Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৯-২০১৫

মমতার পর মোদির নতুন ঘুঁটি জয়ললিতা

মমতার পর মোদির নতুন ঘুঁটি জয়ললিতা

নয়াদিল্লি, ১৯ মে- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গেও সম্পর্কের বরফ গলাতে সচেষ্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গের মমতা দিদির মন জয় করেছেন মোদি। এবার ‘তামিলনাড়ুর আম্মার’ মন জয়ে উদ্যোগী হচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক খেলায় এটিকে মোদির নতুন কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে এক মঞ্চে বসে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুজনে একান্তে বৈঠকও করেন। দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি। মোদি এবার জয়ললিতার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মোদি গুরুত্ব দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমনকে। সেই মোদিই আবার দুর্নীতির অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা জয়ললিতাকে ফোনে অভিনন্দন জানালেন। অভিযোগ থেকে জয়ললিতার খালাস পাওয়া নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তাই মোদির এই আচরণে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

‘তামিলনাড়ুর আম্মা’ বলে পরিচিত জয়ললিতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি করেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী। কর্ণাটকের আদালত দুর্নীতির মামলা থেকে জয়ললিতাকে খালাস দেওয়ার পর তিনি বলেন, আদালতের এ রায়ে রাজনৈতিক নেতারা লাভবান হন। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

দলের ভেতর থেকে যখন জয়ললিতার খালাসের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, তখন মোদির অভিনন্দন জানানোর ঘটনায় চমকে উঠতে হয়। একটু বিশদভাবে খতিয়ে দেখলে চমক ভাঙে। মমতা ব্যানার্জি ও জয়ললিতা দুজনেরই নিজ নিজ রাজ্যে আধিপত্য প্রবল। তাঁরা যথেষ্ট ক্ষমতাধর। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চান মোদি। তাঁদের সমর্থন পেলে পার্লামেন্টে লাভবান হবে মোদির সরকার।

মাত্র কিছুদিন আগেও তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতার সঙ্গে মোদির দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। সারদা কেলেঙ্কারি ও বর্ধমান বিস্ফোরণ নিয়ে মোদি সরকার রাজনৈতিক খেলা খেলছেন বলে অভিযোগ ছুড়েছিলেন মমতা। যেকোনো সময় মোদিকে জেলে পুরবেন বলেও হুমকি দেন মমতা। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো, হঠাৎ করেই মমতার সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগী হয়েছেন মোদি। পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়ে মোদি মমতার সঙ্গে এক মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন। কলকাতা সফরে গিয়ে নজরুল মঞ্চে মমতার সঙ্গে বৈঠকও করেন। লোকসভায় মমতার ৩৪টি আসন রয়েছে। পার্লামেন্টে মমতার সমর্থন পেলে লাভবান হবেন মোদি। মমতার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার এটি একটি কারণ হতে পারে।

একই কথা খাটে তামিলনাড়ুর আম্মা জয়ললিতার ক্ষেত্রেও। দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ডিএমকে কিছুটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এতে বিজেপি নেতা সুব্রানিয়াম স্বামীও অনেকটা নরম হয়েছেন। আম্মার এআইএডিএমকে দল পার্লামেন্টে তৃতীয় বৃহত্তম। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে চান মোদি। জয়ললিতার সঙ্গে সরাসরি কোনো বিরোধে যেতে চান না মোদি। জানা গেছে তিনি সুব্রানিয়াম স্বামীকেও কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

পার্লামেন্টে জয়ললিতা যথেষ্ট প্রভাবশালী। বিরোধী পক্ষের রক্তচক্ষুকে তিনি ভয় পান না। তামিলনাড়ুর ভোটাররা অনেকটা তাঁর কাছে সন্তানের মতো।

২২ মে দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন জয়ললিতা। সেখানে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি ফিরে আসবেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার দুর্নীতির মামলা থেকে তাঁকে খালাস দেওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা নিয়েও ভাবনা রয়েছে। তবে কংগ্রেসকে এ ক্ষেত্রে কেবল আইনি দিক নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটিও ভেবে দেখতে হবে। যদি কর্ণাটক সরকার আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিজেপি রাজ্যসভায় থাকা জয়ললিতার ১১ জন পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন সহজেই পাবে। এসব সমর্থন বিভিন্ন বিল পাসের ক্ষেত্রে মোদি সরকারকে সহায়তা করবে। সামনেই ভূমি অধিগ্রহণ বিল পাস করার কথা। এটি নরেন্দ্র মোদির জন্য সম্মান রক্ষার একটি ইস্যু। আর তাই পার্লামেন্টে দল ভারী করতে চান মোদি। এনডিটিভি অনলাইন অবলম্বনে

(প্রিয় পাঠক,  আপনার অভিমত লক্ষ লক্ষ পাঠকের সাথে শেয়ার করতে চাইলে নীচের বক্সটিতে লিখুন।)

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে