Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৫-২০১২

বহু শতাব্দীর আক্রান্ত স্বাধীনতা নিয়ে কিছু কথা

আবদুল গাফফার চৌধুরী


বহু শতাব্দীর আক্রান্ত স্বাধীনতা নিয়ে কিছু কথা
আজ ছাব্বিশে মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ভারত বা পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস নয়। স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তানের জš§ পঁয়ষট্টি বছর আগে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মএকচল্লিশ বছর আগে। বয়সের ব্যবধান চব্বিশ বছর। অর্থাৎ দুই যুগ। ভারত ও পাকিস্তান জন্মসূত্রে যমজ ভাই। যদিও জন্মলগ্ন থেকেই কুরু পাণ্ডবের মতো যুদ্ধরত। এই যুদ্ধের মাঝখান থেকে সশস্ত্র সংগ্রাম দ্বারা বাংলাদেশ একটি নতুন নেশন স্টেট হিসেবে বেরিয়ে এসেছে। এই নতুন স্টেটের জাতি পরিচয় বাঙালি। নাগরিক পরিচয় বাংলাদেশী।
অবিভক্ত ব্রিটিশ-ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদয় উপমহাদেশের একশ্রেণীর পণ্ডিতের দাবি যে সঠিক নয়, তা প্রমাণ করেছে। এই দাবি ছিল বহু বৈচিত্র্য ও বৈষম্যের মধ্যেও ভারতবাসীরা এক জাতি। নিখিল ভারত কংগ্রেস এই এক জাতিতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল। ১৯৪৭ সালের ভারত-ভাগ তাদের এই বিশ্বাস ভেঙে দেয়। অন্যদিকে অবিভক্ত ভারতের আরেক দল পণ্ডিত (মুসলমান) দাবি করেছিলেন, সাবেক ভারতে প্রধান দুই জাতির বাস। হিন্দু এবং মুসলমান। এই ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রে ভারত বিভক্ত হওয়া প্রয়োজন।
১৯৪৭ সালে এই দাবির ভিত্তিতেই ভারত ভাগ করা হয়েছিল। দেখা গেল, এই ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্ব আরও ভ্রান্ত। ভারত রাষ্ট্রে যেমন জাতি সমস্যা দেখা দিয়েছে; তামিল, শিখ, নাগা, গারো, গূর্খা, অসমীয়া প্রভৃতি জাতি-উপজাতিগুলো তাদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধিকার চায়; তেমনি পাকিস্তানেও বাঙালি, সিন্ধী, পাঠান, বালুচ ইত্যাদি জাতি ও জাতিসংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যের দাবি উচ্চারিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা যে জাতি গঠন করা যায় না, এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় ১৯৭১ সালে। যে বাঙালি মুসলমানরা ১৯৪০ সালে বাঙালি নেতা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলেছিল, সেই বাঙালি মুসলমানরা (হিন্দু, বৌদ্ধ, উপজাতিসহ) আরেক বাঙালি নেতা শেখ মুজিবুর রহমনের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ২৪ বছর পর সেই পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
বিদেশী পণ্ডিতদের কেউ কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ বলে বর্ণনা করেন। আসলে এটা গৃহযুদ্ধ ছিল না, ছিল একটি জাতিরাষ্ট্রের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। জাতি পরিচয় সম্পর্কে একটা বড় ধরনের ভ্রান্তি থেকে অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন জাতিসত্তাভুক্ত মুসলমানরা ধর্মকে জাতীয়তার ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে পাকিস্তান নামে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছিল। তাদের এই ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি। পাকিস্তানের জাতিগুলোর মধ্যে পাঞ্জাবিরা ব্রিটিশরাজের সেনাবাহিনীতে অনুগত সদস্য থাকায় বেশি সামরিক বিদ্যা ও অস্ত্রের অধিকারী ছিল। পাকিস্তানে তারা অন্যান্য জাতিসত্তার অধিকার অস্বীকার করে অস্ত্রের জোরে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। গণতন্ত্রের বদলে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা পায় সামরিক শাসন।
এই পাঞ্জাবি সামরিক শাসনের নিগড় ভেঙেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি ধর্মীয় জাতীয়তা নয়, এই ভিত্তি সেক্যুলারিজম। সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তা। পাকিস্তানে কিছুটা উদার ধর্মীয় জাতীয়তা এখন উগ্র তালেবানি জাতীয়তায় পরিণত হওয়ার ফলে বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান এখন বিদ্রোহী। তাদের দমনের জন্য চলছে নির্মম বোমাবর্ষণ।
অন্যদিকে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পূর্ব ভারতে কিছু পার্বত্য জাতিসত্তার স্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি এবং মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুনাচল, মেঘালয় ইত্যাদি নামে স্বতন্ত্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি এই জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে এখনও জাগ্রত। স্বাধীন অসম রাষ্ট্রের দাবিদার উলফারা এখনও তৎপর এবং ভারত কর্তৃক বলপূর্বক দখল করা কাশ্মীরিরা তাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম এখনও অব্যাহত রেখেছে। এদিক থেকে বলা যায়, উপমহাদেশের জাতি সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি। মিশ্র জাতিসত্তা ও তাদের স্বাতন্ত্র্য ও অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে ভবিষ্যতে উপমহাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন না হলে ইউরোপের মতো এই উপমহাদেশেও ‘বলকানাইজেশন’ শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশের অভ্যুদয় এদিক থেকে ছিল একটি শুভ সূচনা। ভারত অনেকটাই সেক্যুলার রাষ্ট্র হলেও তাতে মহাÍা গান্ধীর ‘রামরাজত্বের’ রাজনৈতিক দর্শন শেষ পর্যন্ত বিজেপির হিন্দুত্ববাদে পরিণত হয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। অন্যদিকে জিন্নাহর আধুনিক মুসলিম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন উগ্র শরিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়ায় উপমহাদেশে ‘ওয়েসিস ইন ডেজার্টের’ মতো সেক্যুলার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অভ্যুদয় শুধু উপমহাদেশে নয়, সারা দক্ষিণ এশিয়াতেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ খুলে দেবে মনে করা হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল সারা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার পথপ্রদর্শক।
দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ভিত্তিটি রক্ষা করা যায়নি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রচণ্ড হামলা নেমে আসে দেশটির গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের ওপর। এই হামলার ব্যাপারে নব্য বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও মধ্যযুগীয় মৌলবাদের মধ্যে বিস্ময়কর আঁতাত গঠিত হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য ছিল সেক্যুলারিজম ও সোস্যালিজমের ভিত্তিতে বাংলাদেশের যে নতুন রাষ্ট্রীয় ভিত্তি গঠিত হতে যাচ্ছে তাকে ধ্বংস করা এবং এই ধ্বংস করার কাজে দেশটির ভেতরকার প্রতি বিপ্লবী ও পশ্চাৎমুখী মৌলবাদকে সহায়তা করা। অন্যদিকে এই প্রতিবিপ্লবীদের লক্ষ্য ছিল সামাজ্যবাদীদের সহায়তায় বাংলাদেশকে আবার ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বে ফিরিয়ে নিয়ে মিনি পাকিস্তানে পরিণত করাÑ যা শেষ পর্যন্ত শরিয়া রাষ্ট্রের দিকে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশকেও ঠেলে নিয়ে যাবে। এ লক্ষ্যেই বন্দুকের জোরে যেমন দেশটির সেক্যুলার সংবিধানের মর্যাদা নষ্ট করা হয়, তেমনি সেক্যুলার বাঙালি জাতীয়তাকে ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশী নাগরিক পরিচয়কে জাতি পরিচয়ে রূপান্তর করার চেষ্টা করা হয়। এই বাংলাদেশী জাতি পরিচয় আসলে পাকিস্তান ধর্মীয় পরিচয়ের নকল সংস্করণ।
ফলে ১৯৭৫ সালের ন্যাশনাল ট্রাজেডির পর থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়, তা অনেকটা নকল প্রতিমা পূজার মতো। ওই প্রতিমার মধ্যে স্বাধীনতার মৌলদর্শনটির অস্তিত্ব মৃতপ্রায়। বিপুল বৈরী পরিবেশে দু-দু’বার ক্ষমতায় এসেও স্বাধীনতার এই আসল প্রাণসত্তা ও মূল্যবোধকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকারও। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের দুর্বল নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে ধর্মান্ধতা ও ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করার বদলে সমঝোতা ও আপসের নীতি অনুসরণ দ্বারা প্রশ্রয় দিয়েছে। বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসেও দেখা গেছে, সবল নেতৃত্ববিহীন গণতন্ত্র নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষমতা দেখায় এবং গণবিরোধী শক্তিকে উত্থানের পথ প্রস্তুত করে দেয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে জার্মানির গণতান্ত্রিক হিন্ডেনবার্গ সরকার এবং ইতালির ভিক্টর ইমানুয়েল সরকারের দুর্বলতা ও অক্ষমতা হিটলার ও মুসোলিনীর অভ্যুত্থানকে সহজ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও এলিট ক্লাস এবং নিরপেক্ষতার মুখোশধারী মিডিয়া দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগের জার্মানি ও ইতালির সমশ্রেণীগুলোর একই ভূমিকা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল দর্শন তাই অস্বীকৃত এবং তার জাতীয়তার পরিচয়ও বিতর্কিত। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস গতানুগতিকভাবে প্রতি বছর পালিত হয়। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়, জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। কিন্তু তাতে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের কোন অনুপ্রেরণা যুক্ত হয় না। নেতাদের কণ্ঠে রেটোরিক উচ্চারিত হয়। বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরা ঔপনিবেশিক আমলের প্রথা অনুসরণ করে বিশেষ বিশেষ খেতাব ও পদক পান। এখানেই তামাম শোধ। স্বাধীনতা মানুষের মনে যে বলিষ্ঠ আÍপ্রত্যয় জাগায়, স্বাধীনতা দিবস বাঙালির মনে এখন তা জাগায় না। পারলে বিএনপি ও জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তির মতো দেশটির জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতও পরিবর্তন করে ফেলত। নীরদ সি. চৌধুরীর মতে ‘বাঙালি আÍঘাতী জাতি।’ এই আÍঘাতকেরা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। জাতীয় পরিচয় বদল করেছে। জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। জাতীয় নেতৃত্বকে বিতর্কিত করেছে। জয় বাংলা স্লোগানকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ করেছে। এখন পর্যন্ত কেন যে তারা স্বাধীনতা দিবসকে আজাদী দিবস নামকরণ করেনি, সেটাই আমার কাছে বিস্ময়। করলে আওয়ামী লীগ সরকার হয়তো তাও মেনে নিত।
স্বাধীনতাবিরোধীদের এই সর্বাÍক চক্রান্ত যে সফল হয়নি, তার কারণ হিসেবে কোন কোন গবেষকের ঐতিহাসিক গবেষণার দু-একটি কথা আমার সঠিক বলে মনে হয়। তারা বলেছেন, বাঙালির স্বাধীনতা, এমনকি তার জাতিপরিচয়, সভ্যতা-সংস্কৃতি বহু শতাব্দী ধরে আক্রান্ত স্বাধীনতা এবং আক্রান্ত সভ্যতা-সংস্কৃতি। বাঙালির স্বাধীনতা ব্রাহ্মণ্য, পাঠান, মোগল, ব্রিটিশ, পাকিস্তানি সব যুগেইÑ অর্থাৎ হাজার বছর ধরেই আক্রান্ত। সেই চর্যাপদের যুগ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছে বাঙালিরা। দিল্লিতে হিন্দু, পাঠান, মোগল সব শাসনামলেই বাংলাদেশের ওপর হামলা এসেছে।
বাঙালি বারবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, বারবার তা হারিয়েছে। সেই বারভুঁইয়ার উত্থান থেকে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত। প্রাচীন ব্রাহ্মণ্য শাসক শক্তি বাংলা ভাষাকে আখ্যা দিয়েছিল ‘রৌরব নরকের ভাষা’, আর পাকিস্তানি শাসকরা আখ্যা দিয়েছিল হিন্দুর ভাষা, অনৈস্লামিক ভাষা। অতীতের মতো এখনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রশক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি বিরূপ। পাকিস্তান চায় বাঙালির স্বাধীনতা ও জাতি পরিচয় ধ্বংস করে তাদের অনুকরণে অনুগত সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে ভারত চায়, মিত্রতার নামে প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা। তাই তিস্তা নদী, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশকে এহেন হেনস্থা করা। বাঙালির জাতি-চেতনা তাই অনেক ব্যাপারেই আÍঘাতী হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার প্রশ্নে পেছাতে পেছাতে একটি প্রান্তে এসে হলেও শক্তভাবে দাঁড়ায়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তার প্রমাণ।
একশ্রেণীর ইতিহাসবিদ ও গবেষকের সঙ্গে এ ব্যাপারে সহমত পোষণ না করে পারা যায় না। আর সব বিষয়ে বাঙালি আÍবিস্মৃত জাতি হলেও তার স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি যে বহু শতাব্দী ধরে আক্রান্ত এ বোধটি তাদের মনে আছে। এখনও যে এই স্বাধীনতা আক্রান্ত স্বাধীনতা, স্বাধীনতার সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পরও এই আক্রমণ শেষ হয়নি এ সত্যটি তারা সম্ভবত নিত্য অনুধাবন করছে। তাই স্বাধীনতাবিরোধী মহাশক্তিশালী চক্রগুলোর একটার পর একটা ষড়যন্ত্র এখনও ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়টি অবশ্যই এখন লক্ষ্য করার মতো। সারা উপমহাদেশেই ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদী সন্ত্রাসের একটা ঝড়ো হাওয়া এখন বইছে। তার ধাক্কায় পাকিস্তান এখন আÍঘাতী সন্ত্রাসের গহিন গহ্বরে। ভারতে মনমোহন সিংয়ের দুর্বল গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত নড়ছে। শোনা যায়, রাহুল গান্ধী নয়, ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসবেন গুজরাটের মুসলিম নিধনকারী ঘৃণ্য নরপশু নরেন্দ্রনাথ মোদি (বর্তমানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী)। যদি তা হয়, তাহলে উপমহাদেশে এখনও বাংলাদেশ সেক্যুলারিজমের মরূদ্যান বলা চলে।
বাংলাদেশের বর্তমান হাসিনা সরকার যত দুর্বল ও ব্যর্থ গণতান্ত্রিক সরকার হোক, উপমহাদেশে সেক্যুলারিজমের দুর্গের একটি ভগ্নাবষেশ এখনও তারা পাহারা দিচ্ছে। তারা কখনও আপস করছে, কখনও পিছু হটছে। কিন্তু দেশ থেকে মৌলবাদ উৎখাতে, ’৭১-এর ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে এখনও তারা বদ্ধপরিকর। পাকিস্তানে মধ্যযুগীয় শরিয়াতন্ত্র মাথা তুলেছে। বাংলাদেশে তা পারেনি। সারা উপমহাদেশে সেক্যুলারিজমের নিভু নিভু বাতি যদি শেষ পর্যন্ত মোমের সলতের মতো বাংলাদেশেই এসে আশ্রয় নেয় এবং শেষে একদিন আবার বিরাটভাবে জ্বলে ওঠে, তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। ‘বাংলা আজ যা ভাবে ভারত তা ভাবে আগামীকাল।’ ভারত মানে সারা উপমহাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন আজ যত গতানুগতিক হোক, তার ভিত্তিমূলে সেক্যুলারিজম ও ডেমোক্র্যাসির যে নিভু নিভু শিখা এখনও জ্বলছে, তা যে একদিন আবার প্রচণ্ড শক্তিতে জ্বলে উঠে সারা উপমহাদেশকে আবার আলোকিত ও প্রভাবিত করবে না তা কে বলবে! আক্রান্ত স্বাধীনতার মধ্যেই প্রতিরোধ শক্তি বেশি জন্মায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে তাই এখনও আশাবাদী হয়ে উঠি।
লন্ডন ।। ২৫ মার্চ

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে