Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (44 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৭-২০১৫

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে বাংলাদেশের সাহায্য খুবই জরুরি: বিনা সিক্রি

মিজানুর রহমান


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে বাংলাদেশের সাহায্য খুবই জরুরি: বিনা সিক্রি

ভারত তার ‘বড় ভাইসুলভ’ মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে বহু প্রতিক্ষীত এ সীমান্ত বিল পাশ করে শুধু বাংলাদেশই নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায়ই সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপনে ‘অভিভাবক’র পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করেন ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনা সিক্রি। ভারত-বাংলাদেশের দু’দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে ভারতীয় একটি অনলাইন লাইভ মিন্টকে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। এ বিলের তাৎপর্য নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে বিনা সিক্রি বলেছেন, এ বিল পাশের ফলে নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ মতবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং প্রমাণিত হলো, মোদি যা বলেন তা করে দেখান।

তাঁর সাক্ষাৎকারটি দেশে বিদেশে'র পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: ৪১ বছর আগে প্রথম স্বাক্ষরিত এ বিলটি এখন ভারতীয় পার্লামেন্টে পাশের পর এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এ বিলটি কি বার্তা দিচ্ছে?

বিনা সিক্রি: প্রথম কথা হচ্ছে মোদি তার কথা রেখেছেন। তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ মতবাদ কাজে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তার উপর দেখুন, বিলটি নিয়ে নিজের দলেই অনেকেই বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু সব বাধা উপক্ষো করে, পরবর্তী নির্বাচনের কথা না ভেবে বা নিজ দেশে একটা রাজনৈতিক বিজয়ের ‘সাময়িক’ লোভ উপক্ষো করে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্কে এ বিল একটি বিশাল ভূমিকা রাখবে। ভারতের ব্যাপারে বাংলাদেশের মিডিয়া এত ভালো খবর পরিবেশন করতে আমি এর আগে কখনো দেখিনি। বাংলাদেশের অনেকেই আছেন যারা ভারতের ব্যাপারে বিরুপ ধারণা পোষণ করেন। এই বিল পাশের ফলে শুধু তারাই নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কেউ এটাকে ভারতের সাবেক নেতা বা মোদির সমস্যা বলতে পারবেন না। আসলে মোদি যে সমস্যাটার সমাধান এখন করলেন তার সূত্রপাত হয়েছিলো সেই ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের সময়ে। এ বিল পাশের পর এখন অন্যান্য দেশগুলোও ভারতের সাথে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারবে। যেমন ধরুন, নেপালের সাথে কোন ইস্যুতে সমাধানের প্রয়োজন, দেশটি এখন বলতে পারবে, মোদির কাছে যান; সমাধান পাবেন। একই বিষয় হতে পারে মালদ্বীপ বা আফগানিস্তানে ক্ষেত্রেও। এগুলো সবই ইতিবাচক বার্তা। এ অঞ্চলে দেশগুলোর সাথে আরো সহনশীল ও সৌহার্দপূর্ণ বন্ধনের বার্তা দিচ্ছে এ বিলটি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে কি বড় ধরনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এ বিল পাশের ফলে?

বিনা সিক্রি: আমি মনে করি, পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আসলে উপলব্ধি বা ধারণার উপর ভিত্তি করেই প্রতিবেশির সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এ বিলের পর বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের লোকসভায় দেয়া ভাষণের এই উদ্বৃতি কোট করা হয়ে। সুষমা স্বরাজ বলছিলেন, এ বিল পাশের মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণিত হলো যে, ভারত বাংলাদেশের ‘বিগ ব্রাদার’ নয় বরং ‘এলডার ব্রাদার’। আমার মনে হয়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কটা যখন ‘বড়ভাইসুলভ’ হয় তখন এটা হয় বন্ধুসুলভ, শ্রদ্ধার, পারস্পরিক বোঝাপড়ার। কিন্তু কর্তৃত্বের সম্পর্ক হলে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব থাকতো। এ বিলটি গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি কারণে যে, ভারতের নেতৃত্ব থেকে এখন একটা বার্তা পাঠানো হলো বাংলাদেশকে যে, প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে আমরা অন্যান্য সমস্যাও সমাধান করতে প্রস্তুত। অন্যদেরকেও ভারতের এ মনোভাব সম্পর্কে ভালোভাবে ভাবতে সাহায্য করবে। সীমান্ত বিলের মত সমস্যা সমাধান হওয়াতে বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য সমস্যা যেমন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সমস্যাগুলোও আলোর মুখ দেখতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ভারতের ভাবমূর্তি উন্নয়নে এটা কীভাবে সাহায্য করবে? আর এর দ্বারা শেখ হাসিনা কীভাবে উপকৃত হবেন?

বিনা সিক্রি: সবচেয়ে বড় যেটা হবে সেটা হচ্ছে ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ ধারণাটা পরিবর্তন হবে। তারা এখন মোদির মুলনীতি সম্পর্কে একটা ধারণা পাবে। মোদি যখন ক্ষমতায় এসেছিলো তখন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বেশ সংশয় কাজ করেছিলো। কংগ্রেসকেই তারা নিজেদের জন্য বেশি বন্ধুভাবাপন্ন মনে করে আসছিলো। মোদি যখন তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার নের্তৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন এ ধারণার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিলো। কিন্তু এ বিল পাশের ফলে বাংলাদেশিদের এ ধারণার বেশ বড়সড় একটা পরিবর্তন হবে বলেই আমার ধারণা। আর শেখ হাসিনার লাভ বলতে, এটাতে এখন পরিষ্কার যে, এ বিল পাশের ফলে লাভটা বেশি বাংলাদেশেরেই হয়েছে, একথা বলতে পারবেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর ভারতের প্রতি মনোভাবের উপর এটা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে? অথবা বাংলাদেশে আরো অনেকেই মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব আছে, তাদের উপরই বা কী প্রভাব ফেলবে?

বিনা সিক্রি: বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কিন্তু ইতোমধ্যেই এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখানে জামায়াতে ইসলামীই মূলত ইসলামভিত্তিক মূল রাজনৈতিক দল। এছাড়া আরো বহু উগ্রপন্থী দল আছে যাদেরও জনসমর্থন আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এটি এমন একটি ইস্যু যা শেখ হাসিনার প্রতিই জনসমর্থন আরো বাড়াবে। আপনি যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েরই ৩৩শতাংশ করে ভোট আছে। আর বাকিরা হলো অমীমাংসিত বা ভাসমান ভোটার। এ ভাসমান ভোটারদের একটা ছোট অংশ ইসলামী দলগুলোর। যা প্রায় ৮-৯ শতাংশ। প্রতি নির্বাচনেই বাকি ২৫ শতাংশ ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতা নির্ধারিত হয়। এ ভোটারদের অধিকাংশই তরুণ, যারা একটা স্থায়ী ও শক্তিশালী অর্থনীতি চায়। বাংলাদেশে সেক্যুলার রাষ্ট্র চাওয়ার লোক দিন দিন বাড়ছে। এদের অধিকাংশই কিন্তু মুসলিম। ধর্ম নিয়ে দেশে কোন ধরনের বাণিজ্য, রাজনীতি বা রেশা-রেশি হোক, তারা তা চয় না। তারা এমন একটা দেশ চায়, যেখানে সবাই শান্তিতে একসাথে বসবাস করতে পারবে।

প্রশ্ন: ভারতের পূর্ব এশীয়-নীতির উপর কতটা প্রভাব ফেলবে এটা?

বিনা সিক্রি: কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের সাহায্য খুবই জরুরি। দক্ষিণ পূর্ব অংশেও অবস্থাও ভালো নয়। তাই ভারত যদি তাদের এসব এলাকায় উন্নতি করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে হবে, সেখানে পণ্য উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে, সেসব পণ্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে। সুতরাং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সাহায্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা খুবই স্পষ্ট।

প্রশ্ন: গতবছরই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের মীমাংসা হয়েছিলো। এ বছর সীমান্ত বিল পাশ হলো। এ দুটি ইস্যু কি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ নিরসনের মানদণ্ড হতে পারে?

বিনা সিক্রি: অবশ্যই। বিশেষ করে পাকিস্তানে, সেখানকার মানুষ মনে করে, পাকিস্তানের সাথে বিরোধের মীমাংসা ভারত কখনোই করবে না। সেখানের মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ভারত প্রতিবেশীর সাথে জমিয়ে রাখতে পছন্দ করে। কিন্তু এখন তাদের মনোভাবে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এখন চোখ পাকিস্তানের দিকে।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে