্রথম দুই দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের বার্তা ছড়িয়ে, রোমাঞ্চকর এক সিরিজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে বাংলাদেশের দুর্দান্ত লড়াইয়ের কারণেই। ভারতের বিপক্ষে লড়াইটা তাই মাঠে সীমাবদ্ধ থাকাই কি যৌক্তিক নয়?

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে