Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (26 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩১-২০১৫

গোল্ডেন এ-প্লাসই তার চিন্তার কারণ!

কাশেম কাব্য


গোল্ডেন এ-প্লাসই তার চিন্তার কারণ!
মায়ের সঙ্গে প্রেরণা ও ছোট বোন

ঢাকা, ৩১ মে- মেয়েরে সেরা সাফল্যেও মায়ের চোখে চিন্তার ছায়া! মুখে ফুটে উঠেছে ভাবি অনিশ্চয়তার বলি রেখা। সন্তানের গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়াতে নেই কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস। বিদ্যালয়ের এক কোণায় দাঁড়িয়ে দেখছেন শুধু মেয়ের আনন্দ।

চেতনা মাসুদ গৃহিনী। দুই সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ইজতেমা মাসুদ প্রেরণা। যে এবার এসএসসি পরীক্ষায় রাজধানীর অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে। মেয়ের এ সাফল্যে মা খুশি হলেও ভবিষ্যৎ ভেবে দুঃচিন্তায় আছেন। কারণ প্রেরণারা পিতৃহারা। পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম এই ব্যক্তি গতবছর মারা গেছেন। এখন পুরো পরিবার আত্মীয়দের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তাই মা চিন্তিত মেয়ের আগামীর পথ চলা নিয়ে। এতো ভালো ফলাফলের পর কি হবে? মেয়ে কি পেরুতে পারবে শিক্ষার আগামী ধাপগুলো? –এ কথা ভেবেই চিন্তিত মা চেতনা।

প্রেরণার বাবা মাসুদ হোসেনের ইচ্ছে ছিল মেয়ে ডাক্তার হবে। বাবা এখন নেই, তাই প্রেরণার একমাত্র ভরসা মা চেতনা মাসুদ। যিনি বর্তমানে নিজের পিত্রালয়ে (প্রেরণার নানা বাড়ি) থাকছেন। আত্মীয়দের সহায়তায় চালাছেন মেয়েদের পড়ালেখা। তাই এখন আনন্দের চাইতে চিন্তাই বেশি। পারবেন কি প্রেরণার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে!
মায়ের সঙ্গে প্রেরণা ও ছোট বোন

আনন্দের সেই সমুদ্রে এক আবেগ ঘন পরিবেশে শুধু তিনি এইটুকু বললেন, ‘তার (প্রেরণা) বাবা আজ বেঁচে থাকলে আরো বেশি আনন্দ হতো। আর কোনো চিন্তাও থাকতো না আমাদের। ওর বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়েকে ডাক্তার বানাবে। তাই ওই লোকটার ইচ্ছা পূরণ করাটাই এখন আমার মূল চ্যালেঞ্জ।’

চেতনা মাসুদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রেরণার বাবা গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তখন থেকেই আমাদের আর্থিক সঙ্কটের শুরু। আমি গৃহিনী। তারপরও অনেক জায়গায় চাকরির জন্য চেষ্ট করেছি। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও চাকরি পাইনি। একপ্রকার সংগ্রাম করেই মেয়েকে এ পর্যন্ত এনেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তেমন কোনো সম্পত্তি নেই। তাই দুশ্চিন্তা হলো, মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাবো। আর এখন সন্তানের পড়াশুনা চালানো অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। আমার ইচ্ছা আছে তাকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করাবো। তবে জানি না এসব ইচ্ছার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

ইজতেমা মাসুদ প্রেরণা বলেন, ‘আজকের রেজাল্টে আমি খুবিই আনন্দিত। তবে বাবার জন্য অনেক খারাপ লাগছে। তাছাড়া বাবার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। তাই যেভাবেই হোক বাবার ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা করবো।’

উল্লেখ্য, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সর্বমোট পরীক্ষা দিয়েছিল ১৫৮১ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৫৭৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪২৬ জন। পাসের হার শতকরা ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। এর মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল শাখায় পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, বনশ্রী শাখায় ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ইংলিশ ভার্সন ৯৯ দশমিক ৪২ শতাংশ ও মুগদা শাখায় শতভাগ পাস করেছে। বিজ্ঞান শাখায় ১৩৪৪ জন, ব্যবসায়ে শিক্ষা শাখায় ১৩৪ জন পাস করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় ১২৯১ জন, ব্যবসায়ে শিক্ষা শাখায় ৯৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে