Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০১-২০১২

সন্ত্রাসী খুনি জঙ্গি জামিনের হিসাব নেই র‌্যাব-পুলিশে

সন্ত্রাসী খুনি জঙ্গি জামিনের হিসাব নেই র‌্যাব-পুলিশে
রাজনৈতিক সহিংসতায় সক্রিয় পলিটিক্যাল ক্যাডার, ভাড়াটে পিকেটার, দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীসহ দাগী আসামিদের জামিনের হিসাব নেই র‌্যাব-পুলিশের হাতে। এমনকি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, আর কতজন গা ঢাকা দিয়েছে তা-ও তাদের জানা নেই। রাজনৈতিক উত্তাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সক্রিয় অপরাধীদের অবস্থান এবং তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর এ তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সহিংসতা, বোমাবাজি, গাড়িতে অগি্নসংযোগ, খুন, ডাকাতি ও পুলিশের অস্ত্র লুটের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে অভিযুক্ত কত দুর্ধর্ষ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপন করে আছে কিংবা বিচারের রায়ে এদের কতজনের সাজা কিংবা যাবজ্জীবন কারাদ- বা ফাঁসির রায় হয়েছে- তারও কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির জামিনের নথি আদালত থেকে গতানুগতিক পদ্ধতিতে থানায় পাঠানো হলেও তা সেখানকার সেরেস্তাদারে ফাইলবন্দি করে রাখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত নথি কোনো জেলাতেই এসপি (পুলিশ সুপার) অফিসে পাঠানো হয়নি। সেখান থেকে কোনো পরিসংখ্যান পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পেঁৗছেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে এ অনিয়ম চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ দিনের এ অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ওঠতে বেশকিছুটা সময় লাগবে তা বিবেচনায় প্রথম ধাপে অস্ত্রধারী পলিটিক্যাল ক্যাডারদের জামিনের হিসাব দিতে বলা হয়েছে। সারাদেশে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি অস্ত্র লুটের চেষ্টা এবং জ্বালাও পোড়াও, ভাংচুর-বোমাবাজিসহ বিভিন্ন নাশকতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় গ্রেপ্তারকৃতদের কতজন জামিনে রয়েছে- এদের কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, কতজন ঠিকানা পাল্টে আদালতে গড়হাজির আছে দ্রুত তার তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ তালিকা তৈরি করতে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন হিমসিম খাচ্ছে। থানার সেরেস্তায় ধুলোর স্তূপ সরিয়ে জামিনের ফাইল বের করে এনে দীর্ঘ তালিকা থেকে পলিটিক্যাল ক্যাডার ও ভাড়াটে পিকেটারদের খুঁজতে গিয়ে তাদের গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। এছাড়াও আদালত থেকে পাঠানো জামিনের অনেক ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেরেস্তারদের ভাষ্য, জামিনের অনেক নথি আদালত থেকে সময়মত পাঠানো হয় না। আবার কেউ কেউ জামিন পাওয়ার পর মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে আদালত থেকে নথি গায়েব করে ফেলে। ফলে জামিনের সঠিক পরিসংখ্যান তারা সহজেই দিতে পারছে না। তবে অভিযোগ আছে, জামিনের নথি গায়েবের মূল কারসাজি হয় থানার সেরেস্তাতেই। জামিনপ্রাপ্ত চিহ্নিত অপরাধীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেরেস্তাদাররা দীর্ঘদিন ধরে এ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারাও এতে শরিক হচ্ছেন। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেন, পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণেই জামিনের দৈনন্দিন পরিসংখ্যান রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আর এ সুযোগেই চলছে নানা অপতৎপরতা। সমন্বয় ও নজরদারি না থাকায় একাধিক মামলার আসামি এক মামলাতে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য দূরুহ হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবিসহ ডাটা বেজ প্রোফাইল না থাকায় তারা জামিন পাওয়ার পর ওই নথি সংশ্লিষ্ট থানা থেকে সরিয়ে ফেলে নির্বিঘ্নে অন্য থানা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পলিটিক্যাল ক্যাডারদের মধ্যে ইন্টারলিংক থাকায় তাদের অনেকেই এ সুযোগ নিচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র, গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতালসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচীতে পুলিশের উপর হামলা, বোমাবাজি ও যানবাহনে অগি্নসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর তাদের পিসিআর (প্রিভিয়াস ক্রিমিনাল রেকর্ড) ঘেটে দেখা গেছে এদের সিংহভাগই এর আগেও একই মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে এসেছে। ডিবি ডিসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। আর ক'দিন পরই তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসছে। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্ধর্ষ এসব অপরাধীরা কীভাবে আদালত থেকে জামিন পায় তা নিয়েও ডিবি ডিসি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, চিহ্নিত অপরাধীদের ঢালাও জামিন থামানো না গেলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আইনি ফাঁক-ফোকর গলিয়ে বিভিন্ন আদালত থেকে প্রায় প্রতিদিনই যে বিপুলসংখ্যক অপরাধী জামিন পাচ্ছে, তার হিসাব রাখা খুবই কঠিন। এজন্য পৃথক সেল গঠন করে বেইল ট্রাকিং (জামিন নজরদারি) জরুরি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জামিন নজরদারিতে সেল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এর আগে জামিনে থাকা পলিটিক্যাল ক্যাডার, বোমাবাজ, অগি্নসংযোগকারী ও ভাড়াটে পিকেটারসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে নাশকতায় অংশগ্রহণকারীদের জামিনের তালিকা তৈরির করার জন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই জামিন নিয়ে যারা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। তবে জামিন তালিকা তৈরি এবং ধরপাকড় অভিযান পরিচালনার ডেটলাইন এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। জামিনের হিসাব রাখার ব্যাপারে থানা পুলিশের অক্ষমতা ও উদাসীনতার বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সরকার কর্তৃক পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও পলিটিক্যাল ক্যাডারদের ডন হিসেবে পরিচিত লিয়াকত জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তা জানতে পারেনি। এমনকি লিয়াকত কবে কোনো আদালত থেকে জামিন পায় এ ব্যাপারেও রমনা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন অন্ধকারে। রাজধানীর টপ টেরর বিকাশ কুমার বিশ্বাস ও তার সহযোগী মো. মহসিন হোসেন জুয়েলকে একটি অস্ত্র মামলায় বেকসুর খালাস দেয় ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। এ রায় ঘোষণার পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি লালবাগ ও তেজগাঁও থানা পুলিশ। উল্লেখ্য ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় বিকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজিমপুরের একটি বাসা থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে লালবাগ থানায় বিকাশ ও তার দু'সহযোগীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রুজু করে পুলিশ। ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর পুলিশ ওই মামলায় বিকাশসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে চার্জশিট প্রদান করে। ডিএমপির লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, পল্লবী, শাহআলী, দারুস সালাম ও উত্তরা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জামিনপ্রাপ্ত থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের নাম পরিচয় দূরে থাক, তাদের সঠিক সংখ্যাও জানেন না তারা। তাদের মতো ডিএমপির অধিকাংশ থানার ওসিরই একই অবস্থা বলে তারা স্বীকার করেন। ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ যায়যায়দিনকে জানান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধীদের তারা গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ক'দিন পরই তারা আইনি ফাঁক-ফোকর গলে জামিনে বেরিয়ে এসে তাদের পুরানো পেশায় ফিরছে। তিনি বলেন, সিএমএম ও জজকোর্টসহ শতাধিক আদালত থেকে কে কখন জামিন পাচ্ছে তার হিসাব রাখা দুরূহ। এরপরও কোর্ট বা কারাগারের মাধ্যমে যাতে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের জামিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবগত করা যায় তার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু যায়যায়দিনকে বলেন, ডিসি প্রসিকিউশনের মাধ্যমে থানা পুলিশ তদন্তাধীন মামলার আসামিদের জামিনের তথ্য পেতে পারে। এছাড়াও বিচারাধীন কোনো মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামী জামিন পেল কিনা তা জানতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অনুরোধ করা যেতে পারে। তবে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের জামিনের তথ্যসংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিয়মিত পেতে পারে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নিয়ম চালুর সুপারিশ করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে