Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ , ১১ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৯-২০১২

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ, দাবি ভারতীয় পত্রিকার

টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ, দাবি ভারতীয় পত্রিকার
ইমফল, ২৮ মার্চ: টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের কিছুই বলার নেই বলে মন্তব্য করেছে মনিপুরের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম কাংলা। ইমফল ফ্রি প্রেসের বরাত দিয়ে বুধবার কাংলা অনলাইন  ‘বাংলাদেশ হ্যাজ নো ফাইনাল সে’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
 
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অবশেষে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বহুমাত্রিক টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে বাংলাদেশকে বুঝিয়ে সম্মত করতে পেরেছে। বাংলাদেশের বিরোধীদল ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলন সত্ত্বেও দেশটির সরকার প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে নিজেদের সদিচ্ছার কথা জানিয়েছে। নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত তারিক আহমাদ কারিম সরকারের এই ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।
 
কাংলা লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে কাংলা অনলাইন।
 
কাংলা’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়া দিল্লিতে সফরকালে গওহর রিজভী ও ডক্টর মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত তারিক আহমাদ কারিম দেশটির প্রধান নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। সে সময় তারা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী, গ্রাম উন্নয়ণমন্ত্রী, পানি সম্পদমন্ত্রী ও জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে সাক্ষাত করেন।
 
কাংলা বলছে, ভারত সরকারের আশ্বাসেই বাংলাদেশ সরকার এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। ভারত আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি প্রবাহ কমবে না। এবং এই বাঁধ নির্মাণের ফলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কোনো ধরনের বিরূপ প্রাকৃতিক প্রভাব পড়বে না। এমন কি বর্ষা ঋতুতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিও হবে না। এর পরেও বাংলাদেশ সরকার বাঁধ এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। দলটি বাঁধ এলাকাটি দেখবে ও বাঁধের বৈশিষ্ট্যগুলো খতিয়ে দেখবে।
 
বাঁধের কারণে সুরমা, কুশিয়ারার পানি প্রবাহের মাত্রাও পরীক্ষা করবে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সম্মতিটি সর্বসম্মতি নয়। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ দল বরাবরের মতোই বলে আসছে এই বাঁধের ফলে বাংলাদেশে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটবে, ঋতুবৈচিত্রে পরিবর্তন আসবে, কৃষিক্ষেত্র ও মৎসক্ষেত্র বিপর্যস্ত হবে। তাছাড়া দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দলের বক্তব্যকে আমলে না নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল।
 
কাংলা বলছে, বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় একটি বিষয় হচ্ছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পে অংশীদার হতে পারবে। প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সমানভাবে দু’দেশ ভাগ করে নেবে।
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার মনে করে এই প্রকল্প বাংলাদেশকে নিশ্চিত সুবিধা দেবে। বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তই প্রকল্প থেকে লাভবান করতে পারে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের জন্য টিপাইমুখ বাঁধ সম্ভাবনাময় বলেই মনে করছে দেশটির সরকার।
 
প্রতিবেদনে জানানো হয়, টিপাইমুখ একটি প্রস্তাবিত বাঁধ প্রকল্প যার মূল উদ্দেশ্য হবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা।এই প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে পানি অধিকার নিয়ে বিরোধ শুরু হয়েছে। এই বাঁধের ফলে মনিপুরের বরাক নদী তীরের অধিবাসীদের একাংশ স্থান বিচ্যুত হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩৯০ মিটার লম্বা ও ১৬২ দশমিক ৮ মিটার উচু বাঁধ দেয়া হবে বরাক নদীতে।
 
সবশেষে কাংলা লিখেছে, এ বাঁধের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দৈনিক এক হাজার ৫০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে টিপাইমুখ বাঁধে বাংলাদেশের সমর্থনের মানে এই নয় যে এর বিপরীতে সকল বাধা কেটে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে