Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-৩০-২০১২

বেড়েছে প্রবাসী আয় ও রাজস্ব আদায়

সাইদ আরমান


বেড়েছে প্রবাসী আয় ও রাজস্ব আদায়
দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক সূচকের আভাস মিলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্র্নর ড. আতিউর রহমান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তবে অর্থনীতির বেশ কিছু সূচক বলছে, বিগত বছরের তুলনায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নেতিবাচক দিকে রয়েছে।’ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিগত আট মাসের ধাক্কা সামাল দিয়ে অর্থনীতি কতখানি ঘুরে দাঁড়াবে তা দেখার বিষয়।


প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) : বিশ্বমন্দার বিলম্বিত প্রভাব কাটিয়ে অর্থবছরের শেষদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধনাত্মক গতি এসেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থ বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। বিগত অর্থ বছরের সাত মাসে তারা প্রায় সাড়ে আটশ কোটি (৮৪২০ মিলিয়ন ডলার) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে এগারো শ’ কোটি ডলার (১১৬৫০ মিলিয়ন ডলার)। গত ডিসেম্বরে তারা এযাবৎকালের রেকর্ড ১১৪ কোটি ডলার পাঠায়। কিন্তু তার পরের মাস জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ১২১ কোটি ডলার পাঠায়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে এটা নেমে এসেছে ১১১ কোটি ডলারে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী ২৫ মার্চ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের পরিমাণ ৯শ ৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে এসে তা এক হাজার কোটি ডলার গিয়ে দাঁড়ায়। মার্চের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং হাউস (আকু) পেমেন্ট করাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। গত অর্থ বছরের মার্চে যার পরিমাণ ছিল এক হাজার কোটি ডলারের ওপরে। গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক পর্যন্ত প্রায় চার মাস এই রিজার্ভ ৯০০ কোটি ডলারের ঘরে অবস্থান করে। ফলে দীর্ঘ দিন চাপের মুখে ছিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রির্জাভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কমে প্রায় ৯০০ কোটি ডলারে নেমে আসে। অক্টোবর মাসে তা আবার হাজার কোটি ডলার ছাড়ায়। তবে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তা ৯০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিলো। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তা বাড়তে শুরু করে।

সূত্র জানিয়েছে, চাহিদা অনুপাতে ডলারের সরবরাহ না বাড়ায় টানা ২২ মাস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে তা ৯ বিলিয়নে নেমে আসে। এর পর অক্টোবরে তা আবার ১০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। নভেম্বরে আবার নেমে আসে ৯ বিলিয়নে। ডিসেম্বর জুড়ে এটি ৯ বিলিয়নের ঘরে ছিল। এদিকে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড করে। সে সময়ে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় এগারশো কোটি ডলারের ওপরে।

বৈদেশিক বিনিময় হার: বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং স্বর্ণমূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মার্চে টাকার বিপরীতে প্রতি এক ডলারের দর ৮১ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ৭১ টাকা। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলার বেচাকেনা হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৪ টাকায়। বাইরে তা ৮৭ টাকাতে বেচনাকেনা হয়েছে। মার্চের শুরু থেকে তা পড়তে শুরু করে। অর্থাৎ টাকার বিপরীতে কমতে থাকে ডলারের দাম। 

আমদানি: বিগত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় আমদানি ব্যয় ৪১ দশমিক শতাংশ ৮ বেড়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থ বছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে। এ বছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় ঋণপত্র স্থাপনাভিত্তিক আমদানি ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। অপর দিকে, এ সময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তিভিত্তিক আমদানি ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে খাতওয়ারি ঋণপত্র স্থাপনার তথ্য পর্যালোচনা থেকে দেখা যায়, ভোগ্যপণ্য আমদানি মূল্য ৭৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, মূলধন পণ্য ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি মূল্য ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। অপরদিকে, পেট্রোলিয়ামের আমদানি মূল্য ৯৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

রফতানি: সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। মোট রফতানি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার। চলতি মার্চের বিগত দিনগুলোতেও রফতানি সন্তোষজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে রফতানি আয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছিলো। আশা করা হচ্ছে এ বছর রফতানি লক্ষ্যমাত্রা আড়াই হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ফেব্রুয়ারি মাসে রফতানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি।

রাজস্ব: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে সাত হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। যা বিগত বছরের জানুয়ারি তুলনায় ১৮ দশমিক এক শতাংশ বেশি। বেড়েছে গত ডিসেম্বর মাসের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে অর্থ বছরের প্রথম ছয়মাসে ৪৬ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে যার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ বেশি।

জানতে চাইলে তত্ত্ববধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রক্রিয়ায় বলেন, ‘এটা ঠিক অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন, বিগত আট মাসের ধাক্কা সামলে নিয়ে কতখানি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? আমার ধারণা, চলতি অর্থ বছরে জাতীয় প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে তিন শতাংশের বেশি হবে না।

তিনি বলেন, ‘অর্থ বছরের বাকি আছে তিন মাস। রফতানির প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক নয়। মূল্যস্ফীতি এখনো দুই অংশে রয়েছে। তবে প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রবাহ, সরকারের ঋণ কিছুটা কমেছে, আমদানি কিছুটা কমেছে, রাজস্ব আদায় বেড়েছে, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বেড়েছে। এগুলো ভালো দিক। তবে আমদানি ও রফতানির গ্যাপের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি এখনো চাপে রয়েছে।’  
তবে অর্থ বছরের শেষ দিকে এসে সরকারের ঋণ আবার বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে