Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ , ৪ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৫-২০১২

দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে 'বাচ্চু রাজাকারের' বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন

আনিস রহমান


দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে 'বাচ্চু রাজাকারের' বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে গ্রেফতারে প্রসিকিউশনের আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। তবে ২ এপ্রিলের মধ্যে আবুল কালাম আজাদের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন। ওই দিন গতকাল করা গ্রেফতারের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজাদ ইসলামী ছাত্রসংঘ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা। মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যক্রম গতকাল শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন জানায়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির, বিচারপতি ওবায়দুল হোসেন ও বিচারক মোহাম্মদ শাহীনুর ইসলাম এই নবগঠিত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী জানান, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন তদন্তের জন্য আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে গ্রেফতার করা দরকার। ২২ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল চালুর প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও বাচ্চু রাজাকারকে গ্রেফতারের আবেদনের মধ্য দিয়ে গতকালই এর যাত্রা শুরু হলো। চিফ প্রসিকিউটরের পরামর্শে প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান গতকাল আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতারের আবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। আজাদ ওরফে বাচ্চু বর্তমানে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে বসবাস করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যত অভিযোগ : প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে উল্লেখ করেন, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। একই অভিযোগে মুজাহিদকে এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। প্রসিকিউটর বলেন, বাচ্চু রাজাকার সরাসরি হত্যাকারী। ১৯৭১ সালে তিনি নিজ হাতে গুলি করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছেন। ফরিদপুর শহরে ১২০০ বধ্যভূমিতে যে হাজার হাজার মানুষ শায়িত আছেন, তাদের হত্যার নির্দেশদাতা এবং নিজে সরাসরি হত্যাকারী আবুল কালাম আজাদ। হত্যার পর তিনি ফরিদপুর স্টেডিয়ামে মাটিচাপা দিয়েছেন, নদীতে ফেলে দিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা দিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে নিজে লোকজনকে ধরে আনতেন আবার অন্যদের দিয়েও ধরিয়ে আনাতেন। সৈয়দ হায়দার বলেন, বাচ্চু রাজাকার জামায়াতের আরেক নেতা মুজাহিদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এসব হত্যাযজ্ঞ চালান। আবুল কালাম আজাদ সে সময় মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। আর এ কারণে তিনি ভালো উর্দু বলতে পারতেন। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে দেখা করে ওই এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। স্টেডিয়াম ও সার্কিট হাউসে অবস্থানরত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তোলেন তিনি।

প্রসিকিউটর বলেন, ওই সময় ফরিদপুর শহর, বোয়ালমারী, নগরকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছেন বাচ্চু রাজাকার। মুক্তিকামী মানুষ, আওয়ামী নেতা-কর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধরে এনে তিনি গুলি করেছেন। অনেকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছেন। লুটপাট করেছেন। ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল তিনি ফরিদপুর পুলিশ লাইনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেন। ফরিদপুরে জসীম উদ্দিন রোডে তিনি রাজাকার ক্যাম্প ও নির্যাতন সেল স্থাপন করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে