Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৮-২০১২

সংবাদপত্র বিষয়ক নতুন বিজ্ঞপ্তিঃ পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বপ্নভঙ্গ

দীপক রায়


সংবাদপত্র বিষয়ক নতুন বিজ্ঞপ্তিঃ পশ্চিমবঙ্গবাসীর স্বপ্নভঙ্গ
যারা পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের তথাকথিত অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। যারা জোরের সাথে বলেন, নতুন এই সরকার মা-মাটি-মানুষের সরকার। যারা প্রতিনিয়ত বলে থাকেন নতুন সরকার রাজ্যের মানুষকে দলতন্ত্র থেকে মুক্তি দেবে। সেই নতুন সরকারের এক বছর মেয়াদ পূরন হবার আগেই সরকারের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু কাজ, সিদ্ধান্ত নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠে গেল। না, এই প্রশ্ন বিরোধী বামফ্রন্টের শুধু না। প্রশ্নগুলি তুলেছেন একদা তৃনমূলনেত্রীর কাছের মানুষ হিসাবে পরিচিত বিশিষ্টজনেরাই। প্রশ্ন তুলেছেন তার সরকারের শরিক কংগ্রেসের নেতারাও। প্রশ্ন তুলেছেন বেশিরভাগ সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন মাধ্যম, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ থেকে সাধারন মানুষ সকলেই। আর গত বেশ কয়েকদিনে পথেঘাটে সব জায়গায় তীব্র সমালোচনা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর। যেটা আগামীদিনে বিরোধী দল বামফ্রন্টের পালে নতুন করে বাতাস এনে দিতে বাধ্য।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ মানুষ মেনে নিতে পারেননি। কিছুদিন আগে মূখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কয়েকটি প্রচারমাধ্যমের নাম করে বলেছিলেন, 'আমি হাত জোড় করে বলছি, এইসব চ্যানেল দেখবেন না। সব বাজে চ্যানেল, পচা পেপার।' তবুও সেইসব বিষয়ে এতদিন কেউ বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু ইদানীং মুখ্যমন্ত্রীর বেশ কিছু আচরন ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে সাধারন মানুষ থেকে দলের অন্দরেও। এইসব সিদ্ধান্তের সাম্প্রতিক সংযোজন সংবাদপত্র বিষয়ে।
সম্প্রতি রাজ্যের সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে কোন কোন সংবাদপত্র রাখতে হবে, তার তালিকা সম্বলিত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।  জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচটি বাংলা, একটি হিন্দি এবং দু’টি উর্দু দৈনিকের নামের তালিকা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারে ওই আটটির বাইরে অন্য কোনও সংবাদপত্র কেনা যাবে না। সোজা কথায়, বহুল প্রচারিত অন্যান্য সংবাদপত্র আনন্দবাজার, আজকাল, গণশক্তি, বর্তমান, টেলিগ্রাফ ইত্যাদি আর সরকারী টাকায় কেনা যাবে না।
গত সোমবার প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাঠকদের মধ্যে ‘মুক্ত চিন্তা’র প্রসার ঘটানোর স্বার্থে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের মদতে প্রকাশিত কোনও সংবাদপত্র সরকারি অর্থে কেনা হবে না। অর্থাৎ বাকি সব সংবাদপত্রকেই রাজনৈতিক দল-প্রভাবিত বলে মনে করছে সরকার। ভূ-ভারতে কখনো এই জাতীয় কোন নির্দেশনামা শোনা যায়নি।
আর মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে সংবাদপত্রগুলিকে ‘মুক্ত চিন্তার’ সহায়ক বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বেছে জানিয়েছেন, তার প্রায় সবগুলিই অবশ্য তার তৃনমূল দলের অনুগত বা সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। যেমন ‘সংবাদ প্রতিদিন’ এর সম্পাদক এবং সহযোগী সম্পাদক দু’জনেই তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য। হিন্দি দৈনিক ‘সন্মার্গ’ এর সম্পাদক তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য। উর্দু দৈনিক ‘আখবর-ই-মশরিক’এর সম্পাদক তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য। আর ‘সকালবেলা’ ও ‘আজাদ হিন্দ’ দৈনিক দুটির পরিচালক আবার ‘সংবাদ প্রতিদিনে’র সহযোগী সম্পাদকই সেই গোষ্ঠীর ‘মিডিয়া সি ই ও’। মানে তিনিও তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য। বাকি আর যে তিনটি দৈনিক সরকারের ছাড়পত্র পেয়েছে, ‘খবর ৩৬৫ দিন’, ‘একদিন’ এবং ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ আপাদমস্তক সরকারের অনুগত বলেই পরিচিত। এই নির্দেশের খবর জানাজানি হতেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজনীতিকরা তো বটেই, মুখ খোলেন বিশিষ্ট জনেরাও। সাধারণ ভাবে কেউই সরকারের এই ‘অগণতান্ত্রিক’ মনোভাব সমর্থন করতে পারেননি। মঙ্গলবার বিধানসভায় এ নিয়ে একই সুরে সরব হন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র এবং সরকারি দল কংগ্রেসের বিধায়ক অসিত মিত্র। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে সূর্যবাবু বলেন,
'যাবতীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মূখ্যমন্ত্রী।' কংগ্রেসের অসিত মিত্র বলেন, 'এই ধরনের নির্দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আঘাত হানে।'
বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে পাঠক মহলে। হতচকিত বিভিন্ন সরকারি গ্রন্থাগারের কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ সরকার জানান, 'বাম আমলে গ্রন্থাগারে সিপিএমের দৈনিক মুখপত্র রাখা নিয়ে লিখিত সরকারি নির্দেশ থাকত না। এ বার রাস্তায় নেমে আন্দোলন ছাড়া পথ নেই।' আর যাঁর দফতরের জারি করা নির্দেশ নিয়ে এত আলোড়ন, সেই গ্রন্থাগারমন্ত্রী আব্দুল করিম চৌধুরী আপাততঃ ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁর বা মূখ্যমন্ত্রীর বা অন্য কোন মন্ত্রীর এখনো কোন মতামত জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অপরদিকে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, চিত্রকর শুভাপ্রসন্ন, মানবাধিকার নেতা সুজাত ভদ্র, পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত সহ সমাজের বিশিষ্ট জনেরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই ঘটনার।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে