Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (39 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৬-২০১২

‘ইতিহাসের অংশ হতে পেরে গর্বিত’

‘ইতিহাসের অংশ হতে পেরে গর্বিত’
ঢাকা, মার্চ ২৬- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননা গ্রহণ করতে আসা বিদেশিরা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হতে পেরে তারা গর্বিত।

সোমবার বিদেশি বন্ধুদের সম্মানে হোটেল রূপসী বাংলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক মধ্যাহ্ন ভোজে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বাঙালিদেরও সম্মান জানানো উচিত।”

“১৯৭১-এর ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ উপেক্ষা করে আমরা কয়েকজন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে থেকে গেলাম। ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম।”

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাদের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলে পড়ার সময় ঢাকায় ছিলেন বৃটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিনিধি সাইমন। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত তার ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভল্ট ইন পাকিস্তান’ প্রতিবেদনটি ছিল পাকিস্তানিদের গণহত্যা শুরু বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় প্রথম প্রতিবেদন।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন তার বিখ্যাত ভাষণ দেন তখন আমি রমনা রেসকোর্স ময়দানে ছিলাম এবং আমি তার একটি কথা বুঝতে পারি- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

“যখন আমি এই কথা শুনেছিলাম তখনই আমি বুঝেছিলাম তিনি কী বলছেন।”

একজন ফরাসি ফটো সাংবাদিক তার সঙ্গে ছিলেন যিনি পরবর্তীতে ভিয়েতনামে মারা যান- এ কথা উল্লেখ করে সাইমন বলেন, তাকেও বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃতি জানানো উচিত।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা দিতে ১৩২ জন বিদেশি নাগরিকের যে তালিকা স¤প্রতি মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে তাদের ১১০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ৭৫ জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে এ সম্মাননা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা নেবেন।

সম্মাননা গ্রহণ করতে ঢাকায় আসা বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু অধ্যাপক তোশিওশি নারা বলেন, “আমি অর্ধেক বাংলাদেশি, অর্ধেক জাপানি।”

“একজন ভাষা শিক্ষক হিসেবে ১৯৭৪ সালে এসে এখানে আমি দুই বছর ছিলাম এবং ২০ বার বাংলাদেশে এসেছি,” শুদ্ধ বাংলায় বলেন তিনি।

“আমি যখনই এসেছি তখনই আপনাদের কাছ থেকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছি।”

“একাত্তরে আমাদের সঙ্গে অনেকে ছিল এবং তাদের কয়েকজন মারা গেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আমি এ সম্মাননা গ্রহণ করছি।”

বাংলাদেশ উন্নতি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।

ত্রিপুরার মহারানী বিভু কুমারী দেবী বলেন, “আমি মনে করছি, আমরা এই পরিবারের অংশ।”

সম্মাননার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে আবারো বাংলাদেশের বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের থাকার জন্য নিজের প্রাসাদ খুলে দেওয়া এই মহারানী বলেন, “আমরা পাকিস্তানের নৃশংসতা দেখেছিলাম যা বাংলাদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং ৭০ লাখ মানুষ সীমানা পাড়ি দিয়েছিল যে সংখ্যা ত্রিপুরার মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল।”

ডেনমার্কের ড. কার্স্টেন ওয়েস্টারগার্ড বলেন, “আমি প্রথম কখন বাংলাদেশে এসেছিলাম তা কেউ জানতে চাইলে আমি বলি, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ।”

“১৯৭১ সালের মার্চে আমি এখানে ছিলাম এবং ইন্টারকন হোটেল থেকে দেখেছিলাম ঢাকা জ্বলছিল।”

“২৫ ও ২৬ মার্চ ভয়ানক বোমা হামলার শব্দ শুনেছিলাম।”

“কোপেনহেগেনে ফিরে গিয়ে আমি প্রচারণা শুরু করেছিলাম এবং অ্যাকশন বাংলাদেশ গঠন করেছিলাম। সংবাদ মাধ্যম খুব ইতিবাচক থাকায় আমরা অনেক সুবিধা পেয়েছিলাম।”

যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড ওয়েইজব্রড বলেন, “ঢাকার বিভিষীকাময় ঘটনাগুলো যখন দেখেছিলাম তখন আমি øাতকের ছাত্র।”

“আমি ঢাকায় কলেরা গবেষণা ইনস্টিটিউটে কাজ করছিলাম।”

“আমরা যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলাম।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে