Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.5/5 (38 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১২-২০১৫

খেলার সময় কী করেন মাশরাফি-সাকিবের মায়েরা

খেলার সময় কী করেন মাশরাফি-সাকিবের মায়েরা

ঢাকা, ১২ মে- খেলা মানেই চাপ-উত্তেজনা, হাসি-কান্নার গল্প। স্নায়ুচাপ কেবল ১১জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মুহূর্তেই সংক্রমিত হয় লক্ষ-কোটি দর্শক-সমর্থকের মধ্যেও। খেলোয়াড়, দর্শকদের বাইরে আরও কিছু মানুষের ভেতর কাজ করে একই টেনশন। খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ হয়তো সরাসরি বা টিভি দেখে অনুধাবন করা যায়। কিন্তু তাঁদের মায়েদের এ সময় কী হয়, কজনই বা জানি। ছেলে যখন মাঠে খেলে, তখন তাঁরা কী করেন? জানতে চেয়েছিলাম দুই সিনিয়র ও দুই তরুণ খেলোয়াড়ের মায়েদের কাছে।

বাংলাদেশ দলে দীর্ঘদিন খেলছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এখন রঙিন পোশাকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। কাজেই ছেলের খেলা নতুন কিছু নয় মাশরাফির মা হামিদা মুর্তজার কাছে। তবে তিনি সাধারণত স্টেডিয়ামে যান না। এমনকি টিভিতেও ছেলের খেলা দেখেন না। বললেন, ‘স্টেডিয়ামে একদমই খেলা দেখতে যাই না। প্রথমবার গিয়েছিলাম, ও যখন অনূর্ধ্ব-১৭ খেলল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। আরেকবার গিয়েছিলাম খুলনায়, কেনিয়ার বিপক্ষে একটা ম্যাচ দেখতে। ওই দুবার ছাড়া সরাসরি কখনো তার খেলা দেখা হয়নি। এমনকি বাসাতেও খুব একটা দেখি না।’

কারণটা ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘আসলে ও চোটে পড়ার পর থেকেই খেলা দেখি না। মনের ভেতর অজানা এক শঙ্কা কাজ করে। খেলা দেখলেই রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যায়! একদম ঠিক থাকতে পারি না। আমার ধারণা, আমি না দেখলেই সে ভালো করবে। দোয়া-দরুদ পড়তে থাকি।’


মাশরাফির বলে যখন ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কা মারেন তখন স্বাভাবিকভাবেই খারাপ লাগলেও অপেক্ষা করেন দারুণ মুহূর্তের, ‘বোলিংয়ে খুব মার খেলে খারাপ তো লাগেই। ভাবি, বিশ্বের কত ভালো বোলারই তা মার খায়। আবার উইকেটও পায়। মাশরাফিও পাবে। উইকেট পাওয়ার সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।’

টেস্টের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মা শিরিন আখতারও খুব একটা মাঠে যান না ছেলের খেলা দেখতে। বললেন, ‘খুব টেনশন কাজ করে...ওর খেলা নিয়মিত দেখি টিভিতেই। মাঠে যেতে ভীষণ ভয় লাগে! শরীরটা কাঁপে। বাসাতেও ভয় লাগে। তখন হাঁটাহাঁটি করি।’ সাকিব যখন উইকেট পান না বা রান করতে পারেন না তখন কেমন লাগে? শিরিন আখতার বললেন, ‘খুব কষ্ট লাগে। ধৈর্য ধরি। আল্লাহর নাম নিতে থাকি।’

বর্তমান সময়ের মাঠ কাঁপানো পেসার তাসকিন আহমদের মা সাবিনা ইয়াসমিনও স্টেডিয়ামে যান না। বললেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই খুব টেনশন কাজ করে। খেলা সাধারণত টিভিতেই দেখি। দোয়া-দরুদ পড়তে থাকি। ও উইকেট পেলে আনন্দে লাফিয়ে উঠি। অনেক সময় আনন্দে চোখে পানিও চলে আসে! আর যখন উইকেট পায় না, ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কা মারে, খুব খারাপ লাগে। মনে হয় হৃদয়ে আঘাত লাগছে। বোলাররা অনেক সময় মার খাবে, স্বাভাবিক। তবুও ভীষণ খারাপ লাগে। দোয়া করতে থাকি, যেন উইকেট পেয়ে যায়। সত্যি একসময় উইকেট পেয়েও যায়।’

এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আরাফাত সানির মা নার্গিস আক্তার। নিয়মিত মাঠে হাজির হন ছেলের খেলা দেখতে, ‘ও খেললে টেনশন কাজ করলেও মাঠে যাই। বোলিংয়ে চার-ছক্কা খেলেও খুব একটা ভাবি না। আমার ধারণা, আমি মাঠে থাকলে ও ভালো খেলবেই। এ কারণে কখনো কখনো মাঠে না গেলে অনেকে বলেন, আপনি আসেননি কেন? আপনি মাঠে থাকলে সানি তো ভালো খেলে!’

১২ মে ২০১৫/০৮:২০পিএম/স্নিগ্ধা/

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে