Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৫ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.4/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১৪-২০১৫

“লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি”

দেলোয়ার হাসেন


“লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি”

ঢাকা, ১৪ মে- ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ‘ওয়ান সাইডেড’ আম্পায়ারিং। মুস্তাফা কামালের কড়া প্রতিবাদ, আইসিসিকে নিয়ে কটাক্ষ, পদত্যাগ, বিসিবির লিখিত অভিযোগ.. ইত্যাদি। যেগুলো ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু হয়নি। কারণ আইসিসি সভাপতি শ্রীনিবাসনের সঙ্গে ততোদিনে ভারতীয় বোর্ডের সম্পর্কটা উঞ্চ থাকেনি, রীতিমত বরফ হয়ে গেছে। শ্রীনি যথেষ্ঠ চাপ দিয়েছেন বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে। কিন্তু বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে শ্রীনির কথা কানে তুলেননি জগমোহন ডালমিয়া।

স্বীকার করে নিতে হয়, ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে ভারত। দেশটি হচ্ছে ক্রিকেট বানিজ্যের দেশ। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য তাই যে কোনো দলই মুখিয়ে থাকে। ভারত সিরিজ মানেই বাড়তি অর্থের নিশ্চয়তা। সঙ্গতকারণে বাংলাদেশও চায়নি সিরিজটা হাতছাড়া হোক। বিসিবির দূতিয়ালিতে এবং ভারতীয় বোর্ডে জগমোহন ডালমিয়ার মতো বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম সভাপতি থাকায় সিরিজে কাল বৈশেখী মেঘ জমা হতে পারেনি।

১২ এপ্রিল মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হক পাপন রাখলেন জালাময়ী বক্তৃতা। ভারতের কাছে আম্পায়ারিংয়ের কারণেই বাংলাদেশকে হারতে হয় , সেটা অরেকবার বলতে চাইলেন ,‘ টাইগাররা মাঠেও যে পারে তা এবার বিশ্ব দেখবে। পাকিস্তান আসছে। এরপর একে একে আসবে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা। আমারা মাঠেই জবাব দিব।’ মানে আগত দলগুলোকে দোখিয়ে দেওয়ার হুশিয়ারি ছিল তার কথায়।

পাপন অবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তার এই বক্তৃতা পুরোপুরি বাস্তব সম্মত মনে হয়নি তখন। কিন্তু পাকিস্তান যখন হোয়াইটি ওয়াশ হয়ে বসলো, তখন ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্টের সেই আবেগতাড়িত বক্তব্যই সঠিক মনে হলো। ভিতরে ভিতরে বাংলাদেশ যে অনেদ দূর এগিয়েছে, সেটা এই প্রথম পুরোপুরি বিশ্বাস করে নিতে হলো।

নানা কারণে ভারত সিরিজটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল কাণ্ডের কারণে হয়ে ওঠেছে কাঙ্খিতও। পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের মধ্যে ছিল অনেক আনন্দ, অনেক পাওয়া। পরিস্থিতির কারণে ভারতের বিপক্ষে জয় হবে আরও স্বস্তির। আরও আনন্দের। কারণ আমরা যতো উপরে উঠছি, মনে মনে ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছি। ভাবনাটা উচ্চাভিলাসী। কিন্তু মন্দ নয়।

গাঙ্গুলী বলছেন, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ভারতীয় ক্রিকেট বস জগমোহন ডাল মিয়া যিনি বাংলাদেশের উন্নতিতে বিস্মিত, মনে করছেন, বাংলাদেশ ভারত সিরিজ হবে বেশ উপভোগ্য। হ্যাঁ, আমাদেরও তাই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দারুণ জমে ওঠারই তো কথা। কে সিরিজ জিতবে বলা মুশকিল। ভারত কিছুটা এগিয়ে! তবে সিরিজ জেতার মতো অবস্থা আছে বাংলাদেশেরও। সাকিব, মাশরাফি রুবেলরাও বেশ আতা¥বিশ্বাসী। তারা স্বপ্ন দেখছেন, আরেকটা বড় সিরিজ জয়ের। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতার অর্থ হলো- ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ আসলেই বড় দল।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে যেভাবে উড়িয়ে দিয়েছে তাতে ভারত সিরিজ নিয়ে এমন কথা তারা বলতেই পারেন। তা ভারত যতোই শক্তিশালী হোক। বলতে ইচ্ছে করছে, ভারতকে হারানোর এই তো সময়। পাকিস্তানকে নিয়ে এই শিরোনামটা ফলে গেছে। এক দুইটা নয়, বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তান গুণে গুণে হেরেছে পাঁচটি ম্যাচ। মিরপুর টেস্ট না জিতলে তাদের ক্রিকেট মর্যাদা খুলোয় উড়তো।

কিন্তু পাকিস্তান আর ভারত যে এক নয়। ভারত তো জবু থবু দল নয়। টেস্টে যাইহোক, সীমিত ওভার ফরমেটে পাকিস্তানের চেয়ে এই মুহুর্তে যোজন যোজন মাইল এগিয়ে ভারত। তারপরেও ভারতকে হরানোর এই তো সময়- ধোনির দলরের ক্ষেত্রেও  এই শিরোমানটা রেখে দিতে ইচ্ছে করছে। মনে হচ্ছে অন্য দল বনে যাওয়া (সীমিত ওভার ক্রিকেটে) এই বাংলাদেশ ভারতকে এবার হারিয়ে দেবে। ওয়ানডে সিরিজটা জিতে ফেলতে পারে টাইগারা। তার জন্য অবশ্য মিরপুর টেস্টের দু:খস্মৃতি পুরোপুরি ভুলে যেতে হবে টাইগারদের।

টেস্টের চেয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। কারণ বাংলাদেশকে যে চ্যাম্পিটয়ন্স ট্রফি খেলতে হবে। পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করে র‌্যাঙ্কিংয়ে আট নাম্বারে উঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার আশা জাগিয়েছে ইতিমধ্যে। তবে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলতে পারবে কিনা তা অনেকটাই পরিস্কার হয়ে যাবে ভারত সিরিজের পর।

ভারতের বিপক্ষে কমপক্ষে ১টি ম্যাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে আরো ১টি ম্যাচ জিততে হবে। মানে দুই দলের বিপক্ষে কমপক্ষে দুইটি ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে। সেটা পারলে বাংলাদেশ চলে যাবে স্বপ্নের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা জটিল দল। ওদের বিপক্ষে জয় সহজ নাও হতে পারে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের জন্য অপেক্ষা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই তো হয়ে যায়।

অবশ্য দুই দলের বিপক্ষে সাকুলে একটা ম্যাচ জিতেও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারে। কিন্তু তখন সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়ে আসবে। সেক্ষেত্রে তাকিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তানের দিকে। আবার ১টি ম্যাচ না জিতেও বাংলাদেশ খেলতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানকে একটি ম্যাচ হারতে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। কিন্তু  বর্তমান জিম্বাবুযের পক্ষে এমন অঘটন ঘটানো অনেকটাই কঠিন।

মানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার দৌড়ে পাকিস্তানের চেয়ে বেশ সুবিধেজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের সবগুলি ম্যাচ এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৪-১ এ জিততে হবে পাকিস্তানকে। তাহলেই কেবল পাকিস্তান খেলতে পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। পাকিস্তান ১টির বেশী ম্যাচ হারলে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বাংলাদেশের। সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন ওয়ানডে ম্যাচ না থাকায় তাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানের দিকে। মোট কথা এই তিন দলের মধ্যে সুবিধেজনক অবস্থায় বাংলাদেশই।

বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়ার উচিৎ ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়। বাস্তবতা বলছে, এটা টাইগারদের জন্য আকাশকুসুমও নয়। তবে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিততে হলে সেরাটা খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এখানকার কন্ডিশন এবং ভারতের কন্ডিশনের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। যে কারণে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা তেমন থাকছে না। এমনিতে দুর্ধর্ষ ব্যাটিং লাইন তাদের। এই ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে বোলিং সাদামামাটা হলে চলবে না। মাশরাফি, রুবেল, সাকিব, সানি, তাসকিনদের উপর অনেক দায়িত্ব। এরা সবাই ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ বোলার। ৫০ ওভার ক্রিকেটে লড়তে জানেন। লড়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে তাদের আরও বেশী আ্যাগ্রেসিভ হতে হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ছাড়া প্রতিটা ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং কথা বলেছে। মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ছাড়া ফর্মে আছেন সবাই। ধারাবাহিক ব্যর্থ রিয়াদের জায়গায় লিটন দাশ বা রনি তালুকদারকে খেলোনা উচিৎ। টিম ম্যানেজমেন্টকে কখনও কখনও ঝুকি নিতে হয়। কিন্তু সেটা কেনো যেন নিতে পারছে না । ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া উচিৎ তাদের। সৌম্য সরকারকে আপাতত সীমিত ওভার দলে রাখা উচিৎ। ৫ দিনের ম্যাচে তাকে ম্যাচুউর মনে হচ্ছে না। টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া দরকার রনি ও লিটন দাশকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় পরিসরে বড় বড় অনেক ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের।

বাংলাদেশের চিন্তা একমাত্র টেস্টে ম্যাচ নিয়ে। ৫ দিনের ক্রিকেটে টাইগাররা এখনও বড় দল হয়ে ওঠেনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রমাণ হয়েছে, এই পেস আক্রমণ দিয়ে টেস্ট খেলা যায়  কিস্তু বড় দলগুলোর সঙ্গে জেতা যায় না। মিরপুর টেস্টে হারার পর অধিনায়ক মশিফিক স্বীকার করে নেন, ‘আমাদের বোলিং ঠিক পেস মানের নয়।’

মাশরাফি, তাসকিন ওয়ানডে বোলার। টেস্টে বাংলাদেশের বোলিং বলতে রুবেল, আল আমিন, শাহাদাৎ, রবিউল। ইনজুরির কারণে ভারত সিরিজে শাহাদাৎকে পাওয়া যাবে না। ইনজুরি কাঁটিয়ে ওঠে রুবেল কতোটা ছন্দ্বে থাকেন প্রশ্ন সেখানেও। সব মিলে পেস আক্রমণ নিয়ে মহা চিন্তায় নির্বাচকরা। আল আমিন মাঝে মধ্যে ভালো করেন। কিন্তু তার মধ্যে ধারাবহিকতা নেই। সাম্প্রতিক ফর্ম ভালো নয় বলে তাকে পাকিস্তানের বিপক্ষে নেওয়া হয়নি।

২০০৯ সালের পর থেকে আর টেস্ট খেলেননি। তারপরেও পেসারদের সংকটকালে সবসময় তাদের পাশেই আছেন মাশরাফি। কিন্তু পেসারদের করুণ অবস্থায় তিনি নিজেই হতাশ। টেস্ট জিততে হলে ২০টি উইকেট নিতে হবে। মানে দুবার অল আউট করতে হবে প্রতিপক্ষকে। কিন্তু বাংলাদেশ দলে সেই রসদ কোথায়? মাশরআফির প্রশ্নও এটা।

ভারতের বিপেক্ষ ২৯ ওয়ানডেতে সাকুল্যে ৩ জয়। ৮ টেস্টের ৭টিতেই হার। বাকিটা ড্র। মানে টেস্টে ভারতের সঙ্গে সাফল্য বলতে ২০০৭ সালে চট্রগ্রাম টেস্ট। চট্রগ্রামে ড্র হলেও ঢাকাতে ইনিংস ব্যবধানে সেবার হেরেছির টাইগাররা। ২০০৯ সিরিজে ভারতের কাছে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। নিশ্চয়ই রেকর্ডে চোখ রাখবেন না মুশফিকুর রহিম। চোখ রাখবেন না ভারত অধিনায়কও। কারণ এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ নয়। এখনকার বাংলাদেশ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে, পাকিস্তানকে হোয়াইটশ করে। মহেন্দ্র সিং ধোনি সেরা দলটা নিয়েই বোধকরি বাংলাদেশ আসবেন। নইলে বড্ড ভুল করে বসবেন। বাংলাদেশ কিন্তু ভারতকে হারানের জন্য তেঁতে রয়েছে।

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে