Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.8/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২২-২০১৫

সন্তান বিক্রি করছেন ভারতীয় কৃষকরা!

সন্তান বিক্রি করছেন ভারতীয় কৃষকরা!

ভোপাল, ২২ মে- কোনো উপায় না পেয়ে গত আগস্টে নিজের দুই ছেলেকে পশুখামারির কাছে এক বছরের জন্য বিক্রি করে দেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের মোহনপুর গ্রামের লাল সিং। বিনিময়ে তাকে দেয়া হয় ৩৫ হাজার রুপি (৫০০ ডলার)। অসময়ের ভারি বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টির কারণে এ গ্রামের হতভাগ্য অনেক কৃষকের মতো তারও আবাদ করা সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ঘরে তো খাবার নেই-ই, উপরন্তু রয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা। এ অবস্থায় সন্তান বিক্রি অথবা আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো পথ ছিল না বলে জানান সিং।

সিং জানান, ‘ঋণ পরিশোধের জন্য আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। এর ওপর পরিবারের জন্য খাবার জোগান ও চাষ শুরু করার জন্য আরো অর্থের প্রয়োজন ছিল। তাই বাধ্য হয়ে সন্তান বিক্রি করেছি। আমি জানতাম, যা করছি তা বেআইনি এবং আমার সন্তানদের নির্যাতন করে কাজ করতে বাধ্য করা হবে। কিন্তু আমার কাছে যে আর কোনো রাস্তা ছিল ছিল না।’

সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপুল ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিপুল ঋণের বোঝায় হতাশ কৃষকরা হয় আত্মহত্যা করছেন অথবা নিজের সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছেন। হারদা জেলার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর রজনীশ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, জোরপূর্বক কাজ করানো হচ্ছে, এ রকম পাঁচজন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে গত এপ্রিলে। তদন্ত করা হলে এ ধরনের আরো ঘটনা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

অনেক সময়ই উদ্ধারকৃত শিশুরা তিরস্কারের ভয়ে নিজ পরিবারে ফিরতে চায় না। উদ্ধার হওয়া ১১ বছর বয়সী অমিত বলেন, ভেড়াসহ অন্য পশু-পাখি দেখাশোনা আমাদের কাজ ছিল। দিনে একবারের বেশি খেতে দেয়া হতো না।

শিশুদের বিক্রি করা অপরাধ— বিষয়টি স্বীকার করে অমিতের মা জানান, বেঁচে থাকার জন্যই এ কাজে বাধ্য হয়েছি। তা না হলে অন্য অনেক কৃষকের মতো তাদেরও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হতো।

বৈরী আবহাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পর ভারতের কৃষকদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়ে গেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের দেয়া তথ্যে দেখা গেছে। এ বছর মধ্যপ্রদেশে ৫ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমির রবি ফসল নষ্ট হয়েছে। বিপুল লোকসান ও দেনা থেকে মুক্তি পেতে শুধু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে ৪০ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

মধ্যপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী গৌরী শংকর বিসেন বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ নিয়ে তারা তদন্তে নেমেছেন। তবে সরকার এসব অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ শুরু করলেও তা খুব ঢিমেতালে চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আর সরকার থেকে যে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে, তা ঋণের তুলনায় খুবই নগণ্য।

(প্রিয় পাঠক,  আপনার অভিমত লক্ষ লক্ষ পাঠকের সাথে শেয়ার করতে চাইলে নীচের বক্সটিতে লিখুন।)

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে