Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (31 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২৯-২০১৫

ইশ্‌, শেষ বলটা যদি না হতো!

রানা আব্বাস


ইশ্‌, শেষ বলটা যদি না হতো!

খুলনা, ২৯ এপ্রিল- জুনায়েদ খানের শর্ট বলটা ডাক করতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। দুম করে লাগল হেলমেটে। আগ্রাসী চেহারায় মুমিনুলের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালেন জুনায়েদ! যার অর্থ হতে পারে, ‘কী অবস্থা?’ অথবা ‘ঠিক আছ তো?’ মুমিনুল কোনো উত্তর দেননি। উত্তরটা দিলেন ব্যাটে। পরের বলে চোখ জুড়োনো এক কাটে বাউন্ডারি!

জাতীয় দলের সঙ্গে আছেন। কিন্তু একাদশে খুব একটা সুযোগ পাচ্ছিলেন না মুমিনুল। সর্বশেষ খেলেছেন বিশ্বকাপে, এমসিজিতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এমনিতে বাংলাদেশ টেস্ট খেলে কম। খুলনায় যেমন টেস্ট হচ্ছে পাঁচ মাস পর। ওয়ানডে দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়াটা টেস্টে তাঁর জন্য কি চাপ হয়ে উঠবে?

কোথায় চাপ? চাপ-টাপ পাশে সরিয়ে টেস্টে ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা মুমিনুল আজও দেখালেন নিজের ‘ক্লাস’। খেললেন ৮০ রানের ইনিংস। ফিরলেন জুলফিকার বাবরের বলে এলবিডব্লু হয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম—বাংলাদেশের নিয়মিত দুটি ভেন্যুতেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন। খুলনায় সেঞ্চুরির দারুণ সুযোগ প্রথম ইনিংসে হাতছাড়া হলো। তবে তাঁর ৮০, ইমরুলের ৫১ ও মাহমুদউল্লাহর ৪৯ রানের সৌজন্যে বাংলাদেশ প্রথম দিন শেষ করেছে ৪ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে। ১৯ রানে অপরাজিত সাকিব আল হাসান।
এর আগে যতবার ৭০-এর ঘরে গেছেন, সেঞ্চুরি করেই থেমেছেন। আজই প্রথম মুমিনুল আউট হলেন ৮০-এর ঘরে। তবে আজ যা করেছেন তাতেও রেকর্ড বইয়ের নতুন অধ্যায়ে নিজের নাম তুলতে যথেষ্ট! কমপক্ষে ফিফটি পেয়েছেন আগের নয় টেস্টেও। ১০ টেস্টে পঞ্চাশের বেশি ইনিংস খেলার রেকর্ডের খাতায় নাম লেখালেন এ বাহাঁতি। যে রেকর্ডটি আছে শচীন টেন্ডুলকার ও জন এডরিচের।

সকাল থেকেই মেঘ-সূর্যের দারুণ ‘লড়াই’ হলো। আকাশে কখনো মেঘের আধিপত্য, কখনো বা সূর্যের। একবার তো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হলো। তবে তা খেলা থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। দিন শেষে সূর্যেরই আধিপত্য। খুলনা টেস্টেও প্রথম দিনে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের লড়াইটা এমনই হলো।

কখনো বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল পাকিস্তান। প্রথম সেশনে রান উঠল ৬০, ওভার প্রতি ২ করে, উইকেট হারাল একটি। লাঞ্চের মাত্র তিন ওভার আগে ২৫ করে ফিরছেন তামিম। আবার সে চাপ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ জবাব দিল দারুণভাবে। দ্বিতীয় সেশনে ৯০ রান, ওভারপ্রতি ৩.১০ করে, উইকেট গেল ১টি, এবার ইমরুল। শেষ সেশনে রান উঠেছে ৮৬, উইকেট পতন দুটি। ওয়ানডে সিরিজে অনুজ্জ্বল মাহমুদউল্লাহ ক্ষণে ক্ষণেই বিশ্বকাপের ফর্মটাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। মুমিনুলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৯৫ রানের জুটিও গড়েছেন। ফিরলেন ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হয়ে।

সারা দিনে পাকিস্তানের পেসাররা এই একটা উইকেটই পেয়েছে। বাকি তিনটা উইকেটই স্পিনারদের। তবুও ৮০ ওভার পরেই নতুন বল নিল পাকিস্তান। আজ মিসবাহর দল দুটো হাস্যকর রিভিউও নিয়েছে।

রিভিউ মুমিনুলও নিয়েছিলেন। একেবারে নিশ্চিত আউট জেনেও। রিভিউ নিয়ে লাভ হবে না জেনেও। ১৩ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরি থেকে যে মাত্র ২০ রান দূরে ছিলেন। বাবরের বলটাও রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছিলেন। কিন্তু ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বল লাগল প্যাডে। সেটি ৮৯.৫ ওভার। দিনের বল বাকি ছিল মাত্র আর একটিই!
মুমিনুলের আউটটাই হয়ে গেল দিনের শেষ বল। টাইম মেশিন থাকলে হয়তো অতীতে ফিরে যাওয়ার একটা চেষ্টা করতেন অভিষেকের পর থেকেই টেস্টে ‘সৌরভ’ ছড়ানো এই বাঁহাতি। একটা আক্ষেপও হয়তো হচ্ছে তাঁর—ইশ্‌, শেষ বলটা যদি ও রকম না হতো!

২৯ এপ্রিল ২০১৫/০১:০৫এএম/স্নিগ্ধা/

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে