Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৭ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (61 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২২-২০১৫

পাবলিক বাসে যৌন সন্ত্রাস: এখনও বিচার পাননি প্রতিবাদী সেই দুই নারী

পাবলিক বাসে যৌন সন্ত্রাস: এখনও বিচার পাননি প্রতিবাদী সেই দুই নারী

নয়াদিল্লি, ২২ মে- পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি এখন নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিভিন্নক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে আজকের নারী। তবে সবসময় কাজটি সহজ হয়ে ওঠে না। চলতে-ফিরতে নারীদের নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। পাবলিক বাসে কিংবা ভীড়ের মাঝে প্রায়শই নারীদের যৌন সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়। অনেকে চুপ থাকেন, লোকলজ্জ্বার ভয়ে আওয়াজ তোলেন না ।

তবে ছয় মাস আগে ভারতে পাবলিক বাসে যৌন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল দুই নারী। অভিযুক্ত তিন যুবকককে বাসে সবার সামনে বেল্ট দিয়ে পিটিয়েছে তারা। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার পর মুহূর্তেই সবার মাঝে তা চাঞ্চল্য তৈরি করে। তবে ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনো কোনো শাস্তি পাননি।

ঘটনাটি ঘটে গেলো বছর ২৮শে নভেম্বর, ২২ বছর বয়সী আরতি এবং তার ১৯ বছর বয়সী পূজা একটি পাবলিক বাসে করে কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলো। ৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় পূজা একটি যুবককে বেল্ট দিয়ে মারছিলো এবং আরতি ছেলেটির কলার ধরেছিলো। অন্য যুবকটি ঠিক ওই যুবকের পেছনে লুকিয়ে ছিলো এবং তৃতীয় যুবককে ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছিলো না। প্রহারের পরে ওই তিন যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশ তাদের যৌন হয়রানি মামলায় গ্রেফতার করে। কিন্তু গ্রেফতারকৃতরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়।

পুলিশের দাবি সাক্ষী নেই

বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণের কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রধান শশাঙ্ক আনন্দ বলেন, ট্রান্সপোর্ট বিভাগ যাত্রীদের তালিকা না রাখায় ঘটনার স্বাক্ষী খুঁজতে আমাদের অনেক সময় লেগে যায়। এটি খুবই জটিল প্রক্রিয়া ছিল। যাত্রীদের খুঁজে বের করার পরও অল্প কিছু মানুষ স্বাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছিলো।

অভিযুক্তদের আইনজীবী প্রদীপ মালিক বাসের অনেক যাত্রীর লিখিত স্টেটমেন্ট নেন। তিনি বলেন, সকল স্বাক্ষী আমাদেরকে ভিডিওয়ের পেছনের সত্য ঘটনার কথা বলেছেন। সেদিন কোনো প্রকার যৌন হয়রানি করা হয়নি। বরং বাসের সিট নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়েছিলো। বাসের যাত্রীদের দেয়া লিখিত বক্তব্যগুলোও এমন কথাই বলে।

‘দুই বোনের বক্তব্য নেয়া হয়নি’

দুই বোনের আইনজীবী আত্তার সিং পাওয়ার বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ বানানো স্টেটমেন্ট এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। স্বাক্ষী হিসেবে তিন নারী থানায় আসলেও তাদের বক্তব্য নেয়া হয়নি। অন্যান্য গ্রামবাসী থানায় গিয়ে নিশ্চিত করেছেন তারা যেন স্বাক্ষ্য দিতে না পারে।

বিড়ম্বনায় দুই বোন

তবে এ ঘটনার পাল্টে দিয়েছে দুই বোনকে। তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এখন নির্বাক। পুজা জানিয়েছেন, পুনরায় যৌন হয়রানির শিকার হলেও তিনি আর প্রতিবাদ করবেন না।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য আমাদের বাবা-মাকে অনেক নোংরা মন্তব্য শুনতে হয়েছে। আমরা তাদের এ অসহায় এবং ক্রন্দরনত মুখ কখনোই ভুলতে পারবো না। মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য তাদের উপর অনেক চাপ দেয়া হয়েছে।

দুই বোনকে অনেকে হিরোইন মনে করছিলো। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করলো যখন তাদের নিয়ে ইন্টারনেটে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পরে। ভিডিওটিতে দেখা যায় তারা একটি পার্কে আরেকজন যুবককে পেটাচ্ছেন। হারায়ান সরকার তাদের একটি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো। কিন্তু এ ভিডিও প্রকাশের পর তাদের এ সম্মাননা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। পূজা বলেন, এখন সবাই আমাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা বলেন আমরাই আসলে মানুষকে মারি এবং ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করতে চাই। আসলে কোনো নারী আওয়াজ তুললেই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

পুজা অভিযোগ করেন তাদেরকে একটি লাই-ডিটেক্টর মেশিনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যেখানে তাদের সেক্সুয়াল ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়। তবে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযুক্তরা কোথায়?
ঘটনার মূল আসামি ২০ বছর বয়সী কুলদীপ। তিনি একজন নারীর হাতে মার খেয়েছেন এ ব্যাপার তার বন্ধুরা তাকে হয়রানি করে কিনা জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে বলেন ‘না’।

অন্য আসামী দিপক বলেন, ‘সেদিন বাসে আসলে কোনো যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেনি। আমি দেখলাম হঠাৎ করে একটি মেয়ে সিট থেকে উঠে কুলদিপকে মারতে শুরু করলো।
তিনি আরো বলেন, এতদিনে পুলিশের কোনো ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। এই ব্যাপারটি নিয়ে আমরা খুবই অস্বস্তিতে আছি।’

কুলদিপ এবং দিপক সেনাবাহিনীর প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু যৌন সন্ত্রাসের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়ার ব্যাপারে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এবং দু’বছরের মধ্যে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যাবে।

যৌন সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করতে প্রয়োজন পরিবারের সমর্থন 
ভারতে বাসে যৌন হয়রানি যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এটাকে অনেক নারীই স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছেন। এ নিয়ে এক নারী মন্তব্য করেছেন যে, ‘এটা তো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। অনেক নারীই তো বাসে চলাফেরা করে তারা তো কখনো ছেলেদের মারে না।’
তবে পুজা এবং আরতি’র কলেজ বন্ধুদের কাছে তারা সত্যিকার অর্থেই ‘হিরোইন’।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, সবাই প্রতিবাদ করতে চায়। আমরা প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হই। তাদের দুজনকে তাদের পরিবার যেমন সমর্থন দিয়েছে আমাদেরকে দিলে আমরাও প্রতিবাদ জানাতে ভয় করতাম না।’

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে