Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৭-২০১২

জীবনের দু’বার চোখ অবশ্যই দেখাবেন

জীবনের দু’বার চোখ অবশ্যই দেখাবেন

মানুষের দেহের মূল্যবান অঙ্গ চোখ। আর এই চোখ ঠিক রাখতে গেলে প্রাথমিকভাবে একেবারে ছোট থেকেই দরকার সুষম আহার। সাধারণভাবে চোখের কোনো অসুখ না থাকলেও আমরা চক্ষু চিকিৎসকরা বলি— নারী পুরুষ নির্বিশেষে জীবনের দুটো বয়সে চোখ দেখিয়ে নিতে। একেবারে শিশুরা যখন ‘অ আ ক খ’ পড়তে শেখে তখন একবার চোখ দেখিয়ে নেয়া দরকার আর ৪০বছর বয়সে আরো একবার চোখ দেখানো উচিত। শিশু বয়সে তার দেখতে পাওয়া না পাওয়া কোনোটাই সে বলতে পারে না। তখন তার চোখে কোনো সমস্যা আছে কিনা তা একমাত্র চিকিৎসকরাই বোঝেন।

কোনো সমস্যা থাকলে তার মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর ৪০ বছরের পর ‘চালসে’ হয়। অর্থাৎ কাছের জিনিস বা দূরের জিনিস না দেখতে পাওয়া বা চোখের অন্য কোনো সমস্যা হলো কিনা, হয়ে থাকলে তার চিকিৎসা শুরু করা। এই সময় থেকেই সাধারণভাবে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা শুরু হয়। যেমন ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, অ্যাজমা, সি ও পি ডি এবং শারীরিক অন্যান্য সমস্যা। এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত চোখ। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ছানির সমস্যা বা চোখের অন্য সমস্যার বেশির ভাগ ক্ষেষেত্রেই ডায়াবেটিস বা জীবনধারণজনিত রোগের কারণেই হয়। চোখ ভালো রাখতে গেলে সেগুলি থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

তার জন্যই দরকার সুষম পুষ্টিকর খাবার। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দিনের যে কোনো সময় ব্যায়াম করা বা হাঁটা। প্রচুর পরিমাণে সবুজ সবজি খাওয়া। এ তো গেল সাধারণভাবে চোখ ভালো রাখার উপায়।

চোখের সাধারণ কিছু রোগের কথা বলি। প্রথমেই গ্রামগঞ্জের কৃষকদের কথা। আমাদের কাছে অনেক সময় বেশ কিছু রোগী আসেন যারা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। বিশেষত ধান ঝাড়ার সময়, পাট কাটার সময় বা রোঁয়া বোনার সময় তারা আসেন। দেখা যায় তাদের ওই সময় ধান বা পাটের ফেঁসো বা অন্য কোনো জিনিস চোখে পড়লে প্রাথমিক ভাবে ওটা ফেলে দিলেও দেখা গেল চোখ লাল হয়ে গেছে বা একটু করকর করছে। তারা সেটা সাধারণভাবে অবজ্ঞা করেন। অথবা কোনো ওষুধের দোকানে গিয়ে তাদের পরামর্শ মতো কোনো ওষুধ দিয়ে আপাতত চুপ করে যাওয়া। ক্ষতি হয়ে যায় তখনই। এর ফলে কর্নিয়ায় মারাত্মক ক্ষতি হয়। এরকম কোনো কিছু হলে অতি অবশ্যই চোখের চিকিৎসককে দেখিয়ে নেয়া উচিত।
 
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খেলাধুলো করতে গিয়ে নানা রকম চোখের ক্ষতি হয়। সেক্ষেত্রে কোনো সরু ধারালো জিনিস বা খেলনা হাতে না দেওয়াই ভালো। তাদেরও কোনো কিছু হলে অন্য কোথাও না গিয়ে অবিলম্বে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও, যদি সম্ভব হয় চিকিৎসককে দেখিয়ে কোনো পাওয়ার ছাড়া চশমা পরতে পারলে ভালো হয়।

ছানি, গ্লকোমা, রেটিনাল ডিটাচমেন্ট সম্পর্কেও জেনে রাখা ভালো। এখন মূলত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যারা, তাদের ক্ষেত্রেই ছানি হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়াও যারা বেশি রোদে ঘোরাঘুরি করেন, কম্পিউটারের সামনে বেশিক্ষণ কাজ করেন তাদেরও ছানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গ্লকোমার সম্ভাবনা থেকেই যায় যদি পারিবারিক ইতিহাসে তা থেকে থাকে।

 

তাছাড়াও উপরিউক্ত কারণগুলি তো থেকেই যাচ্ছে। চিকিৎসককে দেখানোর সময় সবসময় পারিবারিক ইতিহাসে গ্লকোমা কারোর আছে কিনা তা জানিয়ে দেয়া উচিত। তাতে চিকিৎসা করতে সুবিধা হয়। রেটিনাল ডিটাচমেন্ট একেবারেই ‘জেনেটিক’ রোগ। তবে সাধারণভাবে বোঝার জন্য বলি, চোখে কালো কালো বিন্দু দেখলে, চোখে বিদ্যুৎ চমকের মতো আলো দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। এতে চোখের মধ্যে হয়ে যাওয়া ফুটোটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

তবে সাধারণভাবে চোখ ভাল রাখার জন্য সুষম খাওয়ার খাওয়া বা নিয়মিত ব্যায়াম করা বা শাকসবজি খাওয়া ছাড়াও হাত ধুয়ে পরিষ্কার জলে দিনে বেশ কয়েকবার চোখে ঝাপটা দিয়ে চোখ ধোয়া, ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচতে কালো চশমা বা রোদ চশমা পরা যায়। সেটা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভালো চশমা নেয়া উচিত।

 

এছাড়াও যাদের একটু ‌ঠাণ্ডা লাগার ধাত আছে তাঁদের ঋতু পরিবর্তনের সময় একটু সাবধানে চলাফেরা করা, পুকুরের জলে স্নান না করে কলের জলে স্নান বা বহমান জলে স্নান করা উচিত। এগুলি করলেই সাধারণভাবে চোখ ভালো রাখা যায়। শেষে একটাই কথা— মানুষের জীবনে চোখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করে মানুষের মাঝে অমর হয়ে থাকুন।

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে