Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.5/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩১-২০১৫

দ্বিতীয় হয়ে ‘অখুশি’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

মোস্তফা ইমরুল


দ্বিতীয় হয়ে ‘অখুশি’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

ঢাকা, ৩১ মে- ঘড়ির কাটায় তখন ঠিক দুপুর ১টা। যেকোনো সময় ঘোষণা করা হবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেটের (এসএসসি) ফলাফল। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবক, সবার সরব উপস্থিতি। সবার চোখে মুখে বিরাজ করছে অস্থির ভাব। এবারও ভালো ফলাফল হবে কিনা এই গুঞ্জন সবার মুখে মুখে। এমন সময় হঠাৎ একজন বলে উঠলেন, দ্বিতীয় স্থান! ঢোল ছিল প্রস্তুত। শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বারি দিল কেউ একজন। সেই সঙ্গে ‍শুরু হল মিউজিক। খুশিতে শিক্ষার্থীদের লাফালাফি। ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে শুরু করল অনেকে। তবে তখনো বেশির ভাগই ব্যস্ত নিজের ফলাফলের খোঁজে। অনেকে আবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দিকেই তাকিয়ে আছে। অনেকে ফলাফল না পেয়ে হতাশ হয়ে তাকিয়ে আছেন বোর্ডের দিকে।

শনিবার দুপুরে এবছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর এমন চিত্র ছিল রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ। শত শত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।

প্রতিষ্ঠানটি এবার ঢাকা বোর্ডসহ সারাদেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এ খবরে বেশ খুশি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমামুল হুদা। তার কথায় প্রতিবারই প্রথম স্থান অধিকার করতে হবে এমনতো নয়। যে ফলাফল হয়েছে তাতেই আমরা খুশি।

২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে টানা তিনবার প্রথম স্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এবারের এমন ফলাফল হবে তা বুঝতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে অভিভাবকরাও কিছুটা বিস্মিত।

‘রাজউক তো প্রতিবছরই ভালো ফল করে। তবে এবার কেনো যে এমন হল তা বুঝতে পারছি না’ বলেই উঠলেন অভিভাবক শামীমা নাজসীমা।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তো অনেক পরিশ্রমি সঙ্গে শিক্ষকরাও। তবে কেনো যে এবার প্রথম হতে পারল না তা বুঝতে পারছি না। সেজন্য খারাপ লাগছে।’

শুধু কী মা, মেয়েও যে অখুশি। তাইতো বাংলা মাধ্যম থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী মাসুমা আনজু তার মায়ের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বললেন, ‘এমনটা তো আমরা চাইনি।
তবে এ ফল বিপর্যয়ের পেছনে দেশের পরীক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষা চলাকালীন দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেছেন অনেক অভিভাবক। তাদের অনেকে মনে করছেন, সে সময় দেশের পরিস্থিতির কারণে তাদের মানসিক চাপ ছিল। সেটাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

পরীক্ষার সময় সারাদেশে লাগাতার হরতাল-অবরোধ ছিল বলে এমন একটা ফল হবে আর তা আগে থেকেই কিছুটা আঁচ করা গিয়েছিল। কেননা, পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে গতি ছিল পরীক্ষা চলাকালীন প্রতিদিন হরতাল-অবরোধে তা মন্থর হয়ে আসে। সেকারণেই এমন ফলাফল হয়েছে বলে মনে করেন অভিভাবক আয়েশা পাঠান।

শেষের দিকে শিক্ষার্থীরা ঝিমিয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণিত সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি ও শারীরিক শিক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে কৃতকার্য হতে হবে এমন নিয়ম চালু করার ফলেও এবারের ফলাফলে তার প্রভাব পড়েছে।

অভিভাবক দম্পতি শফিকুল ইসলাম ও মাহনাজ বেগমও একই কারণকে দায়ী করলেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চারা ভালো করে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাদের মধ্যে সংশয় ছিল আগামীকাল পরীক্ষা হবে কিনা? আমার মেয়ের মাঝে জিজ্ঞাসা ছিল, বাবা আগামীকাল কি পরীক্ষা হবে?

তবে মাহনাজ বেগম মনে করেন গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি কিন্তু শারীরিক শিক্ষাটা বাধ্যতামূলক পাস করার কারণে এমনটা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে সায়র ইসলাম আনান তো ওই পরীক্ষার দিনই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাহলে আপনি বলেন সে কী পরীক্ষা দেবে? পাস নিয়েই তো সে চিন্তায় ছিল।’

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া জামান সুপ্তি বলে, ‘এমন ফলাফলের কারণ হিসেবে অনেক বিষয়ই কাজ করেছে। তার মধ্যে ছিল দেশের অবস্থা। মাঝে মাঝে পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। আমরা নিজেরাও জানতাম না কবে কোন পরীক্ষা হবে?’

তার সহপাঠি তানজিম তাহিয়াত বলে, ‘প্রতিষ্ঠান প্রথম হতে পারেনি, খারাপ তো লাগছেই।

ব্যবসায়ে শিক্ষা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া রিফ্ফাত জামান ইয়াশা বলেন, ‘পরীক্ষা আগে প্রস্তুতির একটা ঝামেলা ছিল। এছাড়াও রুটিন বারবার পরিবর্তন করায় মানসিক চাপ ছিল। এসব কারণেই অনেকে খারাপ করেছে।’

অন্যদের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করা শর্তে প্রতিষ্ঠানটি একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ফলাফল তো আপ-ডাউন হতেই পারে। এবার শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা মানসিক চাপ ছিল। ফলে এ বিষয়টি তাদের প্রস্তুতিতে বেশ ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তাদের যে গতি ছিল তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হয়েছিল তখন তাদের মাঝে একটা আতঙ্ক ছিল, রাস্তায় কী জানি হয়?’

অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অনেকে অনেক কথা বললেও আনুপাতিক হারে প্রতিষ্ঠানটি ভালই করেছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

সৃজনশীল ও শারীরিক শিক্ষায় কৃতকার্য বাধ্যতামূলক করার নিয়মটি পরীক্ষায় তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমামুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। আর সার্বিক ফলাফলই তো একটু নিচে নেমেছে। তবে এটা অবস্থার কারণে। তারা এক মাসের পরীক্ষাটা টানা দুইমাস ধরে দিয়েছে। এগুলো তো শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলে। ফলে সারা দেশের ফলাফলই নিচে নেমে গেছে।’

এদিকে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে এসএসসিতে অংশ নেয় মোট ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২ জন ছাড়া বাকি সবাই কৃতকার্য হয়েছে।

আর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ৪৭৪ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫৯ জন।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে