Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ , ১০ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.3/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩১-২০১৫

সৃজনশীলেই পেছালো শিক্ষামন্ত্রীর সিলেট!

খলিলুর রহমান


সৃজনশীলেই পেছালো শিক্ষামন্ত্রীর সিলেট!

সিলেট, ৩০ মে- অভিযোগ আছে সিলেটীরা লেখাপাড়ায় পিছিয়ে। কিন্তু ২০০৯ সালে নূরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর এসএসপি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ড ২০১২ সালে প্রথম স্থান লাভ করার গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও এইচএসসিও দুইবার সিলেট শিক্ষা বোর্ড প্রথম হয়েছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ি সিলেট হওয়ার সুবাদে সিলেট বোর্ড প্রথম হয়েছে, এমন অভিযোগও করেছেন অনেকেই। এমনকি স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীকে এমন প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হয়েছে অনেকবার।

সিলেট শিক্ষাবোর্ড প্রথম হওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, ‘সিলেট শিক্ষার ক্ষেত্রে আর পিছিয়ে নেই।’ সারা দেশের মত সিলেট বিভাগের শিক্ষকদের বিভিন্ন ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থা ও শতভাগ পাশ করার জন্য তাগিদ দেয়ায় শিক্ষায় মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসিতে প্রথম হওয়ার পর পুনরায় পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর বোর্ড সিলেট। এবার এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাস করেছে শতকরা ৮১ দশমিক ৮২ ভাগ শিক্ষার্থী। যা অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় সর্বনিম্ন।

সিলেট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ড থেকে ৭২ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৫৮ হাজার ৯৩২ জন। বিজ্ঞান বিভাগের ১৫ হাজার ২০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫৮ জন, মানবিক বিভাগের ৪৮ হাজার ৮০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ হাজার ৩১৩ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৮ হাজার ২১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ১৬১ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৯৫ দশমিক ১২ শতাংশ, মানবিকে ৭৬ দশমিক ৪৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২ হাজার ৪৫২ জনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২ হাজার ৩৪১ জন, মানবিক বিভাগের ৪৩ জন ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের ৬৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৮ জন ছেলে ও ১ হাজার ১১৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থী।

মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ গ্রেডে ১২ হাজার ৫৬ জন, এ মাইনাস গ্রেডে ১৪ হাজার ১৯ জন, বি গ্রেডে ১৭ হাজার ১০৭ জন, সি গ্রেডে ১২ হাজার ৭৪৩ জন ও ডি গ্রেডে ৫৫৫ জন রয়েছে।

এবারের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। এবার ৩২ হাজার ৪১৩ জন ছেলে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২৬ হাজার ৯৬৬ জন। ছেলেদের পাশের হার ৮৩ দশমিক ২০ শতাংশ। পরীক্ষায় ৩৯ হাজার ৬১১ জন মেয়ে পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩১ হাজার ৯৬৬ জন। মেয়েদের পাশের হার ৮০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ব্লু-বার্ড হাইস্কুল থেকে সবচেয়ে বেশি ১৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৪২ জন ও সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে সার্বিক মূল্যায়নে বোর্ডের সেরা হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ।

তবে কী কারণে পিছিয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘সিলেটে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫-এর সংখ্যা কমেছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে প্রথম থেকে বোর্ড তালিকার শেষে চলে গেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। হরতাল-অবরোধের পাশাপাশি নতুন প্রবর্তিত সৃজনশীল পদ্ধতির কারনেই আমরা পিছিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার পার্সেন্টেজটা একটু ডাউন হয়ে গেছে। সেটা শুধু আমাদের এখানে না, সারা বাংলাদেশেই আপনারা দেখবেন এবং এই ক্ষেত্রে যেটা অ্যাফেক্ট করেছে আমাদের একটি নতুন পদ্ধতি হয়েছে গণিতে সৃজনশীল। ওই সৃজনশীলটাই একটু নতুনের জন্য।’

সৃজনশীল প্রক্রিয়া খুবই ভালো জানিয়ে মান্নান বলেন, ‘প্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে গিয়ে হয়তো আমরা সমভাবে সব জায়গায় প্রশিক্ষণ দিতে পারি নাই বা ছাত্ররাও ওইভাবে প্রশিক্ষণ লাভ করতে পারে নাই। এখানে আমরা একটু পিছিয়ে আছি।’

পরীক্ষা যথাসময়ে না হওয়াটাকেও পিছানোর আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষাগুলো আমরা যথাসময়ে নিতে পারি নাই। প্রত্যেকটাই আমরা শুক্র-শনিবারে নিয়েছি। পরীক্ষার্থীদের আমরা একদিন আগে জানাইছি, যার কারণে ওরা সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে নাই। এই প্রস্তুতিটাও কিন্তু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেটাও একটা কারণ।’

এদিকে, সিলেট শিক্ষা বোর্ড পিছিয়ে থাকলেও সিলেট নগরীর স্কুলগুলো আনন্দ-উল্লাসের কমতি ছিলো না। শনিবার সকাল থেকে সিলেট নগরীতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলেও ফল প্রত্যাশীরা নিজেদের রেজাল্ট জানতে বৃষ্টিকে হার মানিয়ে ছুটে এসেছেন ক্যাম্পাসে। আবার কেউ কেউ অভিভাবকদের নিয়েও ক্যাম্পাসে আসতে দেখা গেছে।

শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, ওই স্কুলে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ‘এ’ প্লাস প্রাপ্ত কয়েকজন ছাত্রী বৃষ্টিতে ভিজে উল্লাস করতে দেখা গেছে। এছাড়াও সাফল্যের আনন্দ সহপাঠী আর অভিভাবকদের মধ্যে ভাগাভাগি করতেও দেখা গেছে।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে